Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:১৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলা ও সাহিত্য - বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এবং ভাষার গঠন অত্যন্ত সমৃদ্ধ


বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এবং ভাষার গঠন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রাচীন। নিচে সাহিত্য ও ভাষার মূল দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো: 

১. বাংলা ভাষা (Bengali Language)

বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশের সদস্য। এর বিবর্তনধারা মোটামুটি এরকম: 

উৎপত্তি: ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → অপভ্রংশ → বাংলা।

সৃষ্টির সময়: আনুমানিক সপ্তম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার জন্ম বলে ধরা হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে এটি ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ, আর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ।

লিপি: বাংলা লিপি এসেছে প্রাচীন 'ব্রাহ্মী লিপি' থেকে (কুটিল লিপির মাধ্যমে)। 

২. বাংলা সাহিত্য (Bengali Literature)

বাংলা সাহিত্যকে তিনটি প্রধান যুগে ভাগ করা হয়: 

ক. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ) 

মূল নিদর্শন: চর্যাপদ। এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সংগীত।

১৮৫৯ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। 

খ. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ)

১২০১ - ১৩৫০: এই সময়কে 'অন্ধকার যুগ' বলা হয় (সাহিত্যের তেমন নিদর্শন পাওয়া যায়নি বলে)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: বড়ু চণ্ডীদাস রচিত মধ্যযুগের প্রথম কাব্য।

বৈষ্ণব পদাবলি: রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে রচিত (বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস)।

মঙ্গলকাব্য: দেব-দেবীর মাহাত্ম্য কীর্তন (মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল)।

অনুবাদ সাহিত্য: রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবতের অনুবাদ।

আরাকান রাজসভা: মুসলমান কবিদের অবদান (আলাওল, দৌলত কাজী)। 

গ. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০): গদ্য সাহিত্যের সূচনা ঘটে।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে পরিচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: প্রথম সনেট এবং আধুনিক মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'র রচয়িতা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি'র জন্য নোবেল পুরস্কার পান, যা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করে।

কাজী নজরুল ইসলাম: বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত এবং বাংলা সাহিত্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন।

পরবর্তী ধারা: জীবনানন্দ দাশের আধুনিক কবিতা, মানিক-তারাশঙ্কর-বিভূতির উপন্যাস এবং দেশবিভাগ পরবর্তী ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্য। 

৩. ভাষার রূপ

বাংলা ভাষার দুটি প্রধান রূপ রয়েছে:

সাধু ভাষা: গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং তৎসম শব্দবহুল (এখন মূলত সাহিত্যে কম ব্যবহৃত)।

চলিত ভাষা: সহজ-সরল এবং মানুষের মুখের ভাষার কাছাকাছি (বর্তমানে দাপ্তরিক ও সাহিত্যিক কাজে প্রধান)। 

বাংলা ভাষা আজ বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভাষা এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এই ভাষার মর্যাদা রক্ষার ইতিহাস বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি) হিসেবে পালিত হয়। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