সহকারী শিক্ষক
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ
ক্যাসেট ও বর্তমান শিক্ষার্থী
ক্যাসেট
ফেরদাউস রুমেল
শীতকাল। বছরের শুরু। নতুন শিক্ষা বর্ষ। বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়ে নিয়ে ক্লাসে আলোচনা হয়। ক্লাসে ছোট্ট শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকে অসীম। তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশিত করার ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা তেমন খুঁজে পাই না।
এখনও ক্লাস শুরু হয়নি। স্কুলের বারান্দায় দেখি ছাত্র-ছাত্রীদের জটলা। জানি না কীসের জটলা। কী নিয়ে আলোচনা করছে বুঝার৷ চেষ্টা করলাম। সবাই মনোযোগ সহকারে দেখছে কী যেন।
নানাবিধ মন্তব্য একে অপরে করছে।
কাছে গিয়ে দেখি তাদের কাছে একটা ক্যাসেট। টেপ রেকর্ডার।
কখনও তারা এটা দেখিনি। এমনভাবে তারা দেখছে মনে হয় ভিনগ্রহ থেকে জিনিসটা এই প্রথম পৃথিবীতে এসেছে। পাতলা ফিতা।
"এটা কী?"
"কখনও দেখিনি"
"কোথায় পেলি?"
"নানা বাড়ি"
"দেখি"
“এটা মেশিন"
"এটা বাজানো যায়।"
"মোবাইল এটা"
“কত দাম"
১ লক্ষ টাকা"
"আমার কাছে বিক্রি করবি?"
"না না"
"এট কীভাবে বাজায়?"
“জানি না"
“আমাকে দে।"
না"
এসব নানান কথা বলছে।
আমাকে দেখে সবাই প্রায় এক সাথে প্রশ্ন করলো"এটা কী?
"এটা একটা ক্যাসেট।"
কী করে? স্যার। স্যার, আপনার কমপিউটার দিয়ে চালানো এটা।"
তাদের কথা শুনে অবাক। কখনও দেখিনি এটা।
অথচ কয়েক দশক আগে এটা ছিলো সবার প্রিয় ও পরিচিত জিনিস।
বর্তমান সময়ে এই আধুনিক সভ্যতায় এসে কয়েক দশক আগের জিনিসকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। নতুন কোনো আবিষ্কার মনে হয় তাদের কাছে। কীভাবে ক্যাসেটের মাঝে গান থাকে তা নিয়ে বিস্তার গবেষণা শুরু করে দিলো খুদে শিক্ষার্থীরা।
তাদের বুঝিয়ে দিলাম ক্যাসেটের কথা।
কয়েক বছর আগে ক্যাসেট দিয়ে বাজানো হতো গান, নাটক আরো কত কী! টেপ রেকর্ডের মাধ্যমে বাজানো হত। ফিতায় চুম্বকীয় শক্তি কাজে লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হতো গান। কথা।
১৯৩০ সালে প্রথম চালু হয় এই ক্যাসেট। যাতে থাকে লম্বা ফিতা।
শিক্ষার্থীদের কাছে কথাগুলো একদম নতুন।
তাদের আগ্রহের শেষ নেই। এটা নিয়ে। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে এটা কী? ভাবতে থাকে। কমপিউটার দিয়ে হয়ত চালানো যাবে।
আধুনিক সভ্যতা আমাদের পরিচয়কে ভুলিয়ে দিতে শুরু করেছে। আমাদের চিন্তাভাবনাকে সীমিত করে দিচ্ছে। এই এআই যুগে ক্যাসেট একটি মহা বিস্ময়ের ঠিকানা।
১
১ মন্তব্য