Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:১৩ পূর্বাহ্ণ

মেহমানের মর্যাদা মোঃ মুজিবুর রহমান


মেহমানের মর্যাদা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

আবূ হুরাইরাহ্‌ বলেন—শুনেছি নবীর বাণী,

ঈমানের পরিচয় থাকে আচরণের খানি।

যে আল্লাহ্‌য় বিশ্বাসী, শেষ দিনের আশা যাঁর,

মেহমানকে সম্মান করা—তাঁর ঈমানের ভার।

রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন নয়, রাখে যে অটুট,

আত্মীয়তার বন্ধনেই সমাজ হয় সুদৃঢ়–পুট।

আর যে মুখ খুলে কথা বলে মেপে–ভেবে তাই,

কল্যাণের শব্দ বলে—নইলে নীরবতায় ঠাঁই।

মেহমান এলে দ্বারে—সে বোঝা নয়, সে দান,

রবের পক্ষ থেকে আসে রহমতের আহ্বান।

নিজ হাতে খিদমত করা—ইবাদতেরই রূপ,

এক লোকমা সম্মান হলে খুলে জান্নাতের দুয়ার–চুপ।

দেখো ইব্রাহীম (আঃ)-এর সেই মহিমান্বিত ঘর,

অচেনা মেহমান এলো—তবু হয়নি দের।

তিনি গোপনে গেলেন, আনলেন ভাজা বাছুর,

ভয় নয়—আগে সম্মান, এটাই নবীর নূর।

আল্লাহ্‌ বলেন—সে ছিল সম্মানিত মেহমান,

তাদের খিদমতেই ফুটে উঠল ঈমানের মান।

যে ঘরে মেহমান হাসে, সে ঘর হয় ধন্য,

সে ঘরে নেমে আসে রহমত—অশেষ, অনন্য।

অতএব শেখো হে মানুষ, এই দীনি আদব,

কথায় সংযম, সম্পর্কে মমতা—এটাই তো রব।

মেহমানের সম্মানেই ঈমান হয় জাগ্রত,

চুপ থাকা আর কল্যাণকথা—মুমিনেরই পরিচয় স্পষ্ট।

****

মেহমানের মর্যাদা

ঈমান কেবল অন্তরের দাবি নয়,

কর্মেই তার সাক্ষ্য, আচরণেই পরিচয়।

যে বিশ্বাস আল্লাহে ও শেষ বিচার দিনে,

তার জীবন হয়ে ওঠে আদবের আয়না-খানে।

নবীর বাণী—আলোকের মশাল হাতে,

মানুষকে পথ দেখায় সংসার–সমাজে।

সেই বাণীর সুরে গাঁথা এই কাব্যগাথা,

যেখানে মেহমানেই ফুটে ওঠে ঈমানের কথা।

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) বহন করেন বাণী,

যা যুগে যুগে রাখে ঈমানের মানি।

রাসূল বলেন—শোনো হে মানবজাতি,

বিশ্বাস যদি সত্য হয়, প্রমাণ দাও আচরণে নীতি।

যে আল্লাহে আস্থা রাখে, কিয়ামতে বিশ্বাসী,

সে মেহমানকে সম্মান করে—হৃদয় হয় উদার, উদ্ভাসিত।

সে আত্মীয়তার বন্ধন রাখে শক্ত করে বাঁধা,

কারণ সম্পর্ক ছিন্নে ভাঙে সমাজের শিরা–ধারা।

আর তার জিহ্বা—সংযমের পাহারায়,

কল্যাণ ছাড়া শব্দ তার মুখে না আসে।

ভাল কথা—সদকা, নীরবতা—ঢাল,

এই তিনেই মুমিনের চরিত্র হয় বিশাল।

মেহমান এলে দ্বারে—সে সাধারণ নয়,

সে আসে রবের পক্ষ থেকে, রহমতের পরিচয়।

তার পায়ে পায়ে আসে বরকতের ধারা,

যে ঘরে সম্মান পায়—সে ঘর হয় আলোকভরা।

মেহমান বোঝা নয়, নয় সে অযাচিত দায়,

সে তো পরীক্ষার সুযোগ—ঈমান মাপে যাঁয়।

এক গ্লাস পানি, এক মুঠো ভাত,

কিন্তু নিয়তে যদি থাকে সম্মান—তা হয় আখিরাতের সওগাত।

নিজ হাতে খিদমত করা—গর্বের নয় কাজ,

বরং তা নম্রতার তাজ, ইবাদতের রাজ।

যে ঝুঁকে পড়ে মেহমানের সেবায়,

সে আসলে উচ্চাসনে বসে আল্লাহর দয়ায়।

শোনো সেই কাহিনি—যা কুরআনে লিপিবদ্ধ,

যুগের পর যুগ যে শিক্ষা দেয় অটল, অক্ষয়, অম্লান।

ইব্রাহীম (আঃ)-এর ঘরে এলো কিছু আগন্তুক,

চেনা নয় মুখ—তবু সম্মানে হয়নি চ্যুত।

তিনি প্রশ্ন করলেন না—তোমরা কারা, কেন এলে?

বরং গোপনে গেলেন, উৎকৃষ্ট খাবার আনতে ছুটে গেলেন তৎক্ষণাৎ।

ভাজা বাছুর এনে দিলেন সসম্মানে,

এই তো মেহমানদারি—নবুয়তের মানে।

আল্লাহ্‌ বলেন—তারা ছিল সম্মানিত মেহমান,

আর ইব্রাহীম ছিলেন সম্মানের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তবান।

ভয় নয়, সংশয় নয়—আগে আদব, আগে দয়া,

এই শিক্ষাই আজও মানবতাকে পথ দেখায়।

যে সমাজে মেহমান সম্মানিত,

সে সমাজ হৃদয়ে সমৃদ্ধ, আত্মায় ঐক্যবদ্ধ।

যেখানে দরজা খোলে হাসিমুখে,

সেখানে শত্রুতাও গলে ভালোবাসার সুখে।

আত্মীয়তার বন্ধন, সদালাপের ভাষা,

মেহমানের খিদমত—এই তিনেই সমাজের আশা।

এগুলো হারালে থাকে কেবল দালান আর নাম,

মানুষ থাকে না মানুষ—হয়ে যায় পাথর–নির্জীব প্রাণ।

হে ঈমানদার! নবীর ডাক শোনো আজ,

ঘরে ঘরে ফিরিয়ে আনো সেই হারানো সাজ।

মেহমান এলে বিরক্তি নয়,

বরং বলো—এ যে রবের পাঠানো পরিচয়।

কথা বলো কল্যাণে, নীরব থাকো পাপে,

সম্পর্ক রাখো অটুট—হৃদয়ের তাপে।

তাহলেই তোমার ঈমান হবে জীবন্ত, প্রমাণিত,

আর আখিরাতে তোমার নাম হবে সম্মানিত।

মন্তব্য করুন