সহকারী শিক্ষক
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ
শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু বর্তমান সময়ে শিক্ষা ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক পণ্যে রূপ নিচ্ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে নৈতিক, মানবিক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা; অথচ এখন অনেক ক্ষেত্রে লাভ-লোকসানের হিসাবই প্রধান হয়ে উঠছে।
শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালিত হয়। উচ্চ ফি, অতিরিক্ত কোচিং, গাইড বই ও প্রাইভেট টিউশনের উপর নির্ভরতা সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষাকে ব্যয়বহুল করে তুলেছে। এতে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে এবং শিক্ষায় বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ধরনের বাণিজ্যিক মনোভাব শিক্ষার মানের ওপরও প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল বা সার্টিফিকেট পাওয়াই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়, প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন গৌণ হয়ে যায়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক—তিন পক্ষই এক ধরনের মানসিক চাপে পড়ে, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকলেও নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ দুর্বল হয়ে পড়ে।
তবে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধ করা অসম্ভব নয়। সরকারের কার্যকর নীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা এবং সমাজের সচেতনতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষাকে যদি সত্যিকার অর্থে মানবসম্পদ উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, শিক্ষা কখনোই কেবল ব্যবসার মাধ্যম হতে পারে না। শিক্ষা হওয়া উচিত মানবিকতা, নৈতিকতা ও জ্ঞানচর্চার আলোয় আলোকিত একটি পথ, যা ব্যক্তি ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
১
২ মন্তব্য