Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

পল্লী কবি জসীমউদ্দীন

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন কিংবদন্তি কবি, গীতিকার ও লেখক, যিনি তাঁর লেখনীতে গ্রাম বাংলার সহজ-সরল জীবন, প্রকৃতি ও লোকসংস্কৃতিকে জীবন্ত করে তুলে ধরেছেন, বিশেষত তাঁর 'নকশী কাঁথার মাঠ' ও 'সোজন বাদিয়ার ঘাট'-এর মতো কালজয়ী আখ্যানকাব্য এবং 'কবর'-এর মতো বিখ্যাত কবিতার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা ও আবেগকে ধারণ করে, যা তাকে 'পল্লীকবি' উপাধি এনে দেয় এবং তিনি আধুনিক বাংলা কাব্যে গ্রামীণ জীবনের বাস্তবভিত্তিক উপস্থাপনার অভাব পূরণ করেন। 

জন্ম ও পরিচয়:

জন্ম: ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে (মাতুলালয়)।

পূর্ণ নাম: মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা।

পিতা: আনসার উদ্দিন মোল্লা।

মাতা: আমেনা খাতুন। 

শিক্ষা ও কর্মজীবন:

ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও ফরিদপুর জেলা স্কুলে পড়াশোনা করেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (১৯২৯) ও এমএ (১৯৩১) ডিগ্রি লাভ করেন।

কিছুকাল শিক্ষকতা ও পরে রেডিওতে চাকরি করেন। 

সাহিত্যকর্ম ও বৈশিষ্ট্য:

মূল বিষয়: গ্রাম বাংলার প্রকৃতি, নদী, রাখাল জীবন, লোকগাথা, লোকসংগীত, গ্রামীণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য।

প্রথম কবিতা: 'কবর' (ছাত্রজীবনে রচিত, যা তাকে পরিচিতি এনে দেয়)।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ: 'রাখালী', 'নকশী কাঁথার মাঠ', 'সোজন বাদিয়ার ঘাট', 'ধানক্ষেত', 'মাঝির গান', 'বোবা কাহিনী' (উপন্যাস)।

গীতি-কবিতা: তাঁর গীতিকবিতাগুলো লোকসংগীতের আদলে রচিত এবং গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

ভাষা ও শৈলী: সহজ-সরল, সাবলীল ও দেশজ শব্দ ব্যবহারে সমৃদ্ধ, যা বাংলা কাব্যে নতুন মাত্রা যোগ করে। 

সম্মাননা:

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি (১৯৬৯)।গুরুত্ব:

তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গ্রামীণ জীবন ও লোকায়ত সংস্কৃতির এক বাস্তব ও শৈল্পিক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন, যা নাগরিক কাব্যধারার বিপরীতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। 


মন্তব্য করুন