সহকারী শিক্ষক
১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৫০ অপরাহ্ণ
গণভোটে হ্যাঁ! ( সচেতনতা)
গণভোটে হ্যাঁ!
শীতের শেষ বিকেল।
রোদটা আজ আর তীব্র নয়, যেন বিদায়ের আগে মাটি ছুঁয়ে আদর করে নিচ্ছে। নদীর পাড় ধরে ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন আবুল বাশার সাহেব। বয়সের ভারে পা দুটো আগের মতো চটপটে নয়, তবু এই হাঁটাটুকুই তাঁর দিনের সবচেয়ে আপন সময়। এই নদী, এই বিকেল,এদের কাছে তিনি অনেক কথা না বলেও অনেক কিছু বলে ফেলেন।
হঠাৎ মাইকের শব্দ ভেসে এলো বাতাসে।একঘেয়ে ঘোষণা নয়, যেন কারও কণ্ঠে চাপা আকুতি।
“গণভোটের আয়োজন…
হ্যাঁ ভোট প্রদান করুন।
মুখের ভাষা ফিরিয়ে দিন।”
শেষ বাক্যটা কানে থামল না, সোজা বুকে গিয়ে বিঁধল।
আবুল বাশার সাহেব দাঁড়িয়ে পড়লেন। নদীর দিকে তাকালেন। কত কথা, কত ভাষা, কত স্বপ্ন এই জলে ভেসে গেছে—হঠাৎ সব মনে পড়ল। নিজের মুখের ভাষায় কথা বলার জন্য যে কতবার চুপ করে থাকতে হয়েছে, সে হিসাব তো কেউ রাখেনি।
মনে মনে ভাবলেন, একটা লিফলেট যদি পাওয়া যেত…
পা দুটো আপনাআপনি মাইকের দিকেই চলে গেল। হাতে তুলে নিলেন একটা লিফলেট। সাদামাটা কাগজ, কিন্তু তার অক্ষরগুলো যেন কাঁপছিল—মানুষের অধিকার, মানুষের কথা, মানুষের ভাষার কাঁপন নিয়ে।
কাগজটা শক্ত করে ধরে থাকলেন তিনি।
বুকের ভেতর অদ্ভুত এক ভালো লাগা, অনেকদিন পর পাওয়া এক ধরনের সাহস—চুপ করে থাকার অভ্যাসটা যেন একটু একটু করে ভাঙতে শুরু করল।
চোখের কোণে হালকা জল জমে উঠল।
তিনি আকাশের দিকে তাকালেন, তারপর খুব ধীরে নিজের সাথেই বললেন—
হ্যাঁ… এবার ভোট দেবেন।
নিজের ভাষার পক্ষে।
নিজের মানুষের পক্ষে।
১৫
২৫ মন্তব্য