সহকারী শিক্ষক
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
রোল নাম্বার ১ বা ২ হওয়াটাও এক ধরনের অসুখ।
কিন্তু আশ্চর্য সত্য হলো—
এই অসুখটা বেশিরভাগ সময় বাচ্চার নয়,
বাবা–মায়ের।
যেদিন থেকে কোনো বাচ্চা “ফার্স্ট” হয়,
সেদিন থেকেই কিছু বাবা–মা বদলে যেতে শুরু করেন।
অন্য পেরেন্টসদের সাথে বসলে—
শুনেন না,
দেখেন না,
পাত্তাই দেন না।
মনে মনে ভাবেন—
“ওদের বাচ্চা তো আমারটার মতো না।”
“আমাদের লেভেল আলাদা।”
এই অহংকারটা খুব চুপচাপ আসে।
চেঁচায় না,
কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে দেয়।
অন্য মায়ের কথা মাঝপথে কেটে দেওয়া,
অন্য বাচ্চার সাফল্যকে ছোট করে দেখা,
আর নিজের বাচ্চার নামটা বারবার জাহির করা—
এসবই কিন্তু বাচ্চা নীরবে দেখছে।
সে শিখছে—
মানুষকে নম্বর দিয়ে বিচার করতে।
শিখছে—
যে এগিয়ে, সে বড়;
যে পিছিয়ে, সে তুচ্ছ।
কিন্তু জীবন একদিন এই হিসাবটা উল্টে দেয়।
যেদিন আপনার বাচ্চা পিছিয়ে পড়বে—
সেদিন এই অহংকারটাই সবচেয়ে ভারী লাগবে।
কারণ তখন পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ কমে যাবে।
অথচ যেসব বাবা–মা বিনয়ী ছিলেন,
অন্যদের সম্মান করেছেন—
তাদের বাচ্চারাও মানুষকে সম্মান করতে শিখেছে।
একটা কথা মনে রাখুন—
আপনার বাচ্চা ফার্স্ট হলেও,
আপনি কারো থেকে বড় নন।
রোল নাম্বার সাময়িক,
কিন্তু আচরণ আজীবন।
বাচ্চাকে শেখান—
“ভালো করেছো, কিন্তু মাথা নিচু রাখো।”
কারণ
অহংকার দিয়ে মানুষ বড় হয় না,
মানুষ দিয়ে মানুষ বড় হয়।
বাবা–মায়েদের কাছে একটাই অনুরোধ—
বাচ্চাকে ফার্স্ট বানাতে যাবেন না,
মানুষ বানাতে চেষ্টা করুন।
রেজাল্ট খারাপ হলে পাশে বসুন।
রেজাল্ট ভালো হলে মাথায় হাত রাখুন—
যেন অহংকার ঢুকে না পড়ে।
কারণ
রোল নাম্বার ১ হওয়া বড় কথা না,
জীবনে মানুষ হয়ে টিকে থাকাটাই
আসল সাফল্য।
#ParentingThoughts
শাহেনা আক্তার সহকারী শিক্ষক ব্রাহ্মণডুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শায়েস্তাগঞ্জ হবিগঞ্জ
১
১ মন্তব্য