Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

শিখনফলের আলোয় জাবের স্যার

শিখনফলের আলোয় জাবের স্যার!


জাবের স্যারের শিক্ষকতা জীবনটা যেন ঘড়ির কাঁটার মতো,নিয়মে বাঁধা, তবু নির্ভরযোগ্য। পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিখেছেন, আবেগে নয়,শিক্ষা এগোয় শৃঙ্খলায়। প্রতিদিন স্কুলে ঢোকার আগে তাঁর ব্যাগে থাকে কয়েকটি প্রিয় বই, আর মনের ভেতর থাকে দিনের পাঠের পরিকল্পনা।

স্টাফরুমে ঢুকেই তিনি প্রথমে খুলে বসেন শিক্ষক সংস্করণ। অন্যরা যেখানে শুধু পাঠের শিরোনাম দেখে এগিয়ে যান, জাবের স্যার সেখানে চোখ রাখেন শিখনফলের লাইনে। ধীরে ধীরে পড়েন, যেন শব্দগুলো মনে গেঁথে যায়। তাঁর বিশ্বাস,শিখনফল ছাড়া পড়ানো মানে দিকহীন হাঁটা।

সেদিন চতুর্থ  শ্রেণিতে বাংলা ক্লাস। গল্পের একটি অধ্যায়। সহকর্মী একজন মজা করে বললেন,

“স্যার, সব অংশ পড়ানো কি দরকার? সময় তো কম!”

জাবের স্যার মৃদু হেসে বললেন,

“বইয়ের একটা অংশ বাদ গেলে, শিক্ষার্থীর শেখাটাও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।”

ক্লাসে ঢুকে তিনি বোর্ডে প্রথমেই লিখলেন,আজকের শিখনফল।

শিক্ষার্থীরা কৌতূহলী হয়ে তাকিয়ে রইল। তিনি বললেন,

“আজ পাঠ শেষে তোমরা গল্পের ভাব বুঝতে পারবে, চরিত্রের গুণ-দোষ বলতে পারবে, আর নিজের ভাষায় দু’টি বাক্য লিখতে পারবে।”

পাঠ চলল ধীরে, কিন্তু গভীরভাবে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ পড়ার পর প্রশ্ন, ছোট আলোচনা, কখনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খোঁজা। সময় শেষের ঘণ্টা বাজার আগেই তিনি বুঝলেন,শিখনফলগুলো ছুঁয়ে ফেলা গেছে।

ঘণ্টা শেষে এক শিক্ষার্থী এগিয়ে এসে বলল,

“স্যার, আজ গল্পটা মনে থাকবে।”

এই কথাটাই জাবের স্যারের দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

স্টাফরুমে ফিরে তিনি মনে মনে ভাবলেন,শিখনফল অর্জন না হলে পড়ানো শুধু শব্দের আয়োজন। আর শিখনফল অর্জিত হলে, শিক্ষা সত্যিই জীবন ছুঁয়ে যায়।

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আবারও তিনি শিক্ষক সংস্করণ খুললেন। পরের দিনের শিখনফল চোখে পড়তেই তাঁর ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল। কারণ তিনি জানেন—শিখনফলের আলোয় হাঁটলেই শিক্ষার পথ আলোকিত হয়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