Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ

নিশ্চয় নেককাররাই থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে।সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে।তাদেরকে সীলমোহর করা বিশুদ্পানীয় থেকে পান করানো হবে।..


নিশ্চয় নেককাররাই থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে।সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে।তাদেরকে সীলমোহর করা বিশুদ্পানীয় থেকে পান করানো হবে।..তা এক প্রস্রবণ, যা থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে।

সূরাঃ   আল-মুতাফফিফীন   আয়াতঃ ২২-২৮মাক্কী

২২ اِنَّ الۡاَبۡرَارَ لَفِیۡ نَعِیۡمٍ

নিশ্চয় নেককাররাই থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে।

-আল-বায়ান

পুণ্যবান লোকেরা থাকবে অফুরন্ত নি‘মাতের মাঝে।

-তাইসিরুল

সৎ আমলকারীতো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে।

-মুজিবুর রহমান

Indeed, the righteous will be in pleasure

-Sahih International

২২. নিশ্চয় পুণ্যবানগণ থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে,

তাফসীরে জাকারিয়া

২২। পুণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

২৩ عَلَی الۡاَرَآئِكِ یَنۡظُرُوۡنَ

সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে।

-আল-বায়ান

উচ্চ আসনে বসে তারা (চারদিকের সবকিছু) দেখতে থাকবে।

-তাইসিরুল

তারা সুসজ্জিত আসনে বসে অবলোকন করবে।

-মুজিবুর রহমান

On adorned couches, observing.

-Sahih International

২৩. সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৩। তারা সুসজ্জিত আসনে বসে দেখতে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

২৪ تَعۡرِفُ فِیۡ وُجُوۡهِهِمۡ نَضۡرَۃَ النَّعِیۡمِ

তুমি তাদের চেহারাসমূহে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের লাবণ্যতা দেখতে পাবে।

-আল-বায়ান

তুমি তাদের মুখে আরাম আয়েশের উজ্জ্বলতা দেখতে পাবে।

-তাইসিরুল

তুমি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবে,

-মুজিবুর রহমান

You will recognize in their faces the radiance of pleasure.

-Sahih International

২৪. আপনি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবেন,

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪। তুমি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবে। [1]

[1] যেমন দুনিয়ার ধনবান সুখী ব্যক্তিদের মুখমন্ডলে সাধারণতঃ খুশীর আভা ও সজীবতা প্রকাশ পায়; যা তাদের আরাম, আয়েশ এবং পার্থিব সম্পদ লাভের কারণে হয়ে থাকে এবং যা তাদের মাল-ধনের আধিক্যের ফলেই অর্জন হয়। অনুরূপ জান্নাতে জান্নাতীদের জন্য সম্মান, মর্যাদা এবং নানা প্রকার সুখ-সম্পদের যে আধিক্য হবে তার কারণে তাদের মুখমন্ডলেও তা প্রকাশ পাবে। তাদেরকে তাদের রূপ-সৌন্দর্য, লাবণ্য এবং ঔজ্জ্বল্যে চেনা যাবে যে, তারা জান্নাতী ব্যক্তি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

২৫ یُسۡقَوۡنَ مِنۡ رَّحِیۡقٍ مَّخۡتُوۡمٍ

তাদেরকে সীলমোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় থেকে পান করানো হবে।

-আল-বায়ান

তাদেরকে পান করানো হবে সীল-আঁটা উৎকৃষ্ট পানীয়।

-তাইসিরুল

তাদেরকে মোহরযুক্ত বিশুদ্ধ মদিরা হতে পান করানো হবে,

-মুজিবুর রহমান

They will be given to drink [pure] wine [which was] sealed.

