Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৫:০৭ অপরাহ্ণ

মহাবিশ্বে প্রায় দুই হাজার বিলিয়ন (২ট্রিলিয়ন) গ্যালাক্সি রয়েছে যা পৃথিবীর সব মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলে গড়ে প্রায় ২৫০টি গ্যালাক্সি পড়ে।

মহাবিশ্বে প্রায় দুই হাজার বিলিয়ন (২ট্রিলিয়ন) গ্যালাক্সি রয়েছে। যদি এগুলো পৃথিবীর সব মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে প্রতিটি শিশু, বৃদ্ধ ও তরুণের ভাগে গড়ে প্রায় ২৫০টি গ্যালাক্সি পড়ে। আর প্রতিটি গ্যালাক্সিতেই রয়েছে শুধু বিলিয়ন নয়, বরং ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন তারকা। বাহ্যত মহাবিশ্ব যেন তারকা ও গ্রহে ভরে আছে, কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো—মহাবিশ্বে এমন কিছু অঞ্চলও আছে যেখানে একেবারেই কিছু নেই—না তারকা, না গ্রহ, না গ্যালাক্সি—শুধু গভীর অন্ধকার।

 

১৯৮১ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে এমনই এক রহস্যময় অঞ্চল আবিষ্কার করেন, যা সম্পূর্ণ ফাঁকা। গ্যালাক্সিতে ভরা মহাবিশ্বের মাঝখানে এই পূর্ণ শূন্যতা বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দেয়। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই অঞ্চলটির নাম Boötes Void। এখানে আলো প্রতিফলিত করার মতো কোনো কঠিন বস্তু না থাকায় অঞ্চলটি চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত—বললে ভুল হবে না, যেন মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ “লোডশেডিং” এখানেই।

 

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্ব যেভাবে সমানভাবে ও নির্দিষ্ট গতিতে প্রসারিত হচ্ছে, সেই হিসাব অনুযায়ী এই অঞ্চলে হাজার হাজার গ্যালাক্সি থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে দূর দূরান্ত পর্যন্ত কিছুই নেই। প্রশ্ন হলো—মহাবিশ্বের পদার্থ এই এলাকায় কেন পৌঁছাতে পারেনি? এটি আজও একটি বড় বৈজ্ঞানিক রহস্য।

 

এই শূন্য অঞ্চলটি এতটাই বিশাল যে, যদি কল্পনা করা যায় এমন একটি মহাকাশযান তৈরি করা হয়েছে যা এক সেকেন্ডে পাকিস্তান থেকে আমেরিকা পৌঁছাতে পারে—যা প্রায় অসম্ভব—এবং সেটি যদি Boötes Void-এর এক প্রান্ত থেকে যাত্রা শুরু করে, তবে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতেও প্রায় ৩০০ ট্রিলিয়ন বছর লেগে যাবে।

 

সাধারণত মহাকাশযানগুলো যখন মহাশূন্যে পাঠানো হয়, তখন তাদের চারপাশে সেন্সর লাগানো থাকে, কারণ মহাশূন্যে জায়গায় জায়গায় উল্কাপিণ্ড ও মহাজাগতিক শিলা রয়েছে, এবং সেন্সর ছাড়া এগুলো সহজেই ধাক্কা লেগে ধ্বংস হতে পারে। কিন্তু যদি পঞ্চাশ হাজার মহাকাশযান কোনো সেন্সর ছাড়াই Boötes Void-এ ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে সেগুলো ট্রিলিয়ন বছর ধরে ভ্রমণ করলেও কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খাবে না—কারণ সেখানে সত্যিই কিছুই নেই।

 

বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, বিগ ব্যাং-এর ঠিক পরেই মহাবিশ্বের প্রসারণ শুরু হয়, যা সব দিকে সমান ছিল, এবং পদার্থও সমানভাবে বণ্টিত হয়েছিল। সেই পদার্থ থেকেই পরবর্তীতে তারকা, গ্রহ ও গ্যালাক্সির জন্ম হয়। কিন্তু ১৯৮১ সালে স্যার রবার্ট কির্শনার যখন Boötes নক্ষত্রমণ্ডলে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে এই বিশাল শূন্য অঞ্চলটি আবিষ্কার করেন, তখন বিজ্ঞানীরা প্রবলভাবে নাড়া খেয়ে যান। হিসাব অনুযায়ী সেখানে অন্তত ১০ থেকে ১২ হাজার গ্যালাক্সি থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেখানে রয়েছে সম্পূর্ণ শূন্যতা।

 

যদিও মহাবিশ্বে আরও কিছু শূন্য অঞ্চল আছে, তবুও এতটা বিশাল ও সম্পূর্ণ ফাঁকা একটি এলাকা আজও মানববুদ্ধির বাইরে—আর সম্ভবত এটিই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য।

 

মন্তব্য করুন