সহকারী শিক্ষক
১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:০২ অপরাহ্ণ
সত্যিকারের দান কখনো বৃথা যায় না
একদা এক বিশাল মরুভূমির কিনারে ছোট এক মরুদ্যান ছিল, যেখানে গাছের ছায়ায় আর জলের শীতলতায় মানুষেরা আশ্রয় নিত। সেই মরুদ্যান থেকে কিছুটা দূরে বাস করতেন এক বয়োবৃদ্ধ রাখাল, তার নাম আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল এবং বিনয়ী একজন মানুষ। তার পরনে থাকত একটি হালকা ধূসর রঙের জোব্বা, আর মাথায় সবুজাভ সাদা রঙের একটি সুতির পাগড়ি। তার দীর্ঘ সাদা দাড়ি, যা তার বুকের উপর ছড়িয়ে থাকত, তা তার শান্ত ও বিচক্ষণ চেহারাকে আরও মহিমান্বিত করত।
আব্দুল্লাহ তার ছোট মেষ পালের সাথে সারাদিন মরুভূমির প্রান্তে ঘুরে বেড়াতেন, তাদের জন্য চারণভূমি খুঁজতেন। তার মুখে সব সময় আলহামদুলিল্লাহ থাকত, শুকরিয়ার মৃদু ধ্বনি। লোকে বলত, আব্দুল্লাহর হাতে এমন বরকত আছে যে, তার মেষগুলো অন্যদের মেষের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী হয়। কিন্তু আব্দুল্লাহ বলতেন, "এ সবই আল্লাহর রহমত, আমি তো শুধু আমার দায়িত্ব পালন করি।"
একদিন আব্দুল্লাহ তার মেষ চরাতে চরাতে এক শুকনো, ধুলোময় উপত্যকায় এসে পৌঁছালেন। সেখানে তিনি দেখলেন একটি ছোট ছেলে, তৃষ্ণায় কাতর হয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখ দুটোতে কোনো জীবন ছিল না, ঠোঁট ফেটে চৌচির। আব্দুল্লাহর মন কষ্টে ভরে উঠল। তিনি মুহূর্তেই নিজের মেষের জন্য রাখা শেষ পানির মশকটি নিয়ে ছেলেটির কাছে গেলেন।
"বাপু, নাও, এই পানি পান করো," আব্দুল্লাহ স্নেহভরে বললেন।
ছেলেটি অবাক হয়ে আব্দুল্লাহর দিকে তাকাল। এমন মরুভূমিতে যেখানে পানি পাওয়া দুষ্কর, সেখানে একজন অপরিচিত মানুষ তার জন্য নিজের শেষ পানিটুকু বিলিয়ে দিচ্ছে! ছেলেটি ধীরে ধীরে পানি পান করল, আর তার চোখে জীবনের দ্যুতি ফিরে এল।
আব্দুল্লাহ মুচকি হেসে বললেন, "সবচেয়ে বড় নেকি হলো যখন তুমি কোনো প্রাপ্তির আশা না করে অন্যের উপকার করো। আল্লাহ তায়ালা এমন দানশীলকেই ভালোবাসেন।"
আব্দুল্লাহর মেষগুলো সেদিনের মতো তৃষ্ণার্ত রইল, কিন্তু তার মনে ছিল এক অন্যরকম শান্তি। তিনি রাতের অন্ধকারে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। সেই রাতেই এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। যেই শুকনো উপত্যকায় আব্দুল্লাহ ছেলেটিকে পানি দিয়েছিলেন, সেখানে রাতের আঁধারেই একটি নতুন ঝর্ণার সৃষ্টি হলো। সেই ঝর্ণার স্বচ্ছ জল মরুভূমির বুকে বয়ে চলল, আর তার চারপাশের ধূসর ভূমি সবুজে ভরে উঠল।
পরদিন সকালে গ্রামের লোকেরা যখন সেই ঝর্ণা দেখতে পেল, তারা অবাক হয়ে গেল। তারা বুঝতে পারল, এটি আব্দুল্লাহর নিষ্কাম দান ও আল্লাহর প্রতি তার অগাধ বিশ্বাসের ফল। সেই থেকে সেই উপত্যকাটি "রহমতের ঝর্ণা" নামে পরিচিত হলো, আর আব্দুল্লাহর গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরতে লাগল।
সারাংশ: এই গল্প থেকে আমরা এই শিক্ষা নিতে পারি যে, সত্যিকারের দান কখনো বৃথা যায় না। যখন আমরা আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যে নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করি, তখন আল্লাহ আমাদের অপ্রত্যাশিতভাবে পুরস্কৃত করেন। আর এই পুরস্কার শুধু বস্তুগত নয়, বরং মানসিক শান্তি ও বরকতের রূপেও আসে।🌹🤲🤲
#powerofpiety
১৬
২৬ মন্তব্য