Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:০৪ অপরাহ্ণ

কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষন, কারন ও প্রতিকার

কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই কম্পিউটারে প্রবেশ করে ডেটা নষ্ট করে এবং স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। নিচে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


কম্পিউটারে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ

আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপ যদি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তবে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়:

  1. গতি কমে যাওয়া: কম্পিউটার আগের চেয়ে অনেক ধীরগতিতে কাজ করে এবং কোনো প্রোগ্রাম ওপেন হতে অনেক সময় নেয়।

  2. অস্বাভাবিক রিস্টার্ট: কাজ চলাকালীন কম্পিউটার হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নিজে থেকেই রিস্টার্ট নেওয়া।

  3. অজানা পপ-আপ: স্ক্রিনে হঠাৎ করে বিভিন্ন অদ্ভুত বিজ্ঞাপন বা অপ্রাসঙ্গিক মেসেজ ভেসে আসা।

  4. ফাইল গায়েব হওয়া: আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা ফোল্ডার খুঁজে না পাওয়া অথবা ফাইলগুলোর নাম পরিবর্তন হয়ে যাওয়া।

  5. মেমোরি পূর্ণ হওয়া: হার্ডডিস্ক বা র‍্যামে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও বারবার 'Disk Full' বা মেমোরি কম থাকার মেসেজ আসা।

  6. অচেনা আইকন: ডেস্কটপে বা ব্রাউজারে এমন কিছু আইকন বা টুলবার দেখা দেওয়া যা আপনি নিজে ইনস্টল করেননি।

 

কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ

কম্পিউটার সাধারণত নিচের মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়:

  1. ইন্টারনেট ও ডাউনলোড: অনিরাপদ বা পাইরেটেড ওয়েবসাইট থেকে গান, মুভি বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করলে ভাইরাস প্রবেশের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

  2. পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড: ভাইরাস আছে এমন কোনো পেনড্রাইভ বা এক্সটারনাল হার্ডড্রাইভ নিজের কম্পিউটারে যুক্ত করলে।

  3. ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট: অপরিচিত উৎস থেকে আসা ইমেইলের সাথে থাকা কোনো ফাইল বা লিংকে ক্লিক করলে।

  4. অ্যান্টি-ভাইরাস না থাকা: কম্পিউটারে ভালো মানের কোনো সিকিউরিটি সফটওয়্যার বা অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার না করা।

  5. সফটওয়্যার আপডেট না করা: অপারেটিং সিস্টেম (যেমন- Windows) বা ব্রাউজার নিয়মিত আপডেট না করলে সিকিউরিটি দুর্বল হয়ে পড়ে।

 

প্রতিকার ও সুরক্ষার উপায়

ভাইরাস থেকে কম্পিউটারকে মুক্ত রাখতে এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

  1. অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার: কম্পিউটারে একটি বিশ্বস্ত অ্যান্টি-ভাইরাস (যেমন: Kaspersky, Avast, বা Bitdefender) ইনস্টল করুন এবং সেটি নিয়মিত আপডেট রাখুন।

  2. সতর্কতার সাথে ডাউনলোড: সবসময় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করুন। ক্র্যাক ভার্সন বা পাইরেটেড সফটওয়্যার এড়িয়ে চলুন।

  3. স্ক্যান করা: বাইরের কোনো পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড কম্পিউটারে লাগানোর পর প্রথমেই তা অ্যান্টি-ভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করে নিন।

  4. ফায়ারওয়াল সচল রাখা: কম্পিউটারের নিজস্ব সিকিউরিটি বা ফায়ারওয়াল (Firewall) সবসময় অন রাখুন।

  5. ডেটা ব্যাকআপ: গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলোর ব্যাকআপ সবসময় ক্লাউড (Google Drive) বা অন্য কোনো ডিভাইসে আলাদা করে রাখুন।

  6. অপারেটিং সিস্টেম আপডেট: উইন্ডোজ বা আপনার ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমটি সবসময় লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট রাখুন।
মন্তব্য করুন