Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৬:৫৫ অপরাহ্ণ

বউদির কপালের কালো দাগ

বউদির কপালের কালো দাগ!


শিবু দাদার যখন বিয়ে হয়,

আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি।

হাফ প্যান্ট পরতাম।

হাফ হাতা শার্ট,

আমার সাইজ ছোট, আমিও ছোট।

বিয়ের বৌভাতে গেলাম।

চুপি চুপি বউদিদিকে দেখলাম,

লাল টুকটুকে বউ,

কি অপার লাবণ্যময়ী!

দাদা গায়ের রংয়ে আমার মতোই,

আমরা দুজনই কাকবংশীয়।

বউদি আমার থেকে এগারো বছরের বড়।তবু কী অদ্ভুত মায়া!

প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময়

বউদি চকলেট দিতেন।

বলতেন,“আমাকে আবার গালে তুলে খাওয়াতে হবে।”

মাঝে মাঝে আমিও

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে

বউদির জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসতাম।

কী যে সম্মান করতাম তাঁকে!

আর বউদি,স্নেহের আঁচলে জড়িয়ে রাখতেন আমাকে।

কখনো ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’ আসেনি।

সব সময়,আপনি।

কিন্তু এক সময়

বউদির কপালে কালো মেঘ জমল।

দাদা আবার বিয়ে করলেন।

উহ্!কী অপরাধ ছিল আমার বউদির?কপালটাই বুঝি শেষ ছিল!

ভাঙা কপালআর জোড়া লাগেনি কোনোদিন।

শুরু হলো নির্যাতন,আর এক অন্তহীন

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

আজওবউদির চোখে জল।

আমি তাকাতে পারি না,

শৈশবের সেই লাল টুকটুকে বউটার দিকে,ভাঙা পৃথিবী লেগে আছে বলে।

মন্তব্য করুন