Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ

আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন।।

আবহাওয়া হলো স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা (তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত), আর জলবায়ু হলো কোনো অঞ্চলের ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা। বর্তমান আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন বলতে মূলত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, এবং এর ফলে সৃষ্ট অতিবৃষ্টি, খরা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাবকে বোঝায়, যা মূলত মানুষের কর্মকাণ্ড (জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো) দ্বারা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে ঘটছে। 

আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য

আবহাওয়া (Weather): কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলের তাৎক্ষণিক অবস্থা (যেমন: আজ বৃষ্টি হবে কিনা, তাপমাত্রা কত)।

জলবায়ু (Climate): কোনো বড় অঞ্চলের আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী গড় (সাধারণত ৩০ বছরের গড়)। 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ

গ্রিনহাউস গ্যাস: শিল্পবিপ্লবের পর থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে, যা পৃথিবীর তাপ আটকে রাখছে (গ্রিনহাউস প্রভাব)।

মানুষের কার্যকলাপ: শিল্প-কারখানা, যানবাহন ও বন উজাড়ের মতো কর্মকাণ্ড এই গ্যাস নির্গমন বাড়াচ্ছে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব (বাংলাদেশ ও বিশ্বে)

তাপমাত্রা বৃদ্ধি: বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বাড়ছে, যা তাপপ্রবাহের কারণ হচ্ছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা বাড়ছে।

চরম আবহাওয়ার ঘটনা: ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী খরা, ও ভয়াবহ বন্যা ও দাবানলের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে।

কৃষি ও পানিসম্পদ: কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে, মিঠা পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

জীববৈচিত্র্য: দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্বাস্থ্য: স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, যেমন - নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব, খাদ্য ও পানির অভাবজনিত রোগ। 

মন্তব্য করুন