সহকারী শিক্ষক
১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪২ অপরাহ্ণ
শেষ বিকেলের কোরাল মাছ!
শেষ বিকেলের কোরাল মাছ!
বিকেলের দিকে বাজারে গেলে আমার একটু আলাদা রকমের ভালো লাগা কাজ করে। আমাদের বাসার পাশেই বড় মাছের বাজার। প্রতিদিনই সেখানে ভিড়, ডাকাডাকি আর টাটকা মাছের গন্ধে ভরে থাকে চারপাশ। সেদিনও ঠিক তেমনই ছিল। সমুদ্র থেকে আসা মাছগুলো বরফের ওপর সাজানো, আর পাশেই নদীর মাছ—চেনা, আপন।
আমি সাধারণত সামুদ্রিক মাছের দিকেই আগে তাকাই। সেদিন হঠাৎ চোখে পড়ল এক ধরনের মাছ—লালচে রঙ, শরীরটা চকচক করছে। মাছওয়ালাকে জিজ্ঞেস করতেই সে বলল,
“কোরাল মাছ, ভাই। সমুদ্রের মাছ।”
নামটা শুনে থমকে গেলাম। কোরাল মাছ! আগে কখনো কিনিনি, কিন্তু নামটা একেবারে অচেনা নয়। অনেক রেস্টুরেন্টে এই মাছের নাম দেখেছি। কেন জানি সেদিন মাছটার দিকে তাকিয়ে মনটা কেমন করে উঠল। মনে হলো, আজ এটাই খেতে ইচ্ছে করছে।
মাছওয়ালা বলছিল, এই মাছ নাকি স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। কথা শুনতে শুনতেই মনে হলো,শুধু স্বাদের জন্য নয়, শরীরের জন্যও তো খাবার বেছে নেওয়া দরকার। একটু ভেবে আর দেরি না করে কোরাল মাছটাই নিলাম।
বাসায় ফিরে রান্নার সময় মাছটা ভালো করে দেখলাম। মাংস শক্ত, রঙ সুন্দর। রান্না হয়ে টেবিলে আসার পর প্রথম লোকমাটা মুখে দিয়েই বুঝলাম,এই মাছ আলাদা। স্বাদে হালকা, তেল কম, কিন্তু গভীর এক তৃপ্তি।খেতে খেতে মনে হলো, কোরাল মাছ শুধু সুস্বাদু নয়—এটা শরীরের জন্যও উপকারী। এতে আছে ভালো মানের প্রোটিন, যা শরীরকে শক্ত রাখে। সহজপাচ্য বলে শরীরেও কোনো ভার লাগে না।
সেদিনের সেই বিকেলের বাজার-যাওয়া আমার কাছে আর পাঁচটা দিনের মতো থাকেনি। কোরাল মাছের সাথে যেন নতুন এক স্বাদ আর নতুন এক অভিজ্ঞতা যোগ হয়ে গেল।
১৫
২৫ মন্তব্য