Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ণ

খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব পড়ছে পুরুষদের ফার্টিলিটিতে

বর্তমান সময়ে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল বংশগত কারণ বা পরিবেশ দূষণই নয়, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অনেক পরিচিত খাবারও অজান্তেই শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমিয়ে দিচ্ছে। সুস্থ জীবনযাপন এবং ভবিষ্যতে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু খাবার শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রজনন সক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত মাংস। সসেজ, সালামি, বেকন কিংবা ক্যানজাত মাংসে থাকা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট শুক্রাণুর স্বাভাবিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে শুক্রাণুর গুণগত মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

অতিরিক্ত চিনি ও সফট ড্রিঙ্কসও প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সোডা ও এনার্জি ড্রিঙ্কস শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে, যা শুক্রাণুর গতিশীলতা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি স্থূলতা বাড়িয়ে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ বাড়াতে পারে।

সয়াবিন ও সয়া জাতীয় খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সয়াবিনে থাকা আইসোফ্ল্যাভোনস উদ্ভিদজাত ইস্ট্রোজেন হিসেবে কাজ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে শুক্রাণুর ঘনত্ব কমাতে পারে।

ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া খাবার এবং ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাদ্য রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং প্রজনন অঙ্গের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে।

এ ছাড়া প্লাস্টিক পাত্রে সংরক্ষিত বা গরম করা খাবারেও ঝুঁকি রয়েছে। প্লাস্টিকের বিসফেনল-এ নামক রাসায়নিক হরমোনের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে জিঙ্ক ও ফলিক এসিডসমৃদ্ধ খাবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত ফল ও বাদাম এবং নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ দিচ্ছেন। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করলে কয়েক মাসের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

সিএ/এমআর

মন্তব্য করুন

ব্লগ