রংধনু হলো সূর্যের আলো বৃষ্টির কণার মধ্যে প্রতিসরণ (refraction) ও প্রতিফলনের (reflection) ফলে তৈরি হওয়া সাত রঙের এক প্রাকৃতিক আলোর খেলা, যা আকাশে এক বৃত্তাকার ধনুকের মতো দেখা যায় (যদিও এটি আসলে একটি পূর্ণ বৃত্ত)। এতে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, আকাশি (নীল) ও বেগুনি—এই সাতটি রং থাকে, যা সবসময় একই ক্রমে (বেনীআসহকলা) সাজানো থাকে এবং এটি পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে সূর্যের বিপরীত দিকে তৈরি হয়।
রংধনু তৈরির মূল কারণ:
- আলোর প্রতিসরণ ও প্রতিফলন: সূর্যের আলো যখন বৃষ্টির ফোঁটার মধ্যে প্রবেশ করে, তখন বেঁকে যায় (প্রতিসরণ), ফোঁটার ভেতরের পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয় এবং আবার বেরিয়ে আসার সময় প্রতিসৃত হয়, ফলে আলোকরশ্মি ভেঙে সাতটি রঙে বিভক্ত হয়ে যায়।
রংধনুর বৈশিষ্ট্য:
- সাতটি রং: বেনীআসহকলা (বেগুনি, নীল, আকাশি/নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল) এই ক্রমে থাকে, যেখানে লাল থাকে বাইরের দিকে এবং বেগুনি থাকে ভেতরের দিকে।
- বৃত্তাকার আকৃতি: এটি আসলে একটি পূর্ণ বৃত্তাকার আলোকবৃত্ত, তবে মাটি থেকে দাঁড়ালে আমরা কেবল উপরের অংশটুকু দেখি।
- অবস্থান: রংধনু সবসময় দর্শকের ঠিক বিপরীত দিকে তৈরি হয়, যেখানে সূর্য থাকে সামনে।
দ্বৈত রংধনু (Double Rainbow):
- মাঝে মাঝে প্রাথমিক রংধনুর বাইরে আরেকটি কম উজ্জ্বল রংধনু দেখা যায়, যার রংগুলো বিপরীত ক্রমে সাজানো থাকে (লাল থাকে ভেতরের দিকে)। এটি ঘটে যখন আলো বৃষ্টির ফোঁটার ভেতরে দুবার প্রতিফলিত হয়।
৪
৪ মন্তব্য