Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:১৫ পূর্বাহ্ণ

লোকেরা কোন বিষয়ে একে অন্যের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করছে

৭৮ : ১

 

عَمَّ یَتَسَآءَلُوۡنَ ۚ﴿۱﴾ 

عم یتسآءلون ﴿۱﴾
কোন্ বিষয় সম্পর্কে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে ?

-আল-বায়ান

লোকেরা কোন বিষয়ে একে অন্যের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?

-তাইসিরুল

তারা পরস্পর কোন্ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?

-মুজিবুর রহমান

About what are they asking one another?

-Sahih International

১. তারা একে অন্যের কাছে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১। তারা আপোসে কোন্ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?[1]

[1] রসূল (সাঃ) যখন নবুঅতপ্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি তাওহীদ, কিয়ামত ইত্যাদির কথা বয়ান করতে লাগলেন এবং কুরআন মাজীদ তিলাঅত করে শুনালেন, সেই সময় কাফের ও মুশরিকরা আপোসে জিজ্ঞাসা করতে লাগল যে, কিয়ামত কি সত্যিকারে ঘটবে -- যেমন এই লোকটি দাবী করছে? অথবা এই কুরআন কি সত্যিকারে আল্লাহর তরফ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে -- যেমন মুহাম্মাদ বলছে? প্রশ্নবাচক শব্দ দ্বারা আল্লাহ প্রথমে সেই সমস্ত জিনিসের সেই মহত্ত্ব প্রকাশ করেছেন, যা তার আছে। অতঃপর তিনি নিজেই এর উত্তর দিয়েছেন যে,-------।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৭৮ : ২

 

عَنِ النَّبَاِ الۡعَظِیۡمِ ۙ﴿۲﴾ 

عن النبا العظیم ﴿۲﴾
মহাসংবাদটি সম্পর্কে,

-আল-বায়ান

(ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার) সেই মহা সংবাদের বিষয়ে,

-তাইসিরুল

সেই মহান সংবাদ সম্বন্ধে –

-মুজিবুর রহমান

About the great news -

-Sahih International

২. মহাসংবাদটির বিষয়ে(১),

(১) অর্থাৎ তারা কি বিষয়ে পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? অতঃপর আল্লাহ নিজেই উত্তর দিয়েছেন যে, মহাখবর সম্পর্কে। তাফসীরবিদ মুজাহিদ বলেন, এখানে মহাখবর বলে কুরআনকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। কাতাদাহ বলেন, এখানে মহাখবর বলে কেয়ামত বোঝানো হয়েছে। এখানে এটাই প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২। সেই মহা সংবাদ বিষয়ে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৭৮ : ৩

 

الَّذِیۡ هُمۡ فِیۡهِ مُخۡتَلِفُوۡنَ ؕ﴿۳﴾ 

الذی هم فیه مختلفون ﴿۳﴾
যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে।

-আল-বায়ান

যে বিষয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য আছে।

-তাইসিরুল

যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করে থাকে!

-মুজিবুর রহমান

That over which they are in disagreement.

-Sahih International

৩. যে বিষয়ে তারা মতানৈক্য করছে।(১)

(১) আয়াতের আরেকটি অর্থ হচ্ছেঃ “এ ব্যাপারে তারা নানা ধরনের কথা বলছে ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে ফিরছে।” অন্য অর্থ এও হতে পারে, দুনিয়ার পরিণাম সম্পর্কে তারা নিজেরাও কোন একটি অভিন্ন আকীদা পোষণ করে না বরং “তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়।” কেউ কেউ আবার আখেরাত পুরোপুরি অস্বীকার করতো না, তবে তা ঘটতে পারে কিনা, এ ব্যাপারে তাদের সন্দেহ ছিল। কুরআন মজীদে এ ধরনের লোকদের এ উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে, “আমরা তো মাত্র একটি ধারণাই পোষণ করি, আমাদের কোন নিশ্চিত বিশ্বাস নেই।” [সূরা আল-জাসিয়াহঃ ৩২] আবার কেউ কেউ একদম পরিষ্কার বলতে, “আমাদের এ দুনিয়ার জীবনটিই সবকিছু এবং মরার পর আমাদের আর কখনো দ্বিতীয়বার উঠানো হবে না।” [সূরা আল-আন’আম: ২৯]; “আমাদের এই দুনিয়ার জীবনটিই সব কিছু। এখানেই আমরা মরি, এখানেই জীবন লাভ করি এবং সময়ের চক্র ছাড়া আর কিছুই নেই যা আমাদের ধ্বংস করে।” [সূরা আল-জাসিয়াহ: ২৪] [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। যে বিষয়ে তারা মতবিরোধী![1]

