Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ-১ স্যাটেলাইট

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্যাটেলাইট 

১১ মে, ২০১৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হয়। এটি একটি জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট, যা ফ্রান্সের 'থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস' তৈরি করেছে এবং 'স্পেসএক্স'-এর রকেটে করে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত এই স্যাটেলাইটটি বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সেবা দিতে সক্ষম। এর ফলে টেলিচিকিৎসা, ই-শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, ডিটিএইচ এবং দুর্যোগকালীন জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়েছে। গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

 

বাংলাদেশ-১ স্যাটেলাইটের সুফল 

এখন দেশে প্রায় ৩০টি স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্প্রচারে আছে। এসব চ্যানেল সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রতি মাসে একটি চ্যানেলের ভাড়া বাবদ ব্যয় হয় তিন থেকে ছয় হাজার মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে বছরে চ্যানেলগুলোর খরচ হয় ২০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট চালুর ফলে এই ব্যয়ের পরিমাণ কম হবে। এছাড়াও এ স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি ভাড়া দিতে পারবে। ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে এই স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার বিক্রির জন্য বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি (বিসিএসসি) লিমিটেড কাজ শুরু করেছে। এছাড়াও আরও যা সুফল পাওয়া যাবে তা হলো- এ স্যাটেলাইটের সক্ষমতা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও সাশ্রয় দুটিই করা যাবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। দূর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনায় দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

বর্তমান বাংলাদেশ টেলিভিশনের তিনটি চ্যানেলসহ আরও বেসরকারি ছয়টি চ্যানেল এখন বাংলাদেশ-১ স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে তাদের ট্রান্সমিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বেসরকারি ছয়টি চ্যানেল- দীপ্ত টিভি, সয়ম টিভি, যমুনা টিভি, বিজয় বাংলা, বাংলা টিভি, মাইটিভি আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ-১ স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। 

মন্তব্য করুন