Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:২৪ অপরাহ্ণ

হজরত উমর (রা.)-এর দুটি কারামত

ইসলামের ইতিহাসের সিংহ পুরুষ হজরত উমর (রা.)। যাঁকে মহান আল্লাহ ঈমান, তাকওয়া, প্রজ্ঞা ও সাহস সব দিক থেকে শক্তিশালী করেছিলেন। আজ আমরা জানব তাঁর বিশেষ দুটি কারামত নিয়ে। যেগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। প্রথমেই জেনে রাখা ভালো যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা হলো, আল্লাহর ওলিদের কারামত সত্য। হজরত উমর (রা.)-এর জীবনে কারামাতের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। এখানে দুটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো—

মদিনা থেকে সুদূর পারস্যে অবস্থানরত মুসলিম সেনাপতিকে রণকৌশলে দিকনির্দেশনা : ২৩ হিজরি সনে হজরত উমর (রা.) পারস্যের ‘ফাসা’ ও ‘দারাবজিরদ’ অঞ্চলে সা-রিয়া ইবনে যুনাইমের নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। তারা শত্রুদের মোকাবেলায় যুদ্ধের ময়দানে। তাদের অবস্থানটা ছিল একটু প্রতিকূলে। তাদের পাশেই ছিল একটি পাহাড়। পাহাড়ে আশ্রয় নিলে শত্রু পক্ষের শুধু এক দিক থেকে হামলার সম্ভাবনা থাকে। অন্যথায় চতুর্দিক থেকে শত্রুর বেষ্টনীতে পড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা। 

হজরত উমর (রা.) জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ মহান আল্লাহ তাঁর অন্তরে মুজাহিদ বাহিনীর বাস্তব অবস্থান চিত্র ফুটিয়ে তোলেন। তাৎক্ষণিক তিনি খুতবার মাঝখানে উঁচু আওয়াজে তিনবার বললেন, ‘হে সারিয়া! পাহাড়ে আশ্রয় নাও।’

ইবনে কাসিরের বর্ণনামতে, পূর্ব রাতে হজরত উমর (রা.)-কে মুজাহিদ বাহিনীর দিনের বেলার অবস্থান চিত্রটি স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। সে মোতাবেক তিনি মসজিদে মুসল্লিদের একত্র করে তাদের সে সম্পর্কে অবহিত করলেন। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে সা-রিয়াকে সম্বোধন করে এই আওয়াজ দিলেন।

হজরত উমর (রা.)-এর এই আওয়াজ আল্লাহ তাআলা তাৎক্ষণিক পৌঁছে দিলেন সা-রিয়ার কর্ণকুহরে। তিনি দ্রুত তাঁর বাহিনীকে নিয়ে আশ্রয় নিলেন পাহাড়ে। শত্রুদের চতুর্মুখী হামলা থেকে তাঁরা নিরাপদ হলেন। অতএব, শুধু এক দিক থেকে শত্রুদের হামলা ঠেকালেন। অবশেষে আল্লাহ তাআলা মুসলিম বাহিনীকে জয়যুক্ত করলেন। (আল-ইসাবাহ : ৩/৫; আল-কামিল ফিত তারিখ : ২/৪২২; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৭/১৩০—১৩১) 

নীল নদের প্রতি চিঠি : মিসর বিজয়ের পর সেখানকার কিবতী বংশীয় লোকজন মিসর বিজেতা আমর ইবনে আস (রা.)-এর নিকট এসে এই মর্মে আবেদন করল যে প্রতিবছর নির্দিষ্ট মৌসুমে নীল নদের পানি শুকিয়ে যায়। তখন আমরা একটি সুন্দরী মেয়েকে তার মা-বাবা থেকে অনুমতি নিয়ে তাকে উত্তম পোশাক ও অলংকারে সাজিয়ে নীল নদের জন্য উৎসর্গ করি। তার প্রাণের বিনিময়ে আমরা নীল নদের পানি ফিরে পাই। এটা হলো এই নদের চিরাচরিত নিয়ম। 

আমর ইবনে আস (রা.) বললেন, ইসলাম এমন পাশবিক নীতিকে হারাম করেছে। আমি তোমাদের তার অনুমতি দিতে পারি না। এভাবে কিছুদিন গেল; কিন্তু নীল নদে পানি এলো না। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এলাকা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাওয়ার ইচ্ছা করল। তখন আমর (রা.) চলমান সংকট ও তাঁর অভিব্যক্তির কথা উল্লেখ করে চিঠি লিখলেন, খলিফাতুল মুসলিমিন উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর নিকট।

হজরত উমর (রা.) তাৎক্ষণিক তাঁর চিঠির জবাব দিলেন। দুটি চিঠি পাঠালেন তিনি। একটি আমর ইবনে আস (রা.)-এর জবাবি পত্র, অপরটি নীল নদের প্রতি। চিঠিতে তিনি লিখলেন, আমর ইবনে আস! তোমার সিদ্ধান্ত যথোচিত। আমি তোমার চিঠির সঙ্গে আরেকটি চিঠি দিলাম, তা নীল নদে নিক্ষেপ করবে। খলিফার চিঠি পাওয়ার পর আমর ইবনে আস (রা.) তা খুলে পড়লেন। তাতে লিখা ছিল—

অর্থ : এটি আল্লাহর বান্দা ‘উমর’ আমিরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে নীল নদের প্রতি। আম্মাবাদ! (হে নীল!) তুমি যদি এর আগে তোমার শক্তিবলে বহমান হয়ে থাক, তুমি প্রবাহিত হয়ো না। আর তোমাকে যদি প্রবাহিত করে থাকেন একক ক্ষমতার অধিকারী, মহা শক্তির অধিকারী আল্লাহ, তবে সে মহান সত্তার কাছে আমরা প্রার্থনা করছি, তিনি যেন তোমাকে বহমান করে দেন।

চিঠিটি পাওয়ার পর আমর (রা.) তা নদীতে নিক্ষেপ করলেন। ওই দিনেই নীল নদের পানি বইতে শুরু করল। প্রথম দিনেই প্রবাহিত হলো ১৬ হাত উচ্চতা নিয়ে। সেদিন যে নীল নদ প্রবাহিত হয়েছে, তা আজও প্রবাহিত হচ্ছে অবিরাম গতিতে। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৭/১০০, ১/২৭; আস-সিরাতুল হালাবিয়্যাহ : ৩/২১৭—২১৮)

মন্তব্য করুন

ব্লগ