Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:২৫ অপরাহ্ণ

Database management system


  • ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম | Database Management system 

    ডেটাবেজ হচ্ছে তথ্য ব্যবস্থাপনার প্রোগ্রাম। ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হচ্ছে হচ্ছে এমন একটি সফটওয়্যার যেখানে ডেটাবেজ তৈরি করা হয়, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা হয়, ডেটাবেজের প্রচুর পরিমাণ তথ্য একসঙ্গে সংরক্ষণ করা যায়, দরকারি তথ্য বের করা যায়, নতুন তথ্য যোগ করা যায়, প্রয়োজনমতো কোনো তথ্য পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও মুছে ফেলা যায় এবং ডেটাবেজ পরিচালনা করা যায়। DBMS ব্যবহারকারী এবং ডেটাবেজের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে।

     Show Table of Content 

    ডেটাবেজ (Database)

    ডেটাবেজ শব্দের অর্থ উপাত্ত ঘাঁটি। পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত ডেটা বা তথ্যের সমষ্টিকে ডেটাবেজ (Database সংক্ষেপে DB) বলে। কোন বিষয়ের উপর সম্পর্কযুক্ত উপাত্তসমূহ কম্পিউটারে সুর্গঠিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন টেবিলে সংরক্ষণ করা হয়, তখন ঐ টেবিলের সমষ্টিকে বলা হয় ডেটাবেজ। যেমন- কোন কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ফাইলের রেকর্ডসমূহ ডেটাবেজ ফাইলে সংরক্ষণ করা যায়। অর্থাৎ ডেটাবেজ হচ্ছে ডেটাসমৃদ্ধ এক বা একাধিক ফাইলের সমষ্টি। যেমন- গ্রীনিচ ওয়ার্ল্ড, উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া ইত্যাদি। ডেটাবেজ ব্যবহার করলে ডেটাকে আপডেট করা যায়, ডেটার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়, সাধারণ ফাইল সিস্টেমের তুলনায় ডাটাবেজে মেমোরী খরচ কম হয়।

    গঠন অনুযায়ী ডেটাবেজকে দু'ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
    ক) সাধারণ ডেটাবেজ : শুধুমাত্র একটি টেবিল বা পরস্পর সম্পর্কবিহীন একাধিক টেবিলের সমন্বয়ে গঠিত।
    খ) সম্পর্কযুক্ত বা রিলেশনাল ডেটাবেজ : পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক টেবিলের সমন্বয়ে গঠিত ডেটাবেজ।

    ডেটাবেজকে মোটাদাগে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
    ক) রিলেশনাল ডেটাবেজ (Relational Database): প্রায় ৫০ বছরের পুরাতন ।
    খ) নোএসকিউএল (NoSQL): অপেক্ষাকৃত নতুন। ওয়েবভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে ।

    ডেটাবেজের লজিক্যাল ডিজাইনকে স্কিমা (Schema) বলা হয় স্কিমা তিন ধরনের হয়, যথা: ফিজিক্যিাল স্কিমা, লজিক্যাল স্কিমা ও ভিউ স্কিমা। ডেটাবেজ ডিজাইনে দুই ধরনের অ্যাপ্রোচ ব্যবহার করা হয় যেমন: টপ-ডাউন অ্যাপ্রোচ ও বটম আপ অ্যাপ্রোচ। টপ-ডাউন অ্যাপ্রোচ এ সাধারণ থেকে শুরু হয়ে নির্দিষ্ট গঠন প্রক্রিয়ায় যায় আর বটম-আপ অ্যাপ্রোচ এ নির্দিষ্ট বিশদ দিয়ে শুরু হয় এবং সাধারণের দিকে চলে যায়।

    ডেটাবেজের উপাদান

    ডেটা, ফিল্ড, রেকর্ড, ডেটা টেবিল ইত্যাদি হলো ডেটাবেজের উপাদান ।

    ডেটাবেজের উপাদান

    ডেটা (Data): Data শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Datum -এর বহুবচন। Datum অর্থ হচ্ছে তথ্যের উপাদান। প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত অসংঘবদ্ধ তথ্যকে বলা হয় ডেটা। সরবরাহকৃত ডেটা থেকে প্রক্রিয়াকরণের পর যে ফলাফল পাওয়া যায় তাকেই বলা হয় তথ্য (Information)। তথ্যের অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্রতর অংশসমূহ হচ্ছে ডেটা বা উপাত্ত। সকল তথ্যই ডেটা কিন্তু সকল ডেটাই তথ্য নয়। যেমন- কোন ছাত্রের পরীক্ষার ফলাফল হলো তথ্য। কোন ছাত্রের রোল নং, নাম, শাখা ও বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষার নম্বর হলো ডেটা।

    ডেটা

    ডেটা টেবিলের বিভিন্ন ফিল্ডে আমরা যা কিছু ইনপুট করি তাই ডেটা। উদাহরণস্বরূপ পূর্বের টেবিলের জাহাঙ্গীর একটি ডেটা যা নাম ফিল্ডের অধীনে আছে। ঢাকা অন্য একটি ডেটা যা ঠিকানা ফিল্ডের অধীনে আছে এবং পিয়ন আরেকটি ডেটা যা পদবি ফিল্ডের অধীনে আছে। ডেটা টেবিলের বিভিন্ন ফিল্ডের অধীনে এন্ট্রিকৃত সব তথ্যই হলো ডেটা।

