সহকারী শিক্ষক
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:৫৫ অপরাহ্ণ
নয়া যুগের অভিযাত্রী.
নয়া যুগের অভিযাত্রী
অবশেষে আমি হেরে গেলাম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে। তাদের পড়ার প্রতি আগ্রহ, অসম্ভবকে জয় করার প্রত্যয়। তাদের অপ্রতিরোধ্য ইচ্ছা শক্তি দেখে আমি বিমোহিত। তাদের মনের আত্মবিশ্বাস দেখে আমি নিজেকে আড়াল করে রাখি।
শিক্ষক হিসেবে আমি নতুন কোনো উদ্যোগ নিলে মনে দ্বিধা থাকে কাজটা করতে পারবো কিনা। বা শেষ করতে পারবো কিনা। যখন ছোট্ট শিক্ষার্থীদের সাথে এ নিয়ে কথা বলি তখন তাদের কাজের প্রতি উদ্দীপনা দেখে আমি এগিয়ে যাই। তাদের ছোট্ট সহযোগিতায় অসম্ভব কাজকে ফুলের মতো করে সাজিয়ে তুলে।
তারা না, জানে না। তাদের ভয় নেই, অসম্ভব কি তারা জানে না। তারা জানে এগিয়ে যাওয়ার সহজ পথ। মানে না কোনো বাধা। উপকরণ তৈরি ফুলের বাগান বা ছবি আঁকা, যে কোনো বিজ্ঞানের পরীক্ষায় তাদের না নেই। কী এক অদম্য শক্তি তাদের।
স্যার, বাসার পড়া কী? হাতের লেখা দেন, স্যার হাতের লেখা লিখছি। স্যার আমাদের ক্লাসে আসেন। নানাবিধ কথায় অবাক। তারা থেমে থাকার জীব নয়। একটা নতুন কিছু করা চাই। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি যখন ভাবি ছোট্ট শিক্ষার্থীদের মনের স্পৃহার তুলনায় আমি কিছুই না। তারা বিপ্লবী। তারা দুর্গম পথে অভিযাত্রী।
আমি তাদের আত্মবিশ্বাসের কাছে হেরে যাচ্ছি। মহান রব্বুল আলামিন তাদেরকে গড়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সে রকম মেন্টরিং করার সক্ষমতা নেই বললেই চলে। তাদের আকাশ ছোঁয়া কল্পনায়, আমি নগণ্য।
শিক্ষকের অল্প পরিচর্যায় এসব শিশুরা হয়ে উঠবে জগৎ বিখ্যাত দার্শনিক বা অন্যকিছু।
“তারা বিপ্লবী
তার অদম্য অভিযাত্রী
নেই কোনো ভয়
আছে এগিয়ে যাওয়ার আছে তীব্র প্রত্যয়।“
ফেরদাউস রুমেল
উপজেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-২০২৪
জেলা আইসিটি অ্যাম্বাসেডর
মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল
১৫
২৫ মন্তব্য