Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৫৯ অপরাহ্ণ

ঠাণ্ডায় ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসছে? কিভাবে বুজবেন কিডনি রোগের লক্ষণ না।
  •                                  ঠাণ্ডায় ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসছে? কিভাবে বুজবেন কিডনি রোগের লক্ষণ না।

  • শীতকালে অনেকেই ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় ভোগেন। এই কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে কম্বল থেকে বের হয়ে বারবার বাথরুমে যাওয়াও কষ্টকর। তাই পানি কম খান অনেকেই। বিশেষ পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরো বেশি দেখা যায়।

    দিনে-রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয়। রাতে ঘুম থেকে উঠেও বাথরুমে যেতে হচ্ছে।

    তবে এই বিষয়টিকে খুব একটা আমল দেন না কেউই। সাধারণত এটি কোনো বড় সমস্যাও নয়, শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়ার ফল।

    ঠাণ্ডায় শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে কিছু পরিবর্তন ঘটায়, যার প্রভাব পড়ে কিডনির ওপর।

    তাপমাত্রা কমলে ত্বকের কাছের ক্ষুদ্র রক্তনালি বা ক্যাপিলারি সংকুচিত হয়। ফলে ত্বক থেকে তাপ বের হওয়ার পরিমাণ কমে যায়। বেশি রক্ত প্রবাহিত হয় শরীরের কেন্দ্রীয় অঙ্গগুলোর দিকে বিশেষত কিডনির দিকে।

    কিডনিতে রক্তপ্রবাহ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই প্রস্রাব তৈরির পরিমাণও বেড়ে যায়। তার সঙ্গে শীতে ঘাম কম হওয়ার কারণে শরীরের অতিরিক্ত তরল প্রস্রাবের মাধ্যমেই বের হয়ে যায়। সাধারণত এই পরিবর্তন সাময়িক ও ক্ষতিহীন। তবে সব সময় বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়াও উচিত নয়।

    কখন গুরুত্ব দেবেন

    শীতকালে বারবার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক হলেও রাতের ঘন ঘন প্রস্রাব কিছু ক্ষেত্রে কিডনির ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত হতে পারে।

    বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি বয়সি পুরুষ, যারা শারীরিকভাবে কম সক্রিয় জীবনযাপন করেন বা আগে থেকেই কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।

    শীতে অনেক সময় রক্তচাপ কিছুটা বেড়ে যায়। কারণ ঠাণ্ডায় রক্তনালি সংকুচিত হয় এবং শরীরচর্চা কমে যায়। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা কিডনির ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে।

    শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে যেসব সবজি

    কিডনি দুর্বল হতে শুরু করলে প্রস্রাব ঘন করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে বেশি পরিমাণে পাতলা প্রস্রাব তৈরি হয়। যার জেরে বারবার বাথরুমে যেতে হয় বিশেষ করে রাতে। বারবার প্রস্রাব পাওয়া কিডনির দুর্বলতার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

    কোন কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান

  • প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা হওয়া

দুর্বল বা থেমে-থেমে প্রস্রাব হওয়া

প্রস্রাবে বেশি ফেনা হওয়া

মুখ, পা বা চোখের নিচের অংশ ফুলে গেলে

অস্বাভাবিক ক্লান্তির ফলেও হতে পারে

ফেনাযুক্ত প্রস্রাব সাধারণত প্রোটিন লসের কারণে হয়, যা কিডনির ক্ষতির প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। এ ছাড়া প্রস্টেটের সমস্যা বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্যকর মনে হলেও শরীরে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে যেসব খাবার

 কেন সতর্কতা জরুরি

কিডনির রোগ সাধারণত প্রথম দিকে নীরবে বাড়তে থাকে। তবে সহজ কিছু পরীক্ষা, যেমন ইউরিন টেস্ট, রক্তের ক্রিয়েটিনিন, রুটিন ব্লাড প্রেসার চেক কিডনির চাপ বা ক্ষতি দ্রুত ধরতে সাহায্য করে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

শীত কমে গেলেও বারবার প্রস্রাব পেলে সাবধান হোন

রাতে ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়ার কারণে ঘুম ব্যাহত হতে পারে

দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা হলেও সাবধান হওয়া প্রয়োজন

যাদের পরিবারের কারো কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাদের আরো বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সূত্রঃ

কালের কন্ঠ

ঢাকা, বুধবার ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
২৩ পৌষ ১৪৩২, ১৭ রজব ১৪৪৭

মন্তব্য করুন

ব্লগ