[1] অর্থাৎ, যে ‘মহা সংবাদ’ নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে সেই বিষয়েই ঐ জিজ্ঞাসাবাদ। কারো কারো মতে এই ‘মহা সংবাদ’-এর উদ্দেশ্য হল, পবিত্র কুরআন। কেননা, কাফেররা এ ব্যাপারে বিভিন্ন মন্তব্য করত। কেউ তাকে যাদু, কেউ জ্যোতিষীর কথা, কেউ কবিদের কাব্য, কেউ বা আবার পূর্বযুগের উপাখ্যান বলে অভিহিত করত। অনেকের মতে এর উদ্দেশ্য হল, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া এবং পুনর্বার জীবিত হওয়ার সংবাদ। কেননা, এ ব্যাপারেও তাদের মাঝে কিছু মতভেদ ছিল। কেউ তো একেবারেই তা অস্বীকার করত। আবার কেউ তাতে সন্দেহ পোষণ করত। কোন কোন আলেম বলেন, জিজ্ঞাসাকারী মু’মিন-কাফের উভয়ই ছিল। মু’মিনদের জিজ্ঞাসা তাদের ঈমান এবং অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ছিল। আর কাফেরদের জিজ্ঞাসা ছিল ঠাট্টা-ব্যঙ্গ ও উপহাসস্বরূপ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৭৮ : ৪

 

كَلَّا سَیَعۡلَمُوۡنَ ۙ﴿۴﴾ 

كلا سیعلمون ﴿۴﴾
কখনো না, অচিরেই তারা জানতে পারবে।

-আল-বায়ান

কক্ষনো না, (তারা যা ধারণা করে তা একেবারে, অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।

-তাইসিরুল

কখনই না, তাদের ধারণা অবাস্তব, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।

-মুজিবুর রহমান

No! They are going to know.

-Sahih International

৪. কখনো না(১), তারা অচিরেই জানতে পারবে;

(১) অর্থাৎ আখেরাত সম্পর্কে যেসব কথা এরা বলে যাচ্ছে এগুলো সবই ভুল। এরা যা কিছু মনে করেছে ও বুঝেছে তা কোনক্রমেই সঠিক নয়। [মুয়াসসার]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। কখনই না, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৭৮ : ৫

 

ثُمَّ كَلَّا سَیَعۡلَمُوۡنَ ﴿۵﴾ 

ثم كلا سیعلمون ﴿۵﴾
তারপর কখনো না, তারা অচিরেই জানতে পারবে।

-আল-বায়ান

আবার বলছি, কক্ষনো না (তাদের ধারণা একেবারে অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।

-তাইসিরুল

আবার বলি, কখনই না, তারা অচিরেই অবগত হবে।

-মুজিবুর রহমান

Then, no! They are going to know.

-Sahih International

৫. তারপর বলি কখনো না, তারা অচিরেই জানতে পারবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। আবার বলি, কখনই না, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।[1]

[1] এটা হল ধমক ও তিরস্কার যে, অতি সত্বর সব কিছু জানতে পারবে। আগামীতে আল্লাহ তাআলা স্বীয় কর্মকুশলতা এবং মহা কুদরতের কথা উল্লেখ করছেন; যাতে তাওহীদের প্রকৃতত্ব তাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আহবান জানাচ্ছিলেন তার প্রতি ঈমান আনা সহজ হয়ে যায়।

মন্তব্য করুন