Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:৪৬ অপরাহ্ণ

...নিশ্চয় সৎকর্মপরায়ণরা থাকবে সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যে।আর পাপীরা থাকবে জাহান্নামে,তারা কর্মফল দিনে তাতে প্রবিষ্ট হবে;.. সূরাঃ আল-কাহফ আয়াতঃ৪৯

...নিশ্চয় সৎকর্মপরায়ণরা থাকবে সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যে।আর পাপীরা থাকবে জাহান্নামে,তারা কর্মফল দিনে তাতে প্রবিষ্ট হবে;..

সূরাঃ আল-কাহফ আয়াতঃ৪৯ মাক্কী

: ৪৯ وَ وُضِعَ الۡكِتٰبُ فَتَرَی الۡمُجۡرِمِیۡنَ مُشۡفِقِیۡنَ مِمَّا فِیۡهِ وَ یَقُوۡلُوۡنَ یٰوَیۡلَتَنَا مَالِ هٰذَا الۡكِتٰبِ لَا یُغَادِرُ صَغِیۡرَۃً وَّ لَا كَبِیۡرَۃً اِلَّاۤ اَحۡصٰهَا ۚ وَ وَجَدُوۡا مَا عَمِلُوۡا حَاضِرًا ؕ وَ لَا یَظۡلِمُ رَبُّكَ اَحَدًا﴾

আর আমলনামা রাখা হবে। তখন তুমি অপরাধীদেরকে দেখতে পাবে ভীত, তাতে যা রয়েছে তার কারণে। আর তারা বলবে, ‘হায় ধ্বংস আমাদের! কী হল এ কিতাবের! তা ছোট-বড় কিছুই ছাড়ে না, শুধু সংরক্ষণ করে’ এবং তারা যা করেছে, তা হাযির পাবে। আর তোমার রব কারো প্রতি যুলম করেন না।

-আল-বায়ান

আর ‘আমালনামা হাজির করা হবে, আর তাতে যা (লেখে রাখা আছে) তার কারণে তুমি অপরাধী লোকদেরকে দেখতে পাবে ভীত আতঙ্কিত। আর তারা বলবে, ‘হায় কপাল! এটা কেমন কিতাব যে ছোট বড় কোন কাজই ছেড়ে দেয়নি বরং সব কিছুর হিসাব রেখেছে।’ তারা যা করেছে তা সামনে উপস্থিত পাবে, আর তোমার প্রতিপালক কারো প্রতি যুলম করবেন না।

-তাইসিরুল

এবং সেদিন উপস্থিত করা হবে ‘আমলনামা এবং তাতে যা লিপিবদ্ধ আছে তার কারণে তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে আতংকগ্রস্ত এবং তারা বলবেঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের! এটা কেমন গ্রন্থ! ওটাতো ছোট বড় কিছুই বাদ দেয়নি, বরং ওটা সমস্ত হিসাব রেখেছে। তারা তাদের কৃতকর্ম সম্মুখে উপস্থিত পাবে; তোমার রাব্ব কারও প্রতি যুলম করেন না।

-মুজিবুর রহমান

And the record [of deeds] will be placed [open], and you will see the criminals fearful of that within it, and they will say, "Oh, woe to us! What is this book that leaves nothing small or great except that it has enumerated it?" And they will find what they did present [before them]. And your Lord does injustice to no one.

-Sahih International

৪৯. আর উপস্থাপিত করা হবে আমলনামা, তখন তাতে যা লিপিবদ্ধ আছে তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে দেখবেন আতংকগ্ৰস্ত এবং তারা বলবে, হায়, দুর্ভাগ্য আমাদের! এটা কেমন গ্ৰন্থ! এটা তো ছোট বড় কিছু বাদ না দিয়ে সব কিছুই হিসেব করে রেখেছে।(১) আর তারা যা আমল করেছে তা সামনে উপস্থিত পাবে(২); আর আপনার রব তো কারো প্রতি যুলুম করেন না।(৩)

