Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

তিনটি রুটি ও এক জান্নাতি পরিবার: হযরত ফাতেমার (রাঃ) ত্যাগের মহিমা 🍞

✨ তিনটি রুটি ও এক জান্নাতি পরিবার: হযরত ফাতেমার (রাঃ) ত্যাগের মহিমা 🍞


মদিনার একটি ছোট ঘর। যেখানে অভাব থাকলেও ছিল অসীম ঈমানি তৃপ্তি। ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মহীয়সী নারী হযরত ফাতেমা (রাঃ) এবং বীর সেনানী হযরত আলী (রাঃ)-এর ঘরে তখন বিষাদের ছায়া, কারণ তাঁদের দুই নয়নের মণি হাসান ও হোসেন অসুস্থ।


আলী (রাঃ) ও ফাতেমা (রাঃ) আল্লাহর কাছে মানত করলেন, “হে আল্লাহ! আমাদের সন্তানেরা সুস্থ হয়ে উঠলে আমরা টানা তিন দিন রোজা রাখব।” মহান আল্লাহ দোয়া কবুল করলেন, হাসান-হোসেন সুস্থ হয়ে উঠলেন।


১. প্রথম দিনের ইফতার ও মিসকিনের আর্তি

তীব্র গরমের দিনে রোজা রাখা শুরু করলেন তাঁরা। প্রথম দিন ইফতারের সময় সামনে ছিল সামান্য কয়েক টুকরো রুটি। সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর ইফতার করতে যাবেন, ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। এক ক্ষুধার্ত মিসকিন (দরিদ্র) ব্যক্তি আর্তনাদ করে বলল, “হে নবী পরিবার! আমি বড় ক্ষুধার্ত, আমাকে কিছু খাবার দিন।”


হাসান-হোসেনের দিকে তাকিয়ে মা ফাতেমা একবার ভাবলেন, কিন্তু পরক্ষণেই আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা ভেবে নিজেরা না খেয়ে ইফতারের সবটুকু রুটি মিসকিনকে দিয়ে দিলেন। সেই রাতে শুধু পানি খেয়েই তাঁরা পার করলেন।


২. দ্বিতীয় দিনের ইফতার ও এতিমের কান্না

পরদিনও তাঁরা রোজা রাখলেন। দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকায় তাঁদের শরীর বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ইফতারের সময় দস্তরখানে যখন রুটি রাখা হলো, তখন এল এক অভাবী এতিম শিশু। তার করুণ কণ্ঠের আবেদন নবী পরিবারের হৃদয় ছুঁয়ে গেল। দ্বিতীয় দিনেও তাঁরা অকাতরে নিজেদের খাবার সেই এতিমকে দিয়ে দিলেন এবং কেবল পানি পান করে দ্বিতীয় রাত অতিবাহিত করলেন।


৩. তৃতীয় দিনের পরীক্ষা ও যুদ্ধবন্দীর মুক্তি

টানা দুই দিন অনাহারে থাকার পর শরীর নিস্তেজ হয়ে আসছিল। তৃতীয় দিন ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে এক যুদ্ধবন্দী এসে খাবারের সাহায্য চাইল। হযরত ফাতেমা (রাঃ) জানতেন আজ না খেলে শরীর ভেঙে পড়বে, কিন্তু দয়া ও ত্যাগের এক বিশাল পাহাড় ছিলেন তিনি। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সেই শেষ সম্বলটুকুও তুলে দিলেন বন্দীর হাতে। টানা তিন দিন অনাহারে থেকে তাঁরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষুধার কষ্টকে আপন করে নিলেন।


৪. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কুরআনের আয়াত

নবী পরিবারের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগে আরশের মালিক মহান আল্লাহ এতটাই খুশি হলেন যে, হযরত জিবরাইল (আঃ) ওহী নিয়ে আসলেন। সূরা আদ-দাহর (আল-ইনসান)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁদের এই ত্যাগের কথা কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল মানুষের জন্য স্বর্ণাক্ষরে লিখে দিলেন: এই ঘটনার পর মহান আল্লাহ তাঁদের এই ত্যাগে এতই সন্তুষ্ট হয়েছিলেন যে, পবিত্র কুরআনের সূরা আদ-দাহর (আল-ইনসান)-এর কিছু আয়াত নাজিল করেন। যেখানে বলা হয়েছে:


“তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবী, এতিম ও বন্দীদের খাবার দান করে। (তারা বলে) আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের আহার দিই, তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না।” (সূরা ইনসান: ৮-৯)


গল্পের শিক্ষা:

১. নিঃস্বার্থ দান: দান করার জন্য অনেক ধন-সম্পদের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন বড় একটি হৃদয়ের। নিজের অভাব থাকা সত্ত্বেও অন্যকে প্রাধান্য দেওয়াই হলো শ্রেষ্ঠ দান। ২. মানত পূরণ: আল্লাহর কাছে করা ওয়াদা বা মানত বিপদে-আপদেও পূরণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। ৩. ধৈর্য ও ইখলাস: সব কাজের লক্ষ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। মানুষ জানুক বা না জানুক, আল্লাহ সব দেখেন এবং তিনিই উত্তম প্রতিদান দেন।


#powerofpiety

মন্তব্য করুন

ব্লগ