সহকারী অধ্যাপক
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০৫ অপরাহ্ণ
খিলাফতের আহ্বান -মোঃ মুজিবুর রহমান
খিলাফতের আহ্বান
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কীভাবে করছ কুফর, হে বিস্মৃত মানবজাতি?
তোমরা তো ছিলে মৃত—জীবনও তাঁর দানই তো সত্যি।
মৃত্তিকার নীরব আঁধার ভেদ করে দিলেন প্রাণ,
অস্তিত্বের প্রথম আলো—রবের করুণা-দান।
আবার তিনি মৃত্যু দেবেন, এ পথ অনিবার্য,
পুনরুত্থানে জাগাবেন—সে প্রতিশ্রুতি অবিচার্য।
অবশেষে প্রত্যাবর্তন তাঁরই দরবারে,
সমস্ত পথের শেষ বাঁক—এক আল্লাহর কারবারে।
যমীনে যা কিছু আছে, সবই তোমার তরে,
পর্বত, নদী, শস্য, বায়ু—রিযিকের সম্ভারে।
তারপর দৃষ্টি দিলেন নীল আসমানের পানে,
সাত স্তরে সুবিন্যস্ত করলেন নিখুঁত বিধানে।
তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা—গোপন-প্রকাশ্য সব,
কণার কম্পন জানেন তিনি, জানেন হৃদয়ের রব।
স্মরণ কর সেই মুহূর্ত, সৃষ্টির প্রথম ডাক,
ফেরেশতাদের বললেন তিনি—“যমীনে হবে খিলাফত-পাক।”
তারা বলল, “হে রব, সেখানে কি হবে এমন জন,
যে ফাসাদ ছড়াবে, ঝরাবে রক্তের ক্ষণ?”
“আমরা তো তাসবীহে রত, পবিত্রতার গান,
দিনরাত ঘোষণা করি আপনারই গুণগান।”
রব বললেন শান্ত স্বরে, অথচ গম্ভীর বাণী—
“আমি জানি সে রহস্য, যা জান না তোমরা জানি।”
মানব, তুমি দায়িত্বের ভারে মহিমান্বিত,
জ্ঞান ও আমানতের বোঝায় তুমি পরীক্ষিত।
ফাসাদ নয়, ন্যায় কায়েম—এ তোমার পরিচয়,
খিলাফতের সত্য মানে—আনুগত্য আর ভয়।
তাই কুফর নয়, কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠো প্রাণ,
যিনি জীবন দিলেন, তিনিই শেষ বিচারক মহান।
তাঁর দিকে ফেরাই যাত্রা, সেখানেই শেষ হিসাব,
সফল সে-ই, যে মানে রব, রাখে তাকওয়ার জবাব।
***
খিলাফতের ঘোষণা
(অক্ষরবৃত্ত – কঠোর মাত্রা, গম্ভীর স্বর)
কীসে কুফর কর হে মানব, কীসে অস্বীকার?
মৃত ছিলে—প্রাণ দিলেন, তিনিই অধিকার।
শূন্য বুকে সঞ্চার করলেন জীবন-আলো-ধারা,
অস্তিত্বের প্রথম শব্দ—“হও”, রবের ইশারা।
আবার তিনি মৃত্যু দেবেন, অমোঘ বিধান,
পুনরায় জীবিত করবেন—এই তাঁর ফরমান।
শেষে তাঁরই নিকট হবে প্রত্যাবর্তন,
সব পথের অন্তিম গন্তব্য—এক রবের শরণ।
যমীনে যা কিছু আছে, সব তোমারই তরে,
পর্বত, বন, নদী, শস্য—রিযিকের ভাণ্ডারে।
আসমানের পানে দিলেন সৃষ্টির গভীর দৃষ্টি,
সাত আসমান সুবিন্যস্ত—পরিপূর্ণ সৃষ্টি।
তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা—অদৃশ্য প্রকাশ,
হৃদয়ের নিঃশ্বাস জানেন, জানেন গোপন ভাষ।
স্মরণ কর সেই মহাক্ষণ—সৃষ্টির সূচনালয়,
ফেরেশতাদের বললেন রব—“যমীনে খিলাফত হয়।”
তারা বলল, “হে আমাদের পবিত্র অধিপতি,
সেখানে কি হবে এমন জন—ফাসাদের মূর্তি?
রক্ত ঝরাবে ভূমিতে, ভাঙবে ন্যায়-প্রাচীর,
আর আমরা তো তাসবীহে রত—রাতে দিনে নির্ভীর।”
রব বললেন দৃঢ় বাণী, জ্ঞানের দীপ্ত আলো—
“আমি জানি সে রহস্য, যা জান না তোমরা ভালো।”
হে মানব, তুমি আমানত—ভূমির দায়িত্ববান,
ন্যায় ও সত্য কায়েম কর—এই তোমার মান।
ফাসাদ নয়, ইবাদাতেই খিলাফতের রূপ,
তাকওয়ায় শাসন কর হৃদয়, সংযম হোক ভূষণ-রূপ।
তাই কুফর ত্যাগ কর, কৃতজ্ঞতায় হও দৃঢ়,
যিনি জীবন দান করেছেন, তিনিই শেষ বিচার।
তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন, তাঁরই নিকট বিচার,
সফল সে-ই, যে বিনত থাকে—রবেরই দরবার।
***
কীসে কুফর কর হে মানব, কীসে অস্বীকার?
মৃত ছিলে—প্রাণ দিলেন, তিনিই অধিকার।
নিষ্পন্দ দেহে ফুঁ দিলেন জীবনের নিশ্বাস,
অস্তিত্বে জ্বালালেