সহকারী অধ্যাপক
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:০৯ অপরাহ্ণ
আমলনামার সামনে মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আমলনামার সামনে
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
একদিন খুলবে বই—নীরব, কঠোর,
লেখা থাকবে জীবন, প্রতিটি প্রহর।
শব্দহীন পাতায় সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে
চোখের চাওয়া, হাতের কাজ, অন্তরের ভাবনা সব।
ভীত চোখে অপরাধী কাঁপবে সে ক্ষণে,
বলবে—“হায়! কী বই এ, কী নির্মম গণনে!
ছোটও নয় বাদ, বড়ও নয় মুক্ত,
সবকিছু গোনা—গোপন, প্রকাশ্য, যুক্ত।”
যা ভেবেছিল ঢেকে গেছে সময়ের ধুলায়,
তা-ই আজ জেগে উঠবে সত্যের আলোয়।
মিথ্যার ছায়া সরে যাবে মুহূর্তে এক,
আমলই হবে পরিচয়—নাম, বংশ, টেক।
আর যারা সৎ, সত্যে অবিচল পথে,
তাদের মুখে হাসি—শান্তি থাকবে সাথে।
নির্ভার হৃদয়, প্রশান্তির নীড়,
কারণ জানে—রব ন্যায়ে অটল, দয়ায় গভীর।
হে মানুষ! আজই থামাও পাপের গান,
লেখার আগে শুদ্ধ করো কর্মের দিগ্দর্শন।
কারণ সে রব—কাউকে করেন না জুলুম,
আমলনামাই বলবে—কে পেল মুক্তি, কে পেল দহন।
***
আমলনামার বিচার
একদিন বসবে বিচার, খুলবে হিসাবখানা,
নীরব আকাশ সাক্ষী হবে, কাঁপবে ধরা–খানা।
রাখা হবে আমলনামা—লোহিত অক্ষরভরা,
চোখে পড়বে জীবনের সব, মুছে যাবে আবরণ-ছায়া।
ভীত হয়ে অপরাধীরা তাকাবে সেই বই,
বলবে—“হায়! কী সর্বনাশ! রেহাই যে আর নাই!”
ছোট কিছুই বাদ পড়েনি, বড় কিছু নয় গোপন,
প্রতিটি কাজ গোনা আছে—দিন, রাত, ক্ষণ, ক্ষণ।
যা গোপনে করেছিলাম আঁধারের আশ্রয়ে,
তা আজ জ্বলছে সত্য হয়ে প্রকাশের আলোয়।
মুখের কথা, চোখের দৃষ্টি, অন্তরের অভিসার,
সবই আজ উপস্থিত—নেই পালাবার আর।
আর যারা সৎকর্মে ছিল দৃঢ়, সত্যে অটল,
তাদের মুখে প্রশান্তি—হৃদয় নির্মল।
সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ঘিরে ধরবে শান্তির নীড়ে,
কারণ তারা জেনেছিল—রব ন্যায়ে অটল চিরে।
হে মানুষ! আজই শোনো এ চূড়ান্ত আহ্বান,
কর্মেই গড়ো মুক্তি-পথ, কর্মেই অভিশাপ-দহন।
কারণ তোমার রব ন্যায়বান—জুলুম করেন না কভু,
আমলই বলে দেবে সেদিন—কে ধন্য, কে অভিশপ্ত হুবহু।
৩***
কালের শেষে এক দিন আসবে—নিশ্চল, ভয়াল ক্ষণ,
থামবে ধরণী, স্তব্ধ হবে আকাশের স্পন্দন।
সেই দিনে খুলবে ইতিহাস, খুলবে গোপন দ্বার,
মানুষ দেখবে নিজের মুখ—কর্মেরই দর্পণ-সার।
রাজা নয়, রঙ্ক নয়, নয় বৈভবের গৌরব,
কাজই হবে পরিচয়, কাজই হবে সৌরভ।
কলম চলেছে নিরবধি, লিখেছে জীবনের গান,
আজ সে লেখা পড়ে শোনাবে ন্যায়ের মহান বিধান।
রাখা হবে আমলনামা বিচার-ময়দানে,
ভীত হবে অপরাধীরা পাতারই টানে।
সাদা-কালো অক্ষরে লেখা জীবন-ইতিহাস,
মুছে যাবে সকল ছলনা, ভাঙবে মিথ্যার বাস।
কেউ বলবে—“হায় আমাদের! কী ভয়ংকর বই!
ছোট কিছুই ছাড়ে না যে, বড় কিছু নয় লুকোই!”
দিনের কাজ, রাতের গোপন, নিঃশ্বাসেরও ধ্বনি,
সবই লেখা—একটুও নয় বাদ পড়ে ধ্বংসিনী।
যা ভেবেছিল ভুলে গেছে সময়ের প্রবাহ,
তা আজ দাঁড়িয়ে আছে সামনে—জ্বলন্ত সাক্ষ্যবাহ।
চোখের চাহনি, ঠোঁটের হাসি, অন্তরের কুটিলতা,
সবই আজ রূপ নিয়েছে বাস্তবের কঠোরতা।
কাঁপবে হাত, শুকোবে কণ্ঠ, পা নড়বে না আর,
নিজ কর্মই দাঁড়াবে সামনে—ভয়াল প্রহরী-দ্বার।
কেউ বলবে—“ফিরে যেতে দাও একটি ক্ষণকাল!”
কিন্তু সময় ফিরবে না—হিসাব বড় নির্মম পাল।
অন্য দিকে সৎজনেরা দাঁড়াবে শান্ত চিত্তে,
মুখে তাদের প্রশান্ত হাসি—ভয় নেই অন্তরেতে।
যে সত্যে চলেছে নির্ভীক, যে ন্যায়ে ছিল স্থির,
তার হৃদয় আজ আলোকিত, ভরসায় অচঞ্চল, গম্ভীর।
সহজ হবে হিসাব তাদের, মসৃণ হবে পথ,
সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ছায়া দেবে, প্রশান্তির রথ।
কারণ তারা জানত—রব সর্বদ্রষ্টা মহান,
তাই গোপনেও রাখেনি পাপ, ভাঙেনি ন্যায়ের শপথ-প্রাণ।
সে দিন ঘোষণা হবে—শোনো হে মানবজাতি!
তোমাদের রব ন্যায়বান, দূরে রাখেন জুলুম-ভ্রান্তি।
যা করেছ তাই পেয়েছ—এক বিন্দুও কম নয়,
এক কণাও বেশি নয়—এ ন্যায়ের অবিচল ভয়।
নেই পক্ষপাত, নেই অন্যায়, নেই অবহেলার দাগ,
কর্মই রাজা, কর্মই দণ্ড, কর্মই মুক্তির ভাগ।
যে বীজ বপন করেছিলে জীবনের মাঠে যত,
আজ সে ফলেই ভরে গেছে হিসাবের মহাকোট।
হে মানুষ! এখনও সময়—কলম চলছে লিখে,
আজকের কাজ কাল হবে সাক্ষী ন্যায়ের বিচার-মঞ্চে।
শুদ্ধ করো পথের দিশা, সংশোধন করো প্রাণ,
যেন আমলনামা হয় আলোয় ভরা সম্মান।
কারণ এক দিন খুলবে বই—নীরব, কঠিন সত্যে,
সেদিন আর কথা চলবে না অজুহাতের মিথ্যে।
সুখ চাইলে আজই ধরো সৎকর্মের পতাকা,
আমলনামাই হবে তখন মুক্তির দীপ্ত রেখা।
১
১ মন্তব্য