Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

লাঠি খেলা, যা আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট।
লাঠি খেলা, যা আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট, তার ইতিহাস প্রাচীন যুগে আত্মরক্ষা ও সামন্ততান্ত্রিক যুগে জমিদারদের লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে বিকশিত হয়, যা পরে গ্রামীণ বিনোদন ও শারীরিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে, কিন্তু বর্তমানে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এটি হারিয়ে যেতে বসেছে। 
ইতিহাসের ধারা:
  • প্রাচীন যুগ (আত্মরক্ষা ও ব্যবহারিক): লাঠি ছিল আদিম যুগের অন্যতম হাতিয়ার। গ্রামের মানুষ নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য লাঠি ব্যবহার করত, যা থেকেই এই খেলার উৎপত্তি বলে অনেকে মনে করেন।
  • মধ্যযুগ (জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতা): মধ্যযুগে জমিদাররা যোদ্ধা হিসেবে লাঠিয়াল বাহিনী রাখতেন। এই সময়ে লাঠি খেলা তাদের যোদ্ধা প্রশিক্ষণ ও বিনোদনের মাধ্যম ছিল, যা এই খেলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
  • ব্রিটিশ আমল (বিনোদন ও ঐতিহ্য): ব্রিটিশ শাসনামলে এটি গ্রামবাংলার অন্যতম প্রধান বিনোদন ছিল। পূজা-পার্বন, বর্ষবরণসহ বিভিন্ন উৎসবে বড় পরিসরে লাঠি খেলার আয়োজন করা হতো। এতে ঢোলক, কর্নেট, ঝুমঝুমি ইত্যাদির তালে তালে লাঠির নান্দনিক কৌশল দেখানো হতো। 
লাঠি খেলার বৈশিষ্ট্য:
  • মার্শাল আর্ট: এটি আত্মরক্ষার একটি কৌশল, যা লাঠি চালনায় দক্ষতা শেখায়।
  • লোকসংস্কৃতি: এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা গ্রাম বাংলার আদি রূপকে তুলে ধরে।
  • ওস্তাদ ও আখড়া: ওস্তাদদের তত্ত্বাবধানে আখড়ায় (নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ স্থান) লাঠি চালনা শেখানো হতো। 
বর্তমান অবস্থা:
  • কালের বিবর্তনে ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে লাঠি খেলা এখন বিলুপ্তির পথে। নতুন দল তৈরি হচ্ছে না এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এর ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনও কিছু জেলায় (যেমন: সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ) এর আয়োজন দেখা যায়। 
মন্তব্য করুন