Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৫:১৪ অপরাহ্ণ

দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য

বিদ্বান হলেও দুর্জন ব্যক্তি পরিত্যাজ্য"—এটি একটি সুপরিচিত নীতিবাক্য। এর মূল অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি অনেক জ্ঞান বা পাণ্ডিত্যের অধিকারী হলেও যদি তার চরিত্র খারাপ হয় বা তিনি মানসিকভাবে কুটিল হন, তবে তাকে এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। 

এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

১. জ্ঞানের অপব্যবহার: জ্ঞান একটি শক্তির মতো। একজন সজ্জন ব্যক্তি জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেন, কিন্তু একজন দুর্জন বা মন্দ ব্যক্তি তার পাণ্ডিত্যকে অন্যের ক্ষতি করতে বা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কূটকৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন।

২. বিষধর সাপের উদাহরণ: সংস্কৃত নীতিশাস্ত্রে একটি চমৎকার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে— "মণিনা ভূষিতঃ সর্পঃ কিমসৌ ন ভয়ঙ্করঃ?" অর্থাৎ, সাপের মাথায় মণি থাকলেও সে কি কম ভয়ঙ্কর? ঠিক তেমনি, একজন মন্দ মানুষ শিক্ষিত হলেও তার ভেতরের ‘বিষ’ বা মন্দ স্বভাব অন্যের জন্য সবসময়ই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মণি যেমন সাপের বিষাক্ত দাঁতকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে না, বিদ্যাও তেমনি দুর্জনের খারাপ স্বভাবকে দমন করতে পারে না। 

৩. সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব: দুর্জনের সাথে মেলামেশা করলে তার চারিত্রিক কলুষতা অন্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তার বিদ্যা আপনাকে সাময়িকভাবে মুগ্ধ করলেও দীর্ঘমেয়াদে তার অসততা বা নীচতা আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে।

৪. আসল শ্রেষ্ঠত্ব চরিত্রে: প্রকৃত মানুষের পরিচয় তার বিদ্যায় নয়, বরং তার বিনয় ও চরিত্রে। যার চরিত্রে সততা নেই, তার অর্জিত সকল ডিগ্রি বা পাণ্ডিত্য মূল্যহীন। 

উপসংহার:

বিদ্যা মানুষকে বিনয়ী করে, কিন্তু যদি তা অহংকার বা অনিষ্টের কারণ হয়, তবে সেই বিদ্বান ব্যক্তি সমাজের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ান। তাই নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তির জন্য মন্দ স্বভাবের বিদ্বান ব্যক্তিকে ত্যাগ করা বুদ্ধিমানের কাজ। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