(১) দুনিয়ার বুকে তারা যা যা করেছিল তা সবই লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। সে সব লিখিত গ্রন্থগুলো সেখানে তারা দেখতে পাবে। তাদের কারও আমলনামা ডান হাতে আবার কারও বাম হাতে দেয়া হবে। তারা সেখানে এটাও দেখবে যে, সেখানে ছোট-বড়, গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বহীন সবকিছুই লিখে রাখা হয়েছে। অন্যত্র মহান আল্লাহ তাদের আমলনামা সম্পর্কে বলেন, প্রত্যেক মানুষের কাজ আমি তার গ্রীবালগ্ন করেছি এবং কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য বের করব এক কিতাব, যা সে পাবে উন্মুক্ত। “তুমি তোমার কিতাব পাঠ কর, আজ তুমি নিজেই তোমার হিসেবা-নিকেশের জন্য যথেষ্ঠ। [সুরা আল-ইসরা: ১৩]

(২) অর্থাৎ হাশরবাসীরা তাদের কৃতকর্মকে উপস্থিত পাবে। অন্যান্য আয়াতে আরো স্পষ্ট ভাষায় তা বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে: “যে দিন প্রত্যেকে সে যা ভাল কাজ করেছে এবং সে যা মন্দ কাজ করেছে তা বিদ্যমান পাবে, সেদিন সে তার ও ওটার মধ্যে ব্যবধান কামনা করবে। আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করতেছেন। আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াদ্র।” [সূরা আলে-ইমরান: ৩০] আরও বলা হয়েছেঃ “সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে কী আগে পাঠিয়েছে ও কী পিছনে রেখে গেছে।” [সূরা আল-কিয়ামাহঃ ১৩]

আরও বলা হয়েছেঃ “যে দিন গোপন ভেদসমূহ প্রকাশ করা হবে” [সূরা আত-ত্বরেক: ৯] মুফাসসিরগণ বিভিন্ন হাদীসের ভিত্তিতে এর অর্থ সাধারণভাবে এরূপ বর্ণনা করেন যে, এসব কৃতকর্মই প্রতিদান ও শাস্তির রূপ পরিগ্রহ করবে। তাদের আকার-আকৃতি সেখানে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। যেমন, কোন কোন হাদীসে আছে, যারা যাকাত দেয় না, তাদের মাল কবরে একটি বড় সাপের আকার ধারণ করে তাদেরকে দংশন করবে এবং বলবেঃ আমি তোমার সম্পদ ৷ [বুখারীঃ ১৩৩৮, তিরমিযীঃ ১১৯৫] সৎকর্ম সুশ্ৰী মানুষের আকারে কবরের নিঃসঙ্গ অবস্থায় আতঙ্ক দূর করার জন্য আগমন করবে। [মুসনাদে আহমাদঃ ৪/২৮৭] মানুষের গোনাহ বোঝার আকারে প্রত্যেকের মাথায় চাপিয়ে দেয়া হবে। অনুরূপভাবে, কুরআন ইয়াতীমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষনকারীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে- (إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا) [সূরা আন-নিসাঃ ১০]

অথবা, আয়াতের এ অর্থও করা যায় যে, তারা তাদের কৃতকর্মের বিবরণ সম্বলিত দপ্তর দেখতে পাবে, কোন কিছুই সে আমলনামা লিখায় বাদ পড়েনি। কাতাদা রাহেমাহুল্লাহ এ আয়াত শুনিয়ে বলতেন: তোমরা যদি লক্ষ্য কর তবে দেখতে পাবে যে, লোকেরা ছোট-বড় সবকিছু গণনা হয়েছে বলবে কিন্তু কেউ এটা বলবে না যে, আমার উপর যুলুম করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা ছোট ছোট গুনাহর ব্যাপারে সাবধান হও; কেননা এগুলো একত্রিত হয়ে বিরাট আকার ধারণ করে ধ্বংস করে ছাড়বে। [তাবারী]

