পরনিন্দা বা গীবত থেকে বাঁচার জন্য ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও নৈতিকতার আলোকে কিছু কার্যকর উপায় নিচে দেওয়া হলো:
১. আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) অর্জন করা: সর্বদা মনে রাখা যে আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কথা শুনছেন। গীবত করা নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমান অপরাধ। আল-কুরআন, ৪৯:১২
২. নিজের দোষ তালাশ করা: অন্যকে নিয়ে সমালোচনা করার আগে নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবুন। নিজের সংশোধনে ব্যস্ত থাকলে অন্যের দোষ ধরার সময় পাওয়া যায় না।
৩. চুপ থাকার অভ্যাস করা: অপ্রয়োজনীয় কথা পরিহার করুন। রাসুল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
৪. আড্ডা বা সঙ্গ পরিবর্তন করা: যদি কোনো মজলিসে কারো গীবত শুরু হয়, তবে তা বিনয়ের সাথে থামিয়ে দিন। যদি থামাতে না পারেন, তবে সেখান থেকে উঠে চলে যান।
৫. পরনিন্দার পরিণাম মনে রাখা: পরনিন্দা করলে নিজের অর্জিত নেকি বা পুণ্য সেই ব্যক্তির আমলনামায় চলে যায় যার নিন্দা করা হয়েছে। পরকালের এই কঠিন ক্ষতির কথা চিন্তা করুন।
৬. যাকে নিয়ে নিন্দা করা হচ্ছে তার জন্য দোয়া করা: কারো প্রতি ঘৃণা বা ক্ষোভ থেকে গীবত সৃষ্টি হয়। তাই কারো প্রতি নেতিবাচক ধারণা আসলে তার অগোচরে তার মঙ্গলের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।
৭. অজুহাত খুঁজে বের করা: কারো কোনো কাজ খারাপ লাগলে তার পক্ষে কোনো যৌক্তিক কারণ বা অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করুন। ইতিবাচক চিন্তা গীবত থেকে রক্ষা করে।
৮. জিহ্বার নিয়ন্ত্রণ চাওয়া: প্রতিদিন সকালে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেন আপনার মুখ দিয়ে কারো ক্ষতি না হয়। সুন্নাহ ডট কম থেকে বিভিন্ন মাসনুন দোয়া শিখতে পারেন।
১৫
২৫ মন্তব্য