সহকারী শিক্ষক
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
গৌতম বুদ্ধ আর রাজহংসী
গৌতম বুদ্ধ আর রাজহংসী!
তখন খুব ছোট আমি! সম্ভবত ফাইভে পড়ি। আমার একটা বাজে অভ্যাস ছিল,পথে ভালো কোনো কাগজ পেলেই পড়তে ইচ্ছে করত। আমাদের গ্রামে হাট বসত সোমবার। তাই মঙ্গলবার ভোরে উঠোন-রাস্তার ধারে বেশি কাগজ পাওয়া যেত।
সেই দিনটাও তাই। সকালে উঠে বাড়ির পাশেই একটা কাগজ চোখে পড়ল। কাগজটা একটু ময়লা, ভাঁজ পড়া। মাঝখানে একটা ছবি,শান্ত চোখ, মৃদু হাসি। নিচে লেখা: গৌতম বুদ্ধ।
পড়তে শুরু করলাম।
লেখা ছিল—একদিন জঙ্গলে গিয়ে গৌতম বুদ্ধ দেখলেন, এক শিকারী একটি রাজহাঁস শিকার করেছে। তীর লেগে রাজহাঁসটি মাটিতে পড়ে ছটফট করছে। শিকারীর চোখে আনন্দ, আর রাজহাঁসটির চোখে অসহায় ভয়।
বুদ্ধ কাছে গিয়ে বললেন,
“যে প্রাণ কষ্ট পাচ্ছে, সে কার?”
শিকারী বলল,
“আমি শিকার করেছি। তাই এটি আমার।”
বুদ্ধ শান্ত কণ্ঠে বললেন,
“কিন্তু যে সেবা করে, যে প্রাণ বাঁচায়,তার অধিকার কি নেই?”
তখন দেখা গেল, পাশের গ্রাম থেকে এক যুবক দৌড়ে এসেছে। সে রাজহাঁসটিকে কোলে তুলে ক্ষতস্থানে পাতা বেঁধে দিয়েছে। রাজহাঁসটির কাঁপুনি ধীরে ধীরে কমে এলো।
বুদ্ধ বললেন,
“যে হত্যা করতে চায়, সে কি প্রকৃত মালিক? নাকি যে বাঁচাতে চায়?”
শিকারী চুপ করে গেল। রাজহাঁসটি যুবকের কোলে মাথা গুঁজে থাকল।
আমি তখন কাগজটা নামিয়ে আকাশের দিকে তাকালাম। আমাদের গ্রামের ওপর দিয়ে মাঝেমধ্যে রাজহাঁস উড়ে যেত। মনে হলো,ওরা শুধু পাখি নয়, ওরা প্রাণ।
সেদিন প্রথম বুঝেছিলাম, শক্তি মানে আঘাত করা নয়; শক্তি মানে রক্ষা করা। ধর্ম মানে শুধু উপাসনা নয়; ধর্ম মানে করুণা।
কাগজটা ভাঁজ করে যত্ন করে বইয়ের ভেতর রেখে দিয়েছিলাম। অনেক বছর পর কাগজ হারিয়েছে, কিন্তু রাজহাঁস আর বুদ্ধের সেই গল্প আজও মনে রয়ে গেছে।
যেখানে জয়ের মানে হত্যা নয়,
জয়ের মানে জীবন বাঁচানো।
১৫
২৫ মন্তব্য