(৩) অর্থাৎ এক ব্যক্তি একটি অপরাধ করেনি। কিন্তু সেটি খামাখা তার নামে লিখে দেয়া হয়েছে, এমনটি কখনো হবে না। আবার কোন ব্যক্তিকে তার অপরাধের কারণে প্রাপ্য সাজার বেশী দেয়া হবে না এবং নিরপরাধ ব্যক্তিকে অযথা পাকড়াও করেও শাস্তি দেয়া হবে না। জাবের ইবন আব্দুল্লাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তা'আলা মানুষদেরকে অথবা বলেছেন বান্দাদেরকে নগ্ন, অখতনাকৃত এবং কপর্দকশূণ্য অবস্থায় একত্রিত করবেন। তারপর কাছের লোকেরা যেমন শুনবে দূরের লোকরাও তেমনি শুনতে পাবে এমনভাবে ডেকে বলবেনঃ আমিই বাদশাহ, আমিই বিচার-প্রতিদান প্রদানকারী, জান্নাতে প্রবেশকারী কারও উপর জাহান্নামের অধিবাসীদের কোন দাবী অনাদায়ী থাকতে পারবে না।

অনুরূপভাবে, জাহান্নামে প্রবেশকারী কারও উপর জান্নাতের অধিবাসীদের কারও দাবীও অনাদায়ী থাকতে পারবে না। এমনকি যদি তা একটি চপেটাঘাতও হয়। বর্ণনাকারী বললেনঃ কিভাবে তা সম্ভব হবে, অথচ আমরা তখন নগ্ন শরীর, অখতনাকৃত ও রিক্তহস্তে সেখানে আসব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নেককাজ ও বদকাজের মাধ্যমে সেটার প্রতিদান দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ: ৩/৪৯৫] অন্য হাদীসে এসেছে, ‘শিংবিহীন প্রাণী সেদিন শিংওয়ালা প্রাণী থেকে তার উপর কৃত অন্যায়ের কেসাস নিবে।’ [মুসনাদে আহমাদ: ১/৪৯৪]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪৯) সেদিন (প্রত্যেকের হাতে) রাখা হবে আমলনামা এবং তাতে যা লিপিবদ্ধ আছে তার কারণে তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে ভীত-সন্ত্রস্ত; তারা বলবে, ‘হায় দুর্ভোগ আমাদের! এ কেমন গ্রন্থ! এ তো ছোট-বড় কিছুই বাদ দেয়নি; বরং এ সমস্ত হিসাব রেখেছে!’ তারা তাদের কৃতকর্ম সম্মুখে উপস্থিত পাবে; আর তোমার প্রতিপালক কারো প্রতি যুলুম করেন না ।

 

সূরাঃ আল-ইনফিতার আয়াতঃ ১১-১৯ মাক্কী

১১ كِرَامًا كَاتِبِیۡنَ

সম্মানিত লেখকবৃন্দ।

সম্মানিত লেখকগণ (যারা লিপিবদ্ধ করছে তোমাদের কার্যকলাপ),

-তাইসিরুল

সম্মানিত লেখকবর্গ;

-মুজিবুর রহমান

Noble and recording;

-Sahih International

১১. সম্মানিত লেখকবৃন্দ;

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। সম্মানিত (আমল) লেখকবর্গ (ফিরিশতা);

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

১২ یَعۡلَمُوۡنَ مَا تَفۡعَلُوۡنَ

তারা জানে, যা তোমরা কর।

-আল-বায়ান

তারা জানে তোমরা যা কর।

-তাইসিরুল

তারা অবগত হয় যা তোমরা কর।

-মুজিবুর রহমান

They know whatever you do.

-Sahih International

১২. তারা জানে তোমরা যা কর।(১)

(১) অর্থাৎ ফেরেশতারা প্রত্যেক ব্যক্তির প্রত্যেকটি কাজ সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। সব জায়গায় সব অবস্থায় সকল ব্যক্তির সাথে তারা এমনভাবে লেগে আছে যে, তারা জানতেই পারছে না যে, কেউ তাদের কাজ পরিদর্শন করছে। কোন ব্যক্তি কোন নিয়তে কি কাজ করেছে তাও তারা জানতে পারে। তাই তাদের তৈরি করা রেকর্ড একটি পুর্ণাঙ্গ রেকর্ড। এই রেকর্ডের বাইরে কোন কথা নেই। এ সম্পর্কেই সূরা কাহাফের ৪৯ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ “কিয়ামতের দিন অপরাধীরা অবাক হয়ে দেখবে তাদের সামনে যে আমলনামা পেশ করা হচ্ছে তার মধ্যে তাদের ছোট বড় কোন একটি কাজও অলিখিত থেকে যায়নি। যা কিছু তারা করেছিল সব হুবহু ঠিক তেমনিভাবেই তাদের সামনে আনা হয়েছে।” [করতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। তারা জানে, যা তোমরা করে থাক। [1]