    ফিল্ড (Field): রেকর্ডের ক্ষুদ্রতম অংশ হলো ফিল্ড। রেকর্ডের প্রতিটি উপাদান যেমন- নাম, পদবি, ঠিকানা ইত্যাদিকে এক একটি ফিল্ড হিসেবে ধরা হয়। ফিল্ড হচ্ছে ডেটাবেজের মৌলিক একক বা ভিত্তি। প্রতিটি ফিল্ড সাধারণত কলাম হেডিং হিসেবে থাকে। কলামের একটি সেলের (Cell) ডেটাকে আমরা একটি ফিল্ড হিসেবে ধরি এবং পুরো কলামটিতে একই ধরনের ডেটা থাকে ।

    রেকর্ড (Record): অনেকগুলো ফিল্ডের সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি রেকর্ড। সাধারণভাবে পুরো একটি সারিকেই আমরা রেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করি। যদি কোনো টেবিলে কর্মচারীদের নাম, পদবি ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ থাকে, তবে একজন কর্মচারির নাম, পদবি ও ঠিকানা মিলে হবে একটি রেকর্ড। এরকম যতজন কর্মচারির নাম ঠিকানা একটি টেবিলে লিপিবদ্ধ থাকবে সে টেবিলে ততগুলো রেকর্ড আছে বলে ধরা হবে। কখনো কখনো রেকর্ডকে টাপল (Tuple) বা সারি (Row) বলা যায়। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক রেকর্ড নিয়ে গঠিত হয় ফাইল বা নথি ।

    ডেটা টেবিল (Data Table): এক বা একাধিক রেকর্ড নিয়ে ডেটা টেবিল গঠিত। টেবিল হলো ডেটাবেজের প্রাণ। এক বা একাধিক ডেটা টেবিল নিয়ে ডেটাবেজ গঠিত। সমজাতীয় সকল ডেটাকে এক একটি টেবিলে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। ধরা যাক, একটি অফিসের তিনটি শাখা আছে, যথা- প্রশাসন শাখা, হিসাব শাখা ও বিক্রয় শাখা। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি টেবিল নির্দিষ্ট করা আছে যেখানে ঐ শাখার সকল উপাত্ত সংরক্ষিত আছে। হিসাব শাখার জন্য আবার আলাদা একটি টেবিলে অফিসের আয়-ব্যয় বা কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব সংরক্ষিত আছে এবং বিক্রয় শাখার জন্য আর একটি টেবিলে দৈনন্দিন বিক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্র লিপিবদ্ধ আছে। তিনটি টেবিলই থাকবে একটি মূল ফাইল বা ডেটাবেজের অধীনে।

    এনটিটি

    এনটিটি (Entity) : কোনো ডেটাবেজের বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য যে রেকর্ড ব্যবহার করা হয় তাকে এনটিটি বলে। এনটিটি হচ্ছে সত্তা যা দিয়ে অবজেক্টকে চিহ্নিত করা যায়। কোন ডেটা টেবিলকে চিহ্নিত করার জন্য টেবিলের যে নাম দেওয়া হয় তাই হচ্ছে ডেটার এনটিটি। যেমন- একজন কর্মচারীর নাম, পদবি, বয়স, ঠিকানা ইত্যাদির সমন্বয়ে এনটিটি গঠিত হয়। এনটিটির বাস্তব উপস্থিতি থাকতে পারে আবার শুধুমাত্র ধারণার উপর ভিত্তি করে হতে পারে। নিচের চিত্রের মাধ্যমে এনটিটি দেখানো হলো-

    এনটিটি

    এনটিটি সেট (Entity Set): একই জাতীয় এনটিটিকে এনটিটি সেট (Entity Set) বলা হয়। একটি ডেটাবেজকে এনটিটি সেট বলা যেতে পারে।

    এট্রিবিউট (Attribute)/ ফিল্ড (Field)/ কলাম (Column): একটি এনটিটি এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশের যে সমস্ত ফিল্ড বা আইটেম বা উপাদান ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় এট্রিবিউট। অর্থাৎ এনটিটির অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকটি ফিল্ডকে এট্রিবিউট বলে। নিচের এনটিটিতে তিনটি ফিল্ড রয়েছে। এগুলো হলো নাম, পদবি এবং ঠিকানা। এর প্রত্যেকটি এক একটি এট্রিবিউট। কোন একজন কর্মচারীর উল্লিখিত তিনটি ফিল্ডের যে তথ্য পাওয়া যাবে, সেই তিনটি তথ্যের সমষ্টিকে বলা হয় এনটিটি সেট বা রেকর্ড। যেমন- সোহেল, অফিসার, বগুড়া এ তিনটি ফিল্ড একটি এনটিটি সেট।

    নামপদবিঠিকানা
    জাহাঙ্গীরম্যানেজারঢাকা
    সোহেলঅফিসার
    কাজলপিয়নবগুড়া

    ভ্যালু (Value): প্রত্যেকটি এট্রিবিউট এর যে মান থাকে তাকে বলা হয় ভ্যালু। যেমন- উপরের এনটিটিতে নাম এট্রিবিউট এর ভ্যালু হচ্ছে সোহেল, পদবি এট্রিবিউট এর ভ্যালু হচ্ছে অফিসার। কোন এট্রিবিউট এর মান যদি না থাকে বা ফাঁকা থাকে, তখন তার ভ্যালু হবে Null। যেমন- উপরের এনটিটিতে সোহেলের ঠিকানার ভ্যালু Null। কোন কলাম বা এট্রিবিউট এর মান ইউনিক বা অদ্বিতীয় হলে তাকে ডোমেইন (Domain) বলে।

মন্তব্য করুন