সহকারী শিক্ষক
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ম্রো জনগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা
ম্রো সমাজব্যবস্থা মূলত পিতৃতান্ত্রিক, গ্রামভিত্তিক এবং গোত্র-কেন্দ্রিক; যেখানে পরিবারে পিতার কর্তৃত্ব থাকে এবং বংশ পরিচয় পিতৃতান্ত্রিক নিয়মে নির্ধারিত হয়, তবে তাদের মধ্যে প্রকৃতি পূজা ও জুম চাষ কেন্দ্রিক নিজস্ব ঐতিহ্য, গোত্রভিত্তিক সামাজিক কাঠামো (যেমন: ঙারুয়া, নাইচাহ) এবং কাকশাংমি নামক উত্তরাধিকার প্রথা প্রচলিত আছে, যেখানে কনিষ্ঠ পুত্র অধিক সম্পত্তি পায়।
সামাজিক কাঠামো ও পরিবার:
পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা: ম্রোদের পরিবার প্রধান হলেন পিতা, এবং বংশ পরিচয় ও উত্তরাধিকার পিতৃতান্ত্রিক নিয়মে চলে।
গোত্র: কয়েকটি পরিবার মিলে এক একটি গোত্র গঠিত হয় (যেমন: ঙারুয়া, নাইচাহ, তাম-তু-চাহ)। একই গোত্রের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ।
গ্রামভিত্তিক শাসন: বর্তমানে গ্রামভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রচলিত, যেখানে হেডম্যান বা রোয়াজা পদাধিকারীরা ভূমিকা রাখেন, যদিও তাদের ক্ষমতা সীমিত।
ধর্ম ও বিশ্বাস:
প্রকৃতি পূজা: ম্রোরা প্রকৃতি পূজারি, বিশেষত জুম চাষকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করে।
বিভিন্ন ধর্ম: তারা বৌদ্ধ, ক্রামা এবং সনাতন ধর্ম অনুসরণ করে, এবং কিছু ম্রো খ্রিস্টান ধর্মও গ্রহণ করেছে।
প্রথা ও ঐতিহ্য:
জুম চাষ: জুম চাষ তাদের প্রধান পেশা এবং এর সাথে তাদের জীবনযাত্রা ও ধর্মীয় আচার জড়িত।
মৃত্যু সৎকারের প্রথা: মৃতদেহ মাচায় রেখে বাঁশ ও ঢোল বাজানো, শূকর ও মোরগ বলি দেওয়া এবং ভোজের আয়োজন করা হয়।
কান ফোঁড়ানো (রইক্ষারাম): এটি তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথা।
উত্তরাধিকার (কাকশাংমি):
সম্পত্তির উত্তরাধিকারে কনিষ্ঠ পুত্র (ছোট ছেলে) বেশি অংশ পায়, কারণ প্রথা অনুযায়ী বাবা-মা তার কাছেই থাকেন।
ভাষা ও শিক্ষা:
তাদের ভাষার নাম ম্রো ভাষা। ইউনেস্কো তাদের লিখিত ভাষার অভাবকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যদিও সম্প্রতি 'ম্রোচ চা' নামে নিজস্ব বর্ণমালা আবিষ্কৃত হয়েছে।
১৫
২৫ মন্তব্য