Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

উদ্ভিদের শিকড়ের সাহায্যে পানি পরিশোধন

উদ্ভিদ মূলত তার মূলের অগ্রভাগে অবস্থিত মূলরোম (Root hair) অঞ্চলের সাহায্যে মাটি থেকে পানি শোষণ করে। এই প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয় এবং এর পেছনে তিনটি প্রধান ভৌত প্রক্রিয়া কাজ করে: ইমভাইবিশন, ব্যাপন এবং অভিস্রবণ।

নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

১. পানি শোষণে জড়িত প্রধান প্রক্রিয়াগুলো

পানি শোষণের মূল বিজ্ঞান বুঝতে হলে এই তিনটি বিষয় জানা জরুরি:

  • ইমভাইবিশন (Imbibition): উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর এবং প্রোটোপ্লাজম কলয়েডধর্মী (আঠা বা জেলির মতো)। এরা পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। শুকনো কাঠ বা বীজ পানিতে দিলে যেমন ফুলে ওঠে, ঠিক তেমনই কোষপ্রাচীর প্রথমে মাটির কণা থেকে পানি শুষে নেয়।

  • ব্যাপন (Diffusion): মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে কৈশিক পানি (Capillary water) থাকে। ব্যাপন প্রক্রিয়ায় এই পানি মূলরোমের গায়ের সংস্পর্শে আসে।

  • অভিস্রবণ (Osmosis): এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মূলরোমের কোষরস (Cell sap) এর ঘনত্ব মাটির পানির ঘনত্বের চেয়ে বেশি থাকে। ফলে, পানি একটি অর্ধভেদ্য পর্দা (কোষঝিল্লি) ভেদ করে কম ঘনত্বের স্থান (মাটি) থেকে বেশি ঘনত্বের স্থানে (কোষের ভেতর) প্রবেশ করে।


২. পানি শোষণের ধারাবাহিক ধাপসমূহ

মাটি থেকে উদ্ভিদের পরিবহণ টিস্যু (জাইলেম) পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর পথটি নিচের মতো:

১. মূলরোমে প্রবেশ: প্রথমে ইমভাইবিশন ও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পানি কোষপ্রাচীরে আসে। এরপর অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি মূলরোমের কোষের ভেতর প্রবেশ করে। ২. কর্টেক্সে গমন: মূলরোমে পানি ঢোকার ফলে সেখানকার কোষরসের ঘনত্ব কমে যায় (পাতলা হয়)। কিন্তু তার পাশের কোষের ঘনত্ব তখনো বেশি থাকে। তাই পানি মূলরোম থেকে পাশের কোষে (কর্টেক্স) চলে যায়। এভাবে কোষ থেকে কোষে (Cell to cell) পানি এগোতে থাকে। ৩. অন্তঃত্বক ও পরিচক্র: কর্টেক্স পার হয়ে পানি অন্তঃত্বক (Endodermis) ও পরিচক্র (Pericycle) ভেদ করে। ৪. জাইলেমে প্রবেশ: শেষ পর্যন্ত পানি উদ্ভিদের মূলের কেন্দ্রে থাকা জাইলেম (Xylem) বাহিকায় পৌঁছায়।

নোট: জাইলেম হলো উদ্ভিদের পানির পাইপলাইন। একবার পানি জাইলেমে পৌঁছালে, তা ওপরের দিকে (পাতায়) ধাবিত হয়।


৩. পানি শোষণ কত প্রকার?

উদ্ভিদ প্রধানত দুইভাবে পানি শোষণ করে:

শোষণের ধরনবিবরণ
নিষ্ক্রিয় শোষণ (Passive Absorption)প্রস্বেদনের ফলে পাতায় পানির টান সৃষ্টি হয়। এই টানের ফলে মূল দিয়ে পানি আপনা-আপনিই ওপরে উঠে আসে। এতে উদ্ভিদের নিজস্ব শক্তির প্রয়োজন হয় না। এটিই প্রধান পদ্ধতি।
সক্রিয় শোষণ (Active Absorption)যখন প্রস্বেদন কম থাকে, তখন উদ্ভিদ তার নিজস্ব বিপাকীয় শক্তি খরচ করে জোর করে পানি শোষণ করে।

সংক্ষেপে: মাটির কৈশিক পানি → মূলরোম → কর্টেক্স → অন্তঃত্বক → পরিচক্র → জাইলেম ভেসেল → পাতা।


মন্তব্য করুন

ব্লগ