সহকারী শিক্ষক
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ণ
সরিষা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতি
সরিষা চাষের জন্য মাঝারি উঁচু, রোদযুক্ত দোআঁশ মাটি উত্তম; আমন কাটার পর (মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর) বীজ বপনের উপযুক্ত সময়; ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করতে হয়; বীজ সারিতে বা ছিটিয়ে বপন করা যায় এবং বিঘা প্রতি ১-১.৫ কেজি বীজ লাগে, যেখানে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম সহ অন্যান্য সার প্রয়োজন হয়, যা ফলন বৃদ্ধি করে।
১. জমি নির্বাচন ও তৈরি:
মাটি: বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটি সরিষার জন্য ভালো, যেখানে সারা দিন রোদ পড়ে।
জমি তৈরি: ৪-৫ বার আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করতে হবে, যাতে বড় ঢেলা ও আগাছা না থাকে।
২. বপনের সময় ও পদ্ধতি:
সময়: ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর (কিছু অঞ্চলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত)।
পদ্ধতি: সারিতে বা ছিটিয়ে উভয় পদ্ধতিতেই বীজ বপন করা যায়, তবে বীজ ড্রিল ব্যবহার করা উত্তম।
৩. বীজ ও সার ব্যবস্থাপনা (বিঘা প্রতি):
বীজ: ১ থেকে ১.৫ কেজি (০.৭-০.৮ কেজি হেক্টর প্রতি)।
সার:
ইউরিয়া: ৩৩-৩৭ কেজি।
টিএসপি: ২২-২৪ কেজি।
এমওপি: ১১-১৩ কেজি।
জিপসাম: ২০-২৪ কেজি।
দস্তা: ১-১.৫ কেজি।
বোরন: ০.৭৫-১ কেজি।
৪. পরিচর্যা:
আগাছামুক্ত রাখা: জমি আগাছামুক্ত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সেচ: প্রথম সেচ সাধারণত বীজ বপনের ২০-২৫ দিন পর দিতে হয়, যা গাছের বৃদ্ধি ও ফুল ধারণে সাহায্য করে।
৫. ফসল সংগ্রহ:
যখন গাছের শুটি ৭০-৭৫% পাকবে এবং খড়ের রং ধারণ করবে, তখন ফসল কাটার উপযুক্ত সময়।
কাটার পর কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে মাড়াই করতে হবে।
উচ্চ ফলনের জন্য:
জাত: বারি সরিষা-১৩ বা বারি সরিষা-১৪ এর মতো উচ্চ ফলনশীল জাত ব্যবহার করুন।
আন্তঃফসল: আমন ধান কাটার পর বোরো ধান রোপণের আগে সরিষা চাষ করা যায়।
১৪
২৪ মন্তব্য