Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:২২ অপরাহ্ণ

"বিজ্ঞানের উপকথা"- বিজ্ঞানের ইতিহাস, মহা বিজ্ঞানীদের জীবন কাহিনী।।

"বিজ্ঞানের উপকথা"
বলতে সাধারণত বিজ্ঞানের ইতিহাস, মহা বিজ্ঞানীদের জীবন কাহিনী এবং যুগান্তকারী আবিষ্কারের পেছনের চমকপ্রদ গল্পগুলোকে বোঝায়। বিজ্ঞান কেবল নীরস সূত্র বা সমীকরণ নয়, এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য রোমাঞ্চকর ঘটনা।
নিচে বিজ্ঞানের কয়েকটি জনপ্রিয় এবং অনুপ্রেরণামূলক উপকথা বা গল্প তুলে ধরা হলো:
১. আর্কিমিডিস ও 'ইউরেকা':
গ্রীক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসকে রাজা একটি সোনার মুকুটে খাদ আছে কি না তা পরীক্ষার দায়িত্ব দেন। মুকুটটি না ভেঙে এটি পরীক্ষা করা ছিল প্রায় অসম্ভব। একদিন গোসল করার সময় টবে নামতেই তিনি দেখলেন জল উপচে পড়ছে। তিনি বুঝতে পারলেন, কোনো বস্তুকে জলে ডোবালে তা তার আয়তনের সমান জল অপসারণ করে। এই সূত্র খুঁজে পাওয়ার আনন্দে তিনি 'ইউরেকা! ইউরেকা!' (পেয়েছি! পেয়েছি!) বলে রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে শুরু করেছিলেন। 
২. আইজাক নিউটন ও আপেল পড়ার গল্প:
জনশ্রুতি আছে, ১৬৬৬ সালে একটি আপেল গাছ থেকে আপেল মাটিতে পড়তে দেখে নিউটন মহাকর্ষ বলের কথা চিন্তা করতে শুরু করেন। তিনি ভাবলেন, আপেলটি কেন নিচের দিকেই পড়ল, কেন আকাশে উড়ে গেল না? এই সাধারণ জিজ্ঞাসা থেকেই আবিষ্কৃত হয় 'মহাকর্ষ সূত্র'। 
৩. গ্যালিলিও ও পিসার হেলানো মিনার:
তৎকালীন ধারণা ছিল ভারী বস্তু হালকা বস্তুর চেয়ে দ্রুত নিচে পড়ে। গ্যালিলিও পিসার হেলানো মিনারের চূড়া থেকে দুটি ভিন্ন ওজনের গোলক নিচে ফেলে প্রমাণ করেছিলেন যে, বাতাসের বাধা না থাকলে সব বস্তু একই গতিতে মাটিতে পড়ে। এটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। 
৪. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ও পেনিসিলিন:
এটি ছিল একটি 'শুভ দুর্ঘটনা'। ১৯২৮ সালে ফ্লেমিং লক্ষ্য করেন যে, তার ল্যাবরেটরিতে একটি নোংরা পাত্রে ছত্রাক জন্মানোর ফলে আশেপাশের সব ব্যাকটেরিয়া মারা গেছে। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই পৃথিবীর প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক 'পেনিসিলিন' আবিষ্কৃত হয়, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। 
৫. মাদাম কুরি ও তেজস্ক্রিয়তা:
মেরি কুরি এবং তার স্বামী পিয়ের কুরি প্রচণ্ড দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার মধ্যে একটি ভাঙা শেডে বছরের পর বছর কাজ করে 'রেডিয়াম' ও 'পোলোনিয়াম' আবিষ্কার করেন। বিজ্ঞানের প্রতি তার এই ত্যাগ ও নিষ্ঠা আজও বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের অনুপ্রেরণা যোগায়।
বিজ্ঞানের এসব গল্পের গুরুত্ব:
এগুলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসা জাগিয়ে তোলে।

জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলো সহজে বুঝতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞানীদের ধৈর্য, পরিশ্রম এবং সততার শিক্ষা দেয়। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