সহকারী প্রোগ্রামার
১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
হেরে যাওয়ার মন মানসিকতা
জেন জি (Generation Z) হলো আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও পরিবর্তনশীল প্রজন্মগুলোর একটি। সাধারণত ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের জেন জি বলা হয়। এই প্রজন্ম এমন এক সময়ে বড় হয়েছে, যখন ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খুব দ্রুত বিকশিত হয়েছে। ফলে জেন জি প্রজন্ম প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহারই করে না, বরং প্রযুক্তিকে নিজের জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে।
জেন জি প্রজন্ম তথ্য সংগ্রহে অত্যন্ত দ্রুত। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তারা যেকোনো বিষয়ে জানতে পারে এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা স্বাধীন চিন্তায় বিশ্বাসী এবং নিজের মত প্রকাশে সাহসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বৈশ্বিক করেছে। এই প্রজন্ম অন্যায়, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে সরব হতে চায় এবং সামাজিক পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
তবে জেন জি প্রজন্মের সামনে কিছু গুরুতর চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম তাদের মনোযোগ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার ফলে অনেকের মধ্যে হতাশা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত ফল পাওয়ার মানসিকতার কারণে ধৈর্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিশ্রমের অভ্যাস কমে যাওয়ার ঝুঁকিও দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে জেন জি নতুন ধারার চিন্তা নিয়ে এসেছে। তারা শুধু প্রচলিত চাকরির পেছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা হওয়া, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। অনলাইন শিক্ষার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজের দক্ষতা নিজেই গড়ে তুলছে। এতে করে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়লেও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক সময় তারা পথ হারিয়ে ফেলতে পারে।
পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্ব হলো জেন জি প্রজন্মকে শুধু প্রযুক্তি-দক্ষ নয়, মানসিকভাবে শক্ত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের মধ্যে ধৈর্য, পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা জরুরি। সঠিকভাবে গাইড করা গেলে জেন জি প্রজন্ম ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে, নতুন উদ্ভাবন সৃষ্টি করবে এবং সমাজকে আরও উন্নত ও মানবিক করে তুলবে।
১৫
২৫ মন্তব্য