Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ

হাশরের ময়দান - হাশর শব্দের অর্থ একত্রিত করা

হাশরের ময়দান হলো কিয়ামতের দিন আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্ট সেই বিশাল সমতল ভূমি, যেখানে সকল মানুষ, জিন ও প্রাণী কবর থেকে উত্থিত হয়ে হিসাব-নিকাশের জন্য একত্রিত হবে; এটি হবে পৃথিবীর পরিবর্তিত রূপ, যা প্রচণ্ড উত্তাপ ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যেখানে আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না এবং প্রত্যেককে পাঁচ/সাতটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, যার উপর ভিত্তি করে তাদের জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে, যা মানুষের আমল অনুযায়ী নির্ধারিত হবে এবং নেককার ব্যক্তিরা পুলসিরাত পার হয়ে হাউজে কাউসারের পানি পান করবে। 

হাশরের ময়দান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

অর্থ ও স্থান:

'হাশর' শব্দের অর্থ 'একত্রিত করা' বা 'সমাবেশস্থল'।

এটি হবে পৃথিবীর উপরিভাগে, পাহাড়-পর্বত সব সমতল হয়ে যাওয়া এক বিশাল ময়দান, যা হবে জেরুজালেমের পশ্চিমে বাইতুল মাকদিসের কাছে।

পরিবেশ ও পরিস্থিতি:

প্রচণ্ড উত্তাপ: সূর্য মাথার খুব কাছে চলে আসবে, যার কারণে মানুষ ঘামে হাবুডুবু খাবে, কেবল আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না।

দীর্ঘ সময়: হাশরের মাঠের একদিন দুনিয়ার প্রায় ৫০,০০০ বছরের সমান হবে।

ভয়াবহতা: চারদিকে থাকবে চরম ভয়, আতঙ্ক এবং মানুষের অবস্থা হবে শোচনীয়, চোখে থাকবে ভয়ের ছাপ, অন্তর হবে শূন্য।

মানুষের অবস্থা ও হিসাব:

প্রশ্ন-উত্তর: প্রত্যেক ব্যক্তিকে জীবন, যৌবন, সম্পদ, জ্ঞান ও আমল নিয়ে মোট ৫/৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

আমল ও হিসাব: প্রতিটি ভালো-মন্দ কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেওয়া হবে, যা আমলনামার মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।

পুলসিরাত: নেককার ও গুনাহগারদেরকে পার হতে হবে 《পুলসিরাত》 নামক এক সূক্ষ্ম সেতু, যা তলোয়ারের চেয়ে ধারালো ও পশমের চেয়েও সূক্ষ্ম হবে।

ছায়া ও হাউজে কাউসার:

আরশের ছায়া: আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত মুমিন ও নেককার ব্যক্তিরা 《আরশের ছায়া》 লাভ করবে, যা হবে তাদের জন্য স্বস্তির জায়গা।

হাউজে কাউসার: নবীজি (সাঃ)-এর একটি বিশেষ জলাধার থাকবে, যা থেকে জান্নাতের পানি প্রবাহিত হবে এবং এতে একবার যে পানি পান করবে, সে চিরতরে তৃষ্ণামুক্ত হবে। শুধুমাত্র মুমিনরাই এই পানি পান করতে পারবে।

উদ্দেশ্য:

সকল সৃষ্ট জীবকে একত্রিত করে তাদের কর্মফল অনুযায়ী জান্নাত (স্বর্গ) ও জাহান্নাম (নরক)-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