সহকারী অধ্যাপক
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ণ
হিদায়াতের কিতাব - মোঃ মুজিবুর রহমান
হিদায়াতের কিতাব
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
এই সেই কিতাব—অটল সত্যের ধ্বনি,
যাতে নেই সন্দেহের ছায়া, নেই ভ্রান্তির বাণী।
মুত্তাকীদের পথের দীপ, অন্ধকারে আলোক,
রবের দান, রহমতের ডাক—চিরকল্যাণের লোক।
গায়েবের প্রতি ঈমান তাদের হৃদয়ে দীপ্তিমান,
চোখে না দেখেও মানে তারা রবের ফরমান।
অদৃশ্য সত্যে আস্থা রাখে দৃঢ় বিশ্বাসে,
আখিরাতের বিচার দিনে অবিচল প্রত্যাশে।
সালাত কায়েম করে তারা ভক্তির অনুরাগে,
সময়-নিয়মে সিজদায় ঝুঁকে রবেরই লাগ্যে।
নামাযে গড়ে আত্মশুদ্ধি, চরিত্রের বাঁধন,
প্রতিটি রাকাতে জাগে তাওহীদের সাধন।
আমি যে রিযিক দিয়েছি—তা থেকে ব্যয় করে,
লাভ-লোভ নয়, দান করে সন্তুষ্টি ধরে।
গোপনে-প্রকাশ্যে খরচে থাকে না সংকোচ,
কারণ দাতার হাতে রিযিক—এটাই তাদের বোধ।
তারা ঈমান আনে যা নাযিল হয়েছে তোমার প্রতি,
আর পূর্ববর্তী নবীদের ওহিতেও রাখে ভক্তি।
কিতাবের ধারাবাহিকতায় দেখে এক সত্যধারা,
সব রাসূলের দাওয়াত যে এক—এই বোধে তারা পারা।
আখিরাতের প্রতি তাদের ইয়াকীন অটল,
সন্দেহের ঢেউ সেখানে পায় না কোনো চল।
হিসাবের দিনে মিলবে ন্যায়—এই বিশ্বাসে বলীয়ান,
সেই বিশ্বাসেই সংযত হয় জীবন-চিন্তাধারা মহান।
তারাই রয়েছে রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের পথে,
অন্ধকার ছেড়ে চলেছে আলোরই রথে।
তারাই সফলকাম—দুনিয়া ও পরকালে,
শান্তি আর মুক্তির সংবাদ বহন করে কালে কালে।
***
এই সেই কিতাব—সন্দেহহীন,
সত্যের দীপ, অটল, সুদৃঢ়ীন।
মুত্তাকীর পথ, আলোর ধারা,
ভ্রান্তির তিমির ছিন্ন করা।
গায়েব মানে দৃঢ় বিশ্বাসে,
অদৃশ্য সত্য হৃদয়বাসে।
চোখে না দেখে মানে যারা,
রবের হুকুম মান্য তারা।
সালাত কায়েম সময়-বাঁধা,
ভক্তির ছন্দে জীবন সাধা।
রুকু-সিজদায় নত যে প্রাণ,
তারই জীবনে খোদার মান।
দত্ত রিযিক যাহা পেয়েছে,
তা থেকেই দান নির্ভয়ে গেছে।
লোভ নয়, কৃপণতা দূর,
দানেই তারা করে নূর।
যা নাযিল হলো তোমার প্রতি,
তাতে তাদের ঈমান স্থিতি।
পূর্বের কিতাব, নবীর বাণী,
সবখানেই এক সত্য জানি।
আখিরাতে ইয়াকীন অচল,
সন্দেহ সেখানে মৃত, অচল।
হিসাবের দিন চোখে ভাসে,
কর্মের ভার হৃদয় চাষে।
রবের হিদায়াত যাদের সাথে,
তারা চলে আলোরই পথে।
সফল তারা—দুই জাহানে,
রহমত বর্ষে ক্ষণে ক্ষণে।
***
এই সেই কিতাব—চিরসত্যের দলিল,
যার বুকে সন্দেহ নেই, নেই কুহক-জালিল।
নভোমণ্ডল ফুঁড়ে নেমে আসা নূরের ধারা,
মুত্তাকীর পথরেখা, মুক্তির দিশা তারা।
