সহকারী শিক্ষক
১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ণ
আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের রূপকথার নায়ক
আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের রূপকথার নায়ক!
গ্রামের বিকেলগুলো তখন অন্যরকম ছিল।
বিদ্যুৎ ছিলনা।
কখনো রেডিও, কখনো ঝাপসা টিভির পর্দা।
অ্যান্টেনা একটু এদিক–ওদিক হলেই ছবি উধাও।
বিশ্বকাপ মানে ছিল উৎসব।
কাজ ফেলে বড়রা বসে পড়ত।
মায়েরা রান্নাঘর থেকে উঁকি দিত।
আর আমরা—শিশু কিংবা কিশোর,
বোঝার আগেই ক্রিকেটের প্রেমে পড়ে যেতাম।তখন ওয়ানডে ক্রিকেট ছিল ধৈর্যের খেলা।
প্রথম ১৫ ওভার মানেই,
বল ছাড়ো, এক রান নাও, উইকেট আগলে রাখো।
রান বাড়বে শেষে—এই ছিল বিশ্বাস।
কিন্তু হঠাৎ এক ম্যাচে
দুইজন নামল ওপেন করতে।
একজন সনাথ জয়াসুরিয়া।
চেহারায় শান্তি, কিন্তু ব্যাটে আগুন।
আরেকজন,রোমেশ কালুভিতারানা।
নামটাই তখন ঠিকমতো বলতে পারতাম না,কিন্তু ব্যাটিং ভুলে যাওয়ার উপায় ছিল না।
প্রথম ওভারেই চার।
দ্বিতীয় ওভারে আবার চার।
হঠাৎ একটা ছক্কা!
বড়রা বলল
“এইভাবে খেললে বেশিক্ষণ টিকবে না।”
আমরা কিছু বললাম না।চোখ আটকে রইল পর্দায়।৫ ওভারে স্কোর ৪০ ছুঁইছুঁই।
১০ ওভারে ৭০ পেরিয়ে গেল।
১৫ ওভারে এমন রান
যা তখন কল্পনাও করা যেত না।
সেই মুহূর্তে আমরা বুঝিনি,
কিন্তু ইতিহাস লেখা হচ্ছিল।
কালুভিতারানার সেই হালকা ফ্লিক,
জয়াসুরিয়ার সেই সোজা ব্যাটে আছড়ে পড়া ছক্কা,
এসব শুধু রান নয়,
ভয় ভাঙার শব্দ ছিল।
সেদিন থেকে ক্রিকেট আর আগের মতো থাকেনি।
ওপেনার মানে আর শুধু “সেফ প্লেয়ার” নয়।
নতুন বল মানে আর ভয় নয়।
নতুন বল মানে সুযোগ।
আজ যখন দেখি, ১৫ ওভারে ১০০ রান স্বাভাবিক,
পাওয়ার প্লেতে আক্রমণ বাধ্যতামূলক।
তখন মনটা ফিরে যায়
সেই বিকেলের দিকে।
ঝাপসা পর্দা,রেডিওর ধারাভাষ্য,
আর দুই শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান
যারা না জেনেই আমাদের ক্রিকেট-ভাবনাটা বদলে দিয়েছিল।
সময় গেছে।
বিশ্বকাপ গেছে।
অনেক প্রিয় খেলোয়াড় অবসর নিয়েছেন।কিন্তু স্মৃতির মাঠে আজও
ওরা ওপেন করতে নামে।
আর আমরাআজও প্রথম ১৫ ওভারে
অজান্তেই অপেক্ষা করি,
কবে আবার ক্রিকেট
এভাবে নতুন হয়ে উঠবে।
১
১ মন্তব্য