সহকারী শিক্ষক
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
শেষ বেঞ্চের আলো ( অনুপ্রেরণা)
শেষ বেঞ্চের আলো!
বিদ্যালয়ের ঘড়িতে তখন সকাল সাড়ে নয়।ঘণ্টা পড়ার শব্দ থেমে যেতেই স্যার ক্লাসে ঢুকলেন। হাতে কোনো বই নেই। চোখে আজ একটু অন্যরকম দৃঢ়তা।
ক্লাসরুমে প্রথম সারিতে বসে আছে রাফি, তন্ময়, মিথিলা,সব প্রশ্নের উত্তর যাদের মুখস্থ।আর একেবারে শেষ বেঞ্চে, জানালার পাশে বসে আছে ছোট্ট কালু। খাতা খোলা থাকে, কিন্তু পাতাগুলো প্রায় ফাঁকা।
স্যার বোর্ডে একটা সহজ প্রশ্ন লিখলেন।প্রথম সারির হাতগুলো মুহূর্তেই উঠে গেল।
শেষ বেঞ্চে কালু মাথা নিচু করে বসে রইল।
স্যার প্রশ্নটা কাউকে দিলেন না।
চুপচাপ হেঁটে গেলেন শেষ বেঞ্চের দিকে।“কালু, তুই বল তো?”
কালুর চোখে ভয়। গলা কাঁপে।
“স্যার… আমি পারি না।”
ক্লাসে হালকা হাসি।
স্যার সেই হাসির দিকে তাকালেন না।
চেয়ারের পাশে বসে ধীরে বললেন,
“পারি না,এই কথাটা তোর না। হয়তো আমি ঠিকভাবে বোঝাতে পারিনি।”
কালু অবাক হয়ে তাকাল।
এমন কথা সে আগে কখনো শোনেনি।স্যার খাতা খুললেন। বোর্ডের প্রশ্নটা ভেঙে ভেঙে বললেন।
একবার নয়—দুইবার নয়—তিনবার।
গল্পের মতো করে, খেলনার মতো করে।
“এখন বল, কোনটা বুঝছিস?”
কালু আস্তে আস্তে বলল,
“এইটুকু… একটু বুঝছি স্যার।”
স্যার হেসে উঠলেন।
“এইটুকুই আজকের জয়।”
পরের দিনও, তার পরের দিনও,
প্রথম সারি এগিয়ে গেল।
কিন্তু স্যার দাঁড়িয়ে থাকলেন শেষ বেঞ্চে।
একদিন হঠাৎ, প্রশ্ন করার আগেই কালুর হাত উঠল।
ক্লাস স্তব্ধ।
কালু ভুল উত্তর দিল।
স্যার বোর্ডে কিছু কাটলেন না।
বললেন,
“ভুল নয়। এটা শেখার শব্দ।”
সেই দিন থেকে কালুর খাতার পাতা ভরতে লাগল।
লেখা এলোমেলো, বানান ভুল,
কিন্তু চোখে ভয় নেই।
বছর শেষে ফলাফল ঘোষণার দিন।
কালু প্রথম হয়নি।
কিন্তু সে ফেলও করেনি।
স্যার চুপচাপ রেজাল্ট শিট ভাঁজ করলেন।
মনে মনে বললেন,
“প্রথম সারির শিক্ষার্থী বানানো সহজ।
কিন্তু আজ আমি একজন মানুষকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছি।”
শেষ বেঞ্চে তখন আলো পড়ছে!
৪
৪ মন্তব্য