[1] অর্থাৎ, তোমরা তো প্রতিদান ও শাস্তিকে অস্বীকার কর। কিন্তু তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, তোমাদের প্রতিটি কথা ও কর্মকে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। আল্লাহর তরফ হতে তোমাদের জন্য ফিরিশতা প্রহরী হিসাবে নিযুক্ত আছে; যারা তোমাদের প্রতিটি কথাকে জানে, যা তোমরা করছ। এটা হল মানুষের জন্য সতর্কবার্তা যে, প্রত্যেক কর্ম করা ও প্রত্যেক কথা বলার পূর্বে চিন্তা-ভাবনা করে দেখ, এটা ভুল নয় তো। আর এটি হল সেই কথা, যা পূর্বে উল্লেখ হয়েছে, (عَنِ الْيَمِيْنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيْد، مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلاَّ لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْد) অর্থাৎ, এক ফিরিশতা (মানুষের) ডাইনে ও অন্য এক ফিরিশতা (তার) বামে বসে আছে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, (তাই লিপিবদ্ধ করার জন্য) তার কাছে তৎপর প্রহরী প্রস্তুত রয়েছে। (সূরা ক্বাফ ১৭-১৮ নং) অর্থাৎ, লিখার জন্য বলা হয়, একজন ফিরিশতা নেকী ও অন্য একজন ফিরিশতা বদী লিখে থাকেন। আর হাদীস ও আসার দ্বারা বোঝা যায় যে, দিনে তার জন্য দুই ফিরিশতা এবং রাত্রে দুই ফিরিশতা পৃথক পৃথক নির্দিষ্ট থাকেন। পরবর্তীতে নেকী এবং বদী উভয়ের উল্লেখ করা হচ্ছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

১৩ اِنَّ الۡاَبۡرَارَ لَفِیۡ نَعِیۡمٍ

নিশ্চয় সৎকর্মপরায়ণরা থাকবে সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যে।

-আল-বায়ান

নেককারগণ থাকবে নানান নি‘মাতের মাঝে

-তাইসিরুল

পুণ্যবানগণতো থাকবে পরম সুখ সম্পদে;

-মুজিবুর রহমান

Indeed, the righteous will be in pleasure,

-Sahih International

১৩. পুণ্যবানেরা তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে(১);

(১) পুণ্যবানেরা কি কি নেয়ামতে থাকবে সেটা জানতে হলে আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের অন্যত্র একটু দেখতে হবে। অন্যত্র এসেছে, “অবশ্যই পূণ্যবানদের আমলনামা ‘ইল্লিয়ীনে, ‘ইল্লিয়্যীন সম্পর্কে আপনি কী জানেন? ওটা চিহ্নিত ‘আমলনামা। যারা আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত তারা তা দেখে। পূণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বচ্ছন্দ্যে, তারা সুসজ্জিত আসনে বসে অবলোকন করবে। আপনি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবেন। তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হতে পান করান হবে; ওটার মোহর মিসকের, এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক। ওটার মিশ্রণ হবে তাসনীমের; তা একটা প্রস্রবণ, যা থেকে সান্নিধ্যপ্রাপ্তারা পান করে। [সূরা আল মুতাফফিফীন; ১৮–২৮]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। পুণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে;

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

১৪ وَ اِنَّ الۡفُجَّارَ لَفِیۡ جَحِیۡمٍ

আর নিশ্চয় অন্যায়কারীরা থাকবে প্রজ্জ্বলিত আগুনে।

-আল-বায়ান

আর পাপীরা থাকবে জাহান্নামে,

-তাইসিরুল

এবং দুস্কর্মকারীরা থাকবে জাহান্নামে;

-মুজিবুর রহমান

And indeed, the wicked will be in Hellfire.

