সহকারী শিক্ষক
০৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগের প্রাক্কালে একটি স্বাধীন, অখণ্ড বাংলা গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন, যেখানে বাংলা প্রদেশ ভারত বা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে; এটিই ছিল দেশভাগের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাকে বিভক্ত হওয়া থেকে বাঁচানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস, যা শরৎচন্দ্র বসু ও আবুল হাশিমের সঙ্গে মিলে "বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি" নামে পরিচিতি লাভ করে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রস্তাবের মূল বিষয়:
উদ্দেশ্য: ভারত ভাগ হলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহতা এড়াতে এবং বাঙালির স্বার্থরক্ষায় একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলা প্রতিষ্ঠা।
সময়কাল: ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল দিল্লিতে সোহরাওয়ার্দী এই প্রস্তাব দেন।
মূল প্রস্তাবনা: একটি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলা রাষ্ট্র গঠন, যেখানে মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ের সমানাধিকার থাকবে।
সহযোগী: এই প্রস্তাবে মুসলিম লীগের আবুল হাশিম এবং কংগ্রেসের শরৎচন্দ্র বসুও সমর্থন দেন এবং একটি খসড়া তৈরি করেন।
শাসন কাঠামো: প্রস্তাবিত কাঠামোতে প্রধানমন্ত্রী হবেন একজন মুসলিম এবং মন্ত্রিসভার অর্ধেক সদস্য অমুসলিম থাকবেন বলে উল্লেখ ছিল।
ফলাফল:
এই প্রস্তাবটি দেশভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কারণে বাস্তবায়িত হয়নি, এবং বাংলা দুটি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে যায়—পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) এবং পূর্ব পাকিস্তান (পাকিস্তান)।
সংক্ষেপে, সোহরাওয়ার্দীর অখণ্ড বাংলা ধারণাটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের শেষ সময়ে বাংলা প্রদেশকে ভাগ হওয়া থেকে রক্ষা করার একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রচেষ্টা।
১৫
২৫ মন্তব্য