Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৫০ পূর্বাহ্ণ

আমার চোখে সেরা চার ফেভারিট!

আমার চোখে সেরা চার ফেভারিট! 


টি–২০ বিশ্বকাপ আসলে কোনো টুর্নামেন্ট নয়,

এটা একটা ঋতু।

যেমন বর্ষা আসার আগে বাতাসে কাঁচা মাটির গন্ধ ভেসে আসে,

তেমনি বিশ্বকাপের আগে নাকে এসে লাগে চার ছক্কার মিষ্টি ঘ্রাণ।

বলগুলো কানে শিস কাটে।

গ্যালারির হই হই বুকের ভেতর ঢেউ তোলে।

মনে হয়—

এই বুঝি Travis Head কাভার ভেঙে মারল,

এই বুঝি Tim David আকাশে তুলে দিলো আরেকটা বল।

আর দূর থেকে কে যেন ফিসফিস করে বলে—

বিশ্বকাপ এসে গেছে।

অস্ট্রেলিয়া 

বড় টুর্নামেন্ট মানেই অস্ট্রেলিয়া।

এটা কোনো বিশ্লেষণ নয়, এটা অভ্যাস।

যেন ক্রিকেট নামক খেলাটার শরীরে তাদের ডিএনএ মিশে আছে।

তাদের দলে সব থাকে—

নির্দয়তা, ধৈর্য, হিসেব আর হঠাৎ ঝড়।

অস্ট্রেলিয়া খেলতে নামলে মনে হয়,

ওরা জিততে শেখেনি—

ওরা জিততেই জন্মেছে।


ভারত 

ভারত আমার দ্বিতীয় ভালোবাসা।

এই ভালোবাসা আগুনের।

ওদের ব্যাটে যেন আগুন জ্বলে—

উইকেট পড়লেও ভয় নেই,

কারণ পরের ব্যাটসম্যানও জানে কীভাবে ভয়কে ছক্কায় বদলাতে হয়।

ভারত খেললে দর্শকরা শুধু খেলা দেখে না,

তারা স্বপ্ন দেখে।


আফ্রিকা 

দক্ষিণ আফ্রিকা—

একটি নিখুঁত দল,

যাদের শুধু ভাগ্যটাই নিখুঁত নয়।

বোলিং আছে, ব্যাটিং আছে, ফিল্ডিং তো শিল্প।

তবু শেষ মুহূর্তে কোথায় যেন গল্পটা থেমে যায়।

এই দলটা আমাকে শেখায়—

সব ঠিক থাকলেও সব হয় না।


ইংল্যান্ড—

টেস্টের দেশে জন্ম নেওয়া টি–২০ বিপ্লবীরা।

ওদের ব্যাটিং দেখে মনে হয়,

ভদ্রতার পোশাক খুলে ক্রিকেট হঠাৎ উন্মাদ হয়ে উঠেছে।

Harry Brook–এর ব্যাটে আগুন,

আর দূর থেকে ছুটে আসে Jofra Archer–এর গতির হুংকার।

এই দলটা কখন যে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয়, বোঝা যায় না।

বিশ্বকাপ তাই শুধু ট্রফির লড়াই নয়।

এটা স্মৃতির সঙ্গে স্মৃতির সংঘর্ষ।

শৈশবের রেডিও,

রাত জেগে খেলা দেখা,

আর পরদিন স্কুলে গিয়ে চোখ লুকানোর গল্প।

আমি আশা করি—

এই চার দলের বাইরে গল্প খুব বেশি বদলাবে না।

তবু ক্রিকেটের সৌন্দর্য এখানেই—

সে কথা শোনে না,

সে নিজের গল্প নিজেই লেখে।

অগ্রীম শুভকামনা রইল মাঠে নামা প্রতিটি দলের জন্য।

আর আমাদের জন্য,

আরেকটা স্মরণীয় বিশ্বকাপ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