সহকারী শিক্ষক
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:১৮ অপরাহ্ণ
মেঘনা নদীর উৎপত্তি ও এর বর্ণনা।
মেঘনা নদীর উৎপত্তি ভারতের মণিপুর ও নাগাল্যান্ডের লুসাই পাহাড় থেকে আসা বরাক নদী থেকে, যা বাংলাদেশে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে প্রবেশ করে আজমিরীগঞ্জের কাছে মিলিত হয়ে কালনী নাম নেয় এবং ভৈরব বাজারের কাছে পুরনো ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিশে 'মেঘনা' নাম ধারণ করে, যা পদ্মা ও যমুনার সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও বৃহত্তম নদী। এই নদী দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলো যেমন - কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং দেশের বৃহত্তম ব-দ্বীপ গঠনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
উৎপত্তি ও গতিপথ
উৎস: মেঘনা নদী ভারতের পূর্বাঞ্চলের পাহাড় (লুসাই পাহাড়) থেকে উৎপন্ন বরাক নদীর দুটি ধারা—সুরমা ও কুশিয়ারা—এর মিলিত স্রোত।
নামকরণ: সিলেট অঞ্চলে সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হওয়ার পর কালনী নামে প্রবাহিত হয় এবং ভৈরব বাজারের কাছে পুরনো ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিশে 'মেঘনা' নাম ধারণ করে।
মোহনা: চাঁদপুরের কাছে পদ্মা ও যমুনার (ব্রহ্মপুত্র) সাথে মিলিত হয়ে এটি আরও বিশাল রূপ নেয় এবং ভোলা জেলার কাছে চারটি প্রধান মুখ (তেতুলিয়া, শাহবাজপুর, হাতীয়া, বামনি) দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
প্রধান বৈশিষ্ট্য
দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রশস্ত নদী; ভোলার কাছে এর প্রস্থ প্রায় ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
প্রবাহপথ: এটি কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলার মধ্য দিয়ে সর্পিলাকার বা সরলরেখায় প্রবাহিত হয়েছে।
গুরুত্ব: মেঘনা নদী বাংলাদেশের বৃহত্তম ব-দ্বীপ (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ) গঠনের প্রধান কারণ এবং দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপনদী: ধলেশ্বরী, Gumti, ও Feni নদী এর প্রধান উপনদীগুলোর মধ্যে অন্যতম।
১
১ মন্তব্য