প্রভাষক
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের যৌতুক প্রথা
যৌতুক প্রথা হলো বিয়েতে কনের পরিবার থেকে বর ও তার পরিবারকে নগদ টাকা, সম্পত্তি বা মূল্যবান সামগ্রী (গয়না, আসবাবপত্র, গাড়ি ইত্যাদি) দেওয়া, যা একটি সামাজিক কুপ্রথা এবং বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রথা নারীর প্রতি বৈষম্য তৈরি করে, কনের পরিবারকে আর্থিক চাপে ফেলে, এবং এর কারণে যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডও ঘটে থাকে, যা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণীত হয়েছে।
যৌতুকের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি:
সংজ্ঞা: বিবাহের সময় বা তার আগে-পরে কনের পরিবার কর্তৃক বর বা তার পরিবারকে কোনো প্রকার অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী প্রদান করাকে যৌতুক বলে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ঐতিহাসিকভাবে এটি কনের পরিবার থেকে তার নিজের ভরণপোষণের জন্য দেওয়া হলেও, সময়ের সাথে সাথে এটি বরের পরিবারের দাবি ও শোষণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যা মূলত "স্ত্রীধন"-এর বিপরীত।
যৌতুক প্রথার কুফল:
নারী নির্যাতন: যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারলে নববধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়, এমনকি 'বধূহত্যা' (bride-burning) পর্যন্ত ঘটে।
আর্থিক চাপ: কনের পরিবারের উপর বিশাল আর্থিক বোঝা চাপানো হয়, যা তাদের সর্বস্বান্ত করে দিতে পারে।
বৈষম্য: এটি নারীদের শিক্ষার হার ও সামাজিক মর্যাদা কমিয়ে দেয়, কারণ তাদের বোঝা হিসেবে দেখা হয়।
সামাজিক অবক্ষয়: এটি সমাজে লোভ ও অন্যায়ের জন্ম দেয় এবং বিয়ে প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।
আইনগত অবস্থান (বাংলাদেশে):
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮: এই আইন অনুযায়ী, যৌতুক দেওয়া বা নেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শাস্তি: যৌতুকের জন্য মারাত্মক জখম করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ৫ থেকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। যৌতুকের দাবি করাও আইনত দণ্ডনীয়।
প্রতিরোধ:
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা, নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন করা এবং যৌতুককে সামাজিকভাবে বয়কট করার মাধ্যমে এই প্রথা নির্মূল করা সম্ভব।
১৫
২৫ মন্তব্য