Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায়, ভর কোথা থেকে আসে?
ভৌত বিজ্ঞানের ভাষায় ভর কোথা থেকে আসে 

ভৌত বিজ্ঞানের ভাষায় ভর (Mass) কোথা থেকে আসে—এই প্রশ্নের উত্তর আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে বেশ গভীর ও আকর্ষণীয়।

সহজভাবে বললে, ভর আসে কণার মৌলিক ধর্ম এবং তাদের পারস্পরিক ক্রিয়া থেকে। এটিকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা যায়—

১. হিগস প্রক্রিয়া (Higgs Mechanism)

আধুনিক কণাপদার্থবিজ্ঞানে বলা হয়, মৌলিক কণাগুলোর ভরের একটি বড় অংশ আসে হিগস ক্ষেত্র (Higgs Field) থেকে।
সমগ্র মহাবিশ্ব জুড়ে এই হিগস ক্ষেত্র বিদ্যমান। কোনো কণা যখন এই ক্ষেত্রের সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া করে, তখন সে ভর অর্জন করে।
হিগস বোসন কণার আবিষ্কার (২০১২ সালে) এই তত্ত্বকে পরীক্ষামূলকভাবে সমর্থন করেছে।

২. শক্তি ও ভরের সমতুল্যতা

আইনস্টাইনের বিখ্যাত সমীকরণ
E = mc²
দেখায় যে ভর এবং শক্তি আসলে একই জিনিসের দুই রূপ। অর্থাৎ, কোনো সিস্টেমের ভর তার ভেতরের শক্তির ফলেও সৃষ্টি হতে পারে।

৩. প্রোটন ও নিউট্রনের ভরের উৎস

মজার বিষয় হলো, প্রোটন ও নিউট্রনের ভরের বেশিরভাগ অংশ কোয়ার্কগুলোর নিজস্ব ভর থেকে নয়।
বরং, কোয়ার্কগুলোর মধ্যে শক্তিশালী নিউক্লিয়ার বলের কারণে সৃষ্ট গতিশক্তি ও বন্ধনশক্তি থেকেই এই ভরের প্রধান অংশ আসে।

সংক্ষেপে

  • মৌলিক কণার ভর আসে হিগস ক্ষেত্রের সাথে ক্রিয়া থেকে

  • যৌগিক কণার ভর মূলত শক্তি ও পারস্পরিক বলের ফল

  • ভর ও শক্তি একে অপরের রূপান্তরযোগ্য

এই কারণেই আধুনিক ভৌত বিজ্ঞানে ভরকে শুধু “ওজন” হিসেবে নয়, বরং শক্তি ও ক্ষেত্রের গভীর প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়।

মন্তব্য করুন