-Sahih International

১৪. আর পাপাচারীরা তো থাকবে জাহান্নামে(১);

(১) পাপাচারীরা কি কঠিন শাস্তিতে থাকবে সেটা জানতেও আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের অন্যত্র দেখতে হবে, সেখানে বলা হয়েছে, “কখনো না, পাপাচারীদের আমলনামা তো সিজ্জীনে আছে। সিজীন সম্পর্কে আপনি কী জানেন? ওটা চিহ্নিত ‘আমলনামা। সেদিন দুর্ভোগ হবে অস্বীকারকারীদের, যারা কর্মফল দিনকে অস্বীকার করে, শুধু প্ৰত্যেক পাপিষ্ঠ সীমালংঘনকারী এটাকে অস্বীকার করে; তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হলে সে বলে, “এটা পূর্ববর্তীদের উপকথা। কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে জঙ ধরিয়েছে। না, অবশ্যই সেদিন তারা তাদের প্রতিপালক হতে অন্তরিত থাকবে; তারপর তারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করবে; তারপর বলা হবে, “এটাই তা যাকে তোমরা অস্বীকার করতে।” [সূরা আল-মুতাফফিফীন: ৭–১৭]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। এবং পাপাচারীরা থাকবে (জাহীম) জাহান্নামে; [1]

[1] যেমন, অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘‘একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’’ (সূরা শূরা ৭ নং আয়াত)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

১৫ یَّصۡلَوۡنَهَا یَوۡمَ الدِّیۡنِ

তারা সেখানে প্রবেশ করবে প্রতিদান দিবসে।

-আল-বায়ান

কর্মফলের দিন তারা তাতে প্রবেশ করবে।

-তাইসিরুল

তারা কর্মফল দিনে তাতে প্রবিষ্ট হবে;

-মুজিবুর রহমান

They will [enter to] burn therein on the Day of Recompense,

-Sahih International

১৫. তারা প্রতিদান দিবসে তাতে দগ্ধ হবে,

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। তারা বিচার দিবসে সেখানে প্রবেশ করবে।[1]

[1] অর্থাৎ, যে প্রতিদান ও শাস্তির দিনকে তারা অবিশ্বাস করত, সেই দিনেই নিজ নিজ আমলের প্রতিদান হিসাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

: ১৬ وَ مَا هُمۡ عَنۡهَا بِغَآئِبِیۡنَ

আর তারা সেখান থেকে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না।

-আল-বায়ান

তারা সেখান থেকে কক্ষনো উধাও হয়ে যেতে পারবে না।

-তাইসিরুল

তারা ওটা হতে অন্তর্হিত হতে পারবেনা।

-মুজিবুর রহমান

And never therefrom will they be absent.

-Sahih International

১৬. আর তারা সেখান থেকে অন্তর্হিত হতে পারবে না।(১)

(১) জাহান্নামীরা কোন সময় জাহান্নাম থেকে পৃথক হবে না, অনুপস্থিত থাকতে পারবে না; মৃত্যুর মাধ্যমেও নয়, বের হওয়ার মাধ্যমেও নয়। সেখানে তাদের জন্যে চিরকালীন আযাবের নির্দেশ আছে। [মুয়াস্‌সার, সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। এবং তারা সেখান হতে অন্তর্হিত (বের) হতে পারবে না।[1]

[1] অর্থাৎ, কখনো তা থেকে পৃথক হবে না। বরং তারা তাতে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

১৭ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا یَوۡمُ الدِّیۡنِ

আর কিসে তোমাকে জানাবে প্রতিদান দিবস কী?

-আল-বায়ান

তুমি কি জান কর্মফলের দিনটি কী?

-তাইসিরুল

কর্মফল দিন কি তা কি তুমি জান?

-মুজিবুর রহমান

And what can make you know what is the Day of Recompense?

-Sahih International

১৭. আর কিসে আপনাকে জানাবে প্রতিদান দিবস কী?

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। কিসে তোমাকে জানাল, বিচার দিবস কি?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

১৮ ثُمَّ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا یَوۡمُ الدِّیۡنِ

তারপর বলছি, কিসে তোমাকে জানাবে প্রতিদান দিবস কী?

