সহকারী শিক্ষক
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:০৩ অপরাহ্ণ
লিফটের সেদিন ও চিরকুট!
লিফটের সেদিন ও চিরকুট!
সেদিন হঠাৎ লিফটে একটা সুন্দরী মেয়ে উঠল। লিফটে তখন রূপম আর তার বড় আপা। রুপম মুচকি হেসে দিল। মেয়েটিকে সে আগে কখনো দেখিনি। ওদের বাসায় এই কদিন হলো এসেছে। শুনেছে থার্ড ফ্লোরে এসেছে।
লিফটটা ধীরে ধীরে উপরে উঠছিল। ভেতরে অদ্ভুত এক নীরবতা—যেন শব্দগুলোও দেয়ালে ঠেসে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটি আয়নার দিকে তাকিয়ে ছিল, চোখে হালকা ক্লান্তি, ঠোঁটে অচেনা শহরের ছাপ।
রূপম আবার তাকাল। এইবার চুরি করে। মনে হলো মেয়েটি টের পেল, কিন্তু কিছু বলল না। শুধু ঠোঁটের কোণে একফোঁটা হাসি জমে উঠল,ঠিক হাসি না, আবার নির্লিপ্তও না।
বড় আপা হঠাৎ গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,নতুন এসেছেন বুঝি?
মেয়েটি ঘুরে তাকাল।
জি, এই কদিন হলো। থার্ড ফ্লোরে।
কণ্ঠস্বরটা খুব সাধারণ, কিন্তু সেই সাধারণত্বেই যেন আলাদা কিছু ছিল। রূপমের মনে হলো, এই কণ্ঠ সে আগে কোথাও শুনেছে,হয়তো কোনো বিকেলের বাতাসে, অথবা কোনো অচেনা গানের লাইনে।
লিফট থামল থার্ড ফ্লোরে। দরজা খুলতেই মেয়েটি এক পা বাইরে রাখল, আবার হঠাৎ থেমে গেল।
আচ্ছা… লিফটটা মাঝে মাঝে নষ্ট হয় নাকি?
রূপম এবার সাহস করে বলল,
হয়। তবে ভয় পাওয়ার মতো কিছু না। আমরা আছি তো।
মেয়েটি হালকা হেসে মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল। দরজা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রূপম দেখল,সে একবার পেছনে তাকাল। ঠিক তাকানো না, যেন নিশ্চিত হওয়া,এই মুখগুলো সে আবার দেখবে কি না।
লিফট আবার উঠতে শুরু করল। বড় আপা মুচকি হেসে বলল,
নাম কী জিজ্ঞেস করলি না তো?
রূপম কিছু বলল না। শুধু মনে মনে ভাবল—নাম জানার তাড়া নেই। কোনো কোনো পরিচয় নাম ছাড়াই শুরু হয়।
আজ লিফটে।
কাল হয়তো সিঁড়িতে।
আর একদিন… কে জানে, বারান্দার রোদে।
তার কিছুদিন পর মেয়েটি বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। যাওয়ার আগে ব্যালকনি থেকে একটা সাদা কাগজ রূপমের দিকে ছুড়ে মারল!
আজ চলে যাচ্ছি,এই শহর ছেড়ে! ভালো থাকবেন, অনেক মিস করব। অল্প দিনেই অনেক বেশি মায়া পড়ে গেছে!
১
১ মন্তব্য