Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৩:০৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের দ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব কোণে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে দক্ষিণে অবস্থিত এবং 'নারিকেল জিঞ্জিরা' নামেও পরিচিত। এটি তার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিষ্কার জল এবং প্রবালের জন্য বিখ্যাত, যেখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকত, মাছ ধরার গ্রাম এবং ছেঁড়াদ্বীপের মতো আকর্ষণীয় স্থান, যদিও এখানে বিদ্যুতের সীমিত ব্যবস্থা এবং শীতকালই ভ্রমণের সেরা সময়। 

ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য:

অবস্থান: টেকনাফ থেকে ৯ কিমি দক্ষিণে, নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত।

আকার: প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটারের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ, যা জোয়ারের সময় ছোট হয়ে আসে।

উপ-দ্বীপ: মূল দ্বীপ ছাড়াও 'ছেঁড়াদ্বীপ' নামে আরেকটি ছোট দ্বীপ রয়েছে। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য:

প্রবাল: ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল এবং ২৪০ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল।

পাখি ও সরীসৃপ: ১২০ প্রজাতির পাখি, ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণী এখানে দেখা যায়।

জল: দেশের একমাত্র পরিষ্কার জল যা স্নোরকেলিংয়ের জন্য উপযুক্ত। 

পর্যটন ও জীবনযাত্রা:

পর্যটন: বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, বিশেষ করে অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় থাকে।

স্থানীয় পেশা: মূলত মাছ ধরা, নারকেল চাষ এবং সামুদ্রিক শৈবাল সংগ্রহ করা হয়।

বিদ্যুৎ: জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, তবে কিছু হোটেল জেনারেটর বা সোলার প্যানেল ব্যবহার করে। 

নামকরণের ইতিহাস:

আরব ব্যবসায়ীরা 'জিঞ্জিরা' নামে ডাকতেন, পরে ব্রিটিশ জরিপে সেন্ট মার্টিন নামে নামকরণ করা হয়। 

গুরুত্ব:

সমুদ্রের নিচের জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে এর আশেপাশের এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। 


মন্তব্য করুন