Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:১৯ অপরাহ্ণ

হটস্পট, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিভ্রান্তি


হটস্পট, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিভ্রান্তি

✍️ মোঃ ফজলুল হক
শিক্ষক ও শিক্ষাবিষয়ক লেখক

বর্তমান ডিজিটাল যুগে “হটস্পট” শব্দটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত পরিচিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মোবাইল হটস্পট ও ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে অনেকের মধ্যেই একটি কৌতূহল তৈরি হয়েছে—এই হটস্পট থেকেই কি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে নানা বিভ্রান্তিকর ধারণা ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবতা ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।

প্রথমেই স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন, মোবাইল হটস্পট বা ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি দিয়ে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। মোবাইল হটস্পট মূলত ইন্টারনেট ডেটা আদান-প্রদানের একটি ব্যবস্থা, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; বরং বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। হটস্পট চালু থাকলে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়—এটাই তার বাস্তব প্রমাণ। সুতরাং হটস্পট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণাটি মূলত একটি প্রযুক্তিভ্রান্তি।

তবে “হটস্পট” শব্দটির আরেকটি বৈজ্ঞানিক অর্থ রয়েছে—তাপের কেন্দ্র বা অতিরিক্ত তাপযুক্ত স্থান (Heat Hotspot)। এই অর্থে হটস্পট ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর (Thermoelectric Generator—TEG) প্রযুক্তি। যেখানে এক পাশে উচ্চ তাপমাত্রা এবং অন্য পাশে তুলনামূলক কম তাপমাত্রা থাকে, সেই তাপমাত্রার পার্থক্য কাজে লাগিয়ে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

বর্তমানে এই প্রযুক্তি শিল্পকারখানার চুল্লি, বয়লার, রান্নার চুলা কিংবা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল হিট জোনে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ খুবই সীমিত। ছোট এলইডি বাতি, সেন্সর বা ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্র চালানো গেলেও বৃহৎ পরিসরে এর ব্যবহার এখনো ব্যয়বহুল ও অকার্যকর।

এ ছাড়া ওয়াই-ফাই বা রেডিও সিগন্যাল থেকে বিদ্যুৎ আহরণের বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাপী গবেষণা চললেও তা এখনো গবেষণাগার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ। বিশেষ অ্যান্টেনা ব্যবহার করে অতি সামান্য বিদ্যুৎ সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও তা দিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো বাস্তবসম্মত নয়।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হচ্ছে সৌর শক্তি, বায়োগ্যাস, ক্ষুদ্র বায়ু টারবাইন এবং উন্নত ব্যাটারি-ইনভার্টার ব্যবস্থা। এসব প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক।

সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তিগত কৌতূহল স্বাভাবিক হলেও বিভ্রান্ত ধারণা গ্রহণ করা উচিত নয়। মোবাইল হটস্পট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়, তবে তাপের হটস্পট ব্যবহার করে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা ভবিষ্যতে বিকল্প জ্বালানির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে—যদি তা গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়।



লেখক পরিচয়:
মোঃ ফজলুল হক
শিক্ষক ও শিক্ষাবিষয়ক লেখক
মোবাইল: ০১৭৩২৪৪৯২১৬

মন্তব্য করুন

ব্লগ