এ গ্রন্থ নয় কেবল অক্ষরের সমাহার,
এ হৃদয় ভাঙার হাতুড়ি, আত্মার উদ্ধার।
যে পড়ে ভয়-ভক্তিতে, সে পায় পরিচয়,
নিজের ক্ষুদ্রতা বুঝে রবের মহিমায় রয়।
গায়েবের প্রতি ঈমান—তাদের প্রথম পতাকা,
অদৃশ্য সত্যে বিশ্বাসই জীবনের ভাষা।
চোখে যা ধরা পড়ে না, তবু মানে অন্তর,
কারণ রবের বাণী সত্য—চিরন্তন, নির্ভর।
আসমানের খবর, কবরের ডাক,
হাশরের মাঠ, মিজানের ফাঁক—
সবই তাদের কাছে জীবন্ত চিত্র,
বিশ্বাসে গড়া এক অটল মিত্র।
সালাত কায়েম—তাদের দিনের মেরুদণ্ড,
সময়ের শৃঙ্খলায় বাঁধা আত্মার বন্ধন।
ফজরের আলো থেকে এশার নিস্তব্ধতা,
প্রতিটি সিজদায় ঢালে অহংকারের মস্তকতা।
রুকুতে ভাঙে দাম্ভিকতার শিরদাঁড়া,
সিজদায় মুছে যায় আত্মগর্বের কারা।
নামাযে তারা পায় আত্মার শুদ্ধ জল,
যা ধুয়ে নেয় পাপের ধূলি, ক্লান্তির কল।
আমি যে রিযিক দিয়েছি—সে ধন, সে শক্তি,
সে জ্ঞান, সে সময়, সে প্রাণের ভক্তি—
তা থেকে তারা ব্যয় করে নিঃসংকোচে,
দানেই তারা বোঝে মালিকানা কার হাতে আছে।
কৃপণতার শিকল ভেঙে দেয় ঈমান,
দানেই প্রসারিত হয় হৃদয়ের আকাশমান।
গোপনে দান, প্রকাশ্যে কল্যাণ,
তাদের হাতে রিযিক শুধু আমানতমান।
যা নাযিল হয়েছে তোমার প্রতি—কুরআনের কালাম,
তাতে তাদের ঈমান অটল, অবিরাম।
আর যা নাযিল হয়েছিল পূর্ব নবীগণের কাছে,
তাতেও বিশ্বাস—কারণ সত্য এক ধারায় বাঁচে।
নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসার আহ্বান,
সবখানেই এক রব, এক তাওহীদের গান।
কালাম বদলায়, যুগ ঘোরে, শরীয়ত রূপ পায়,
কিন্তু সত্যের উৎস এক—এটাই তারা জানায়।
আখিরাতের প্রতি ইয়াকীন—তাদের চূড়ান্ত ভিত্তি,
সন্দেহ সেখানে নেই, নেই দ্বিধার স্থিতি।
কবরের নিস্তব্ধতা, হাশরের হুংকার,
সবই তাদের চোখে বাস্তব—ভবিষ্যৎ বর্তমানাকার।
হিসাবের দিন—যেখানে লুকাবার পথ নেই,
যেখানে আমল কথা বলে, আত্মীয়তা নয় সেই।
এই বিশ্বাসেই তারা সংযত, ন্যায়পরায়ণ,
এই বিশ্বাসেই গড়ে ওঠে চরিত্র মহান।
তারা রয়েছে রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের উপর,
পা রাখে যেখানে আলো, সরে যায় তিমির ঘোর।
ঝড় আসে, ফিতনা আসে, পথ কাঁপে বারবার,
হিদায়াতের রশিতে তারা থাকে দৃঢ় ধার।
তারাই সফলকাম—এ নয় দুনিয়ার মাপকাঠি,
এ সফলতা মাপে জান্নাত, রবের সন্তুষ্টি।
শান্তি তাদের অন্তরে, মর্যাদা পরকালে,
রহমতের ছায়া তাদের ঘিরে থাকে কালে কালে।
এই সেই কিতাব—যে ডাকে যুগে যুগে,
“ফিরে এসো রবের পথে, বিভ্রান্তি ত্যাগ করে।”
যে শোনে এই ডাক, সে হারায় না পথ,
কারণ হিদায়াতই তার চূড়ান্ত রথ।
১৫
২৫ মন্তব্য