-আল-বায়ান

আবার বলি, তুমি কি জান কর্মফলের দিনটি কী ?

-তাইসিরুল

আবার বলিঃ কর্মফল দিন কি তা কি তুমি অবগত আছ?

-মুজিবুর রহমান

Then, what can make you know what is the Day of Recompense?

-Sahih International

১৮. তারপর বলি, কিসে আপনাকে জানাবে প্রতিদান দিবস কী?

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। আবার বলি, কিসে তোমাকে জানাল বিচার দিবস কি? [1]

[1] একই বাক্যের পুনরাবৃত্তি হয়েছে, ঐ দিনের বিশালত্ব ও ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করার জন্য।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

১৯ یَوۡمَ لَا تَمۡلِكُ نَفۡسٌ لِّنَفۡسٍ شَیۡئًا ؕ وَ الۡاَمۡرُ یَوۡمَئِذٍ لِّلّٰهِ

সেদিন কোন মানুষ অন্য মানুষের জন্য কোন কিছুর ক্ষমতা রাখবে না। আর সেদিন সকল বিষয় হবে আল্লাহর কর্তৃত্বে।

-আল-বায়ান

সেদিন কোন মানুষ অপরের জন্য কিছু করার সামর্থ্য রাখবে না, সেদিন সকল কর্তৃত্ব থাকবে একমাত্র আল্লাহরই (ইখতিয়ারে)।

-তাইসিরুল

সেদিন একের অপরের জন্য কিছু করার সামর্থ্য থাকবেনা; এবং সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব হবে একমাত্র আল্লাহর।

-মুজিবুর রহমান

It is the Day when a soul will not possess for another soul [power to do] a thing; and the command, that Day, is [entirely] with Allah.

-Sahih International

১৯. সেদিন কেউ কারও জন্য কিছু করার মালিক হবে না; আর সেদিন সব বিষয়ের কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর।(১)

(১) অর্থাৎ হাশরের ময়দানে কোন ব্যক্তি নিজ ইচ্ছায় অন্যের কোন উপকার করতে পারবে না এবং কারও কষ্ট লাঘবও করতে পারবে না; অপর ব্যক্তি তার যত প্রিয় ও কাছের মানুষ-ই হোক না কেন। অনুরূপভাবে সুপারিশও কারও নিজ ইচ্ছার উপর হবে না, যে পর্যন্ত আল্লাহ কাউকে কারও জন্যে সুপারিশ করার অনুমতি না দেন। একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই সকল আদেশের মালিক। তিনি স্বীয় কৃপায় কাউকে সুপারিশের অনুমতি দিলে এবং তা কবুল করলে তাও তাঁরই আদেশ হবে। [ইবন কাসীর, সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। সেদিন কেউই কারোর জন্য কিছু করবার সামর্থ্য রাখবে না; আর সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব হবে (একমাত্র) আল্লাহর। [1]

[1] অর্থাৎ, দুনিয়াতে তো আল্লাহ তাআলা অস্থায়ীভাবে পরীক্ষা করার জন্য মানুষকে কম-বেশী কিছু পার্থক্যের সাথে অধিকার বা এখতিয়ার দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কিয়ামতের দিন সমস্ত এখতিয়ার পূর্ণরূপে কেবল মাত্র আল্লাহরই হাতে থাকবে। যেমন তিনি বলেন ‘‘আজ রাজত্ব কার? একক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর।’’ (সূরা মু‘মিন ১৬ আয়াত।) বলা বাহুল্য, মহানবী (সাঃ) নিজ ফুফুজান সাফিয়া (রাঃ)  ও স্বীয় কন্যা ফাতেমাকে বলেছিলেন, ‘‘আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোন প্রকার উপকার করতে পারব না।’’ (সহীহ মুসলিম ঈমান অধ্যায়) আর বনী হাশেম ও বনী আব্দুল মুত্তালিবকেও সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘‘তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোন প্রকার উপকার করতে পারব না।’’ (মুসলিম ঐ, বুখারী সূরা শুআরার ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ)

 

মন্তব্য করুন