Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০৩ অপরাহ্ণ

শৈত্যপ্রবাহ বইছে গ্রাম গঞ্জে


You sai

শৈত্যপ্রবাহ

শীতকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি কমে গেলে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সাধারণত যখন কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে অবস্থান করে, তখন সেটিকে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশে শৈত্যপ্রবাহ মূলত পৌষ ও মাঘ মাসে বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে এর প্রভাব তীব্র হয়।

শৈত্যপ্রবাহের প্রধান কারণ হলো উত্তর দিক থেকে আসা ঠান্ডা ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ। এই সময় সূর্যের আলো কম পাওয়া যায়, কুয়াশার আধিক্য থাকে এবং বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে দিনের বেলাতেও প্রচণ্ড শীত অনুভূত হয়। অনেক সময় কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।

শৈত্যপ্রবাহ মানুষের জীবন ও জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে। শীতজনিত রোগ যেমন—নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ইত্যাদির প্রকোপ বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।

কৃষিক্ষেত্রেও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব গুরুতর। অতিরিক্ত শীতে বোরো ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কুয়াশার কারণে সূর্যালোক কম পাওয়ায় ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, যা কৃষকের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া পশুপালনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

শৈত্যপ্রবাহ মোকাবিলায় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সরকার ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা উচিত। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রচার এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।


শাহেনা আক্তার 

সহকারী শিক্ষক 

ব্রাহ্মণডুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শায়েস্তাগঞ্জ হবিগঞ্জ 

আইসিটি জেলা অ্যাম্বাসেডর হবিগঞ্জ 


মন্তব্য করুন