-Sahih International

২৫. তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হতে পান করানো হবে;

তাফসীরে জাকারিয়া

২৫। তাদেরকে মোহর আঁটা বিশুদ্ধ মদিরা হতে পান করানো হবে।[1]

[1] رحيق (রাহীক) পরিস্কার, নির্মল ও বিশুদ্ধ শারাবকে বলা হয়; যাতে কোন প্রকার ভেজাল মিশ্রিত থাকবে না। مختوم (মাখতূম) ‘মোহরাঙ্কিত’ বলে তার বিশুদ্ধতাকে আরো স্পষ্ট করে বয়ান করা হয়েছে। অনেকের নিকট মাখতূমের অর্থ হল মিশ্রিত। অর্থাৎ, শারাবে কস্তুরী মিশানো থাকবে। যার কারণে তার স্বাদে ও গন্ধে অতিরিক্ত উৎকৃষ্টতা ও আমেজ বৃদ্ধি পাবে। কেউ কেউ বলেন, এটি ‘খতম’ শব্দ হতে এসেছে। অর্থাৎ, তার শেষ ঢোকটি হবে কস্তুরীর সুগন্ধিযুক্ত। কিছু ব্যাখ্যাতা ‘খিতাম’-এর অর্থ সুগন্ধি করেছেন। অর্থাৎ, এমন শারাব যার সুগন্ধি হবে কস্তুরীর মত। (ইবনে কাসীর) হাদীসেও ‘আর-রাহীক্বুল মাখতূম’ শব্দ এসেছে। নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে মু’মিন ব্যক্তি কোন পিপাসিত মু’মিনকে (দুনিয়াতে) এক ঢোক পানি পান করাবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ‘আর-রাহীক্বুল মাখতূম’ (মোহরাঙ্কিত বিশুদ্ধ শারাব) পান করাবেন। যে কোন ক্ষুধার্ত মু’মিনকে খাবার খাওয়াবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল-মূল খাওয়াবেন। যে ব্যক্তি কোন বিবস্ত্র মু’মিনকে বস্ত্র পরিধান করাবে, তাকে আল্লাহ জান্নাতের সবুজ বস্ত্র পরিধান করাবেন। (মুসনাদে আহমাদ ৩/ ১৩-১৪) (হাদীসটি যয়ীফ-সম্পাদক)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

২৬ خِتٰمُهٗ مِسۡكٌ ؕ وَ فِیۡ ذٰلِكَ فَلۡیَتَنَافَسِ الۡمُتَنَافِسُوۡن﴾

তার মোহর হবে মিসক...আর প্রতিযোগিতাকারীদের উচিৎ এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা।

-আল-বায়ান

তার সীল হবে মিশকের, প্রতিযোগীরা এ বিষয়েই প্রতিযোগিতা করুক।

-তাইসিরুল

ওর মোহর হচ্ছে কস্তুরীর। আর থাকে যদি কারও কোন আকাংখা বা কামনা, তাহলে তারা এরই কামনা করুক।

-মুজিবুর রহমান

The last of it is musk. So for this let the competitors compete.

-Sahih International

২৬. যার মোহর হবে মিসকের(১), আর এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্ৰতিযোগিতা করুক।(২)

(১) মূলে “খিতামুহু মিস্‌ক” বলা হয়েছে। এর একটি অর্থ হচ্ছে, যেসব পাত্রে এই শরাব রাখা হবে তার ওপর মাটি বা মোমের পরিবর্তে মিশকের মোহর লাগানো থাকবে। এ অর্থের দিক দিয়ে আয়াতের অর্থ হয়; এটি হবে উন্নত পৰ্যায়ের পরিচ্ছন্ন শরাব। এর দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে: এই শরাব যখন পানকারীদের গলা থেকে নামবে তখন শেষের দিকে তারা মিশকের খুশবু পাবে। [ফাতহুল কাদীর] এই অবস্থাটি দুনিয়ার শরাবের সম্পূর্ণ বিপরীত। এখানে শরাবের বোতল খোলার সাথে সাথেই একটি বোটকা গন্ধ নাকে লাগে। পান করার সময়ও এর দুৰ্গন্ধ অনুভূত হতে থাকে এবং গলা দিয়ে নামবার সময় মস্তিষ্কের অভ্যন্তরেও পচা গন্ধ পৌছে যায়। এর ফলে শরাবীর চেহারায় বিস্বাদের একটা ভাব জেগে ওঠে।

(২) কোন বিশেষ পছন্দনীয় জিনিস অর্জন করার জন্যে কয়েকজনের ধাবিত হওয়া ও দৌড়া, যাতে অপরের আগে সে তা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এর নাম تنافس এখানে জন্নাতের নেয়ামতরাজি উল্লেখ করার পর আল্লাহ্ তা'আলা গাফেল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, আজ তোমরা যেসব বস্তুকে প্রিয় ও কাম্য মনে করে সেগুলো অর্জন করার জন্যে অগ্ৰে চলে যাওয়ার চেষ্টায় রত আছ, সেগুলো অসম্পূর্ণ ও ধ্বংসশীল নেয়ামত। এসব নেয়ামত প্রতিযোগিতার যোগ্য নয়। এসব ক্ষণস্থায়ী সুখের সামগ্ৰী হাতছাড়া হয়ে গেলেও তেমন দুঃখের কারণ নয়। হ্যাঁ, জান্নাতের নেয়ামতরাজির জন্যই প্রতিযোগিতা করা উচিত। এগুলো সব দিক দিয়ে সম্পূর্ণ চিরস্থায়ী।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৬। এর মোহর হচ্ছে কস্তুরীর। আর তা লাভের জন্যই প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক। [1]

[1] অর্থাৎ, আমলকারীদেরকে এমন আমলে প্রতিযোগিতা করা উচিত, যার দ্বারা জান্নাত এবং তার নিয়ামত লাভ হয়। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন ‘‘এমন সাফল্যের জন্য পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।’’ (সূরা সাফফাত ৬১ আয়াত)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

২৭ وَ مِزَاجُهٗ مِنۡ تَسۡنِیۡمٍ

আর তার মিশ্রণ হবে তাসনীম থেকে।

-আল-বায়ান

তাতে মেশানো থাকবে ‘তাসনীম,

-তাইসিরুল

ওর মিশ্রণ হবে তাসনীমের।

-মুজিবুর রহমান

And its mixture is of Tasneem,

-Sahih International

২৭. আর তার মিশ্রণ হবে তাসনীমের(১),

(১) তাসনীম মানে উন্নত ও উঁচু। [ফাতহুল কাদীর] কোন কোন মুফাসসির বলেন, কোন ঝরণাকে তাসনীম বলার মানে হচ্ছে এই যে, তা উঁচু থেকে প্রবাহিত হয়ে নীচের দিকে আসে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২৭। এর মিশ্রণ হবে তাসনীমের (পানির)। [1]

[1] ‘তাসনীম’ শব্দের অর্থ হল উচ্চতা। উটের কুঁজ তার শরীর থেকে উঁচু, তাই তাকে ‘সিনাম’ বলা হয়। কবর উঁচু করাকেও ‘তাসনীমুল ক্বুবূর’ বলা হয়। ভাবার্থ এটাই হল যে, উক্ত মদিরায় তাসনীম শারাবের মিশ্রণ থাকবে; যা জান্নাতের উঁচু এলাকার এক ঝরনা থেকে প্রবাহিত হবে। আর এটা জান্নাতের সবচেয়ে উত্তম ও উচ্চ পর্যায়ের বিশুদ্ধ শারাব হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

: ২৮ عَیۡنًا یَّشۡرَبُ بِهَا الۡمُقَرَّبُوۡنَ

তা এক প্রস্রবণ, যা থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে।

-আল-বায়ান

ওটা একটা ঝর্ণা, যাত্থেকে (আল্লাহর) নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে।

-তাইসিরুল

এটি একটি প্রস্রবণ, যা হতে নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিরা পান করে।

-মুজিবুর রহমান

A spring from which those near [to Allah] drink.

-Sahih International

২৮. এটা এক প্রস্রবণ, যা থেকে সান্নিধ্যপ্রাপ্তরা পান করে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৮। এটা একটি প্রস্রবণ, যা হতে নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পান করবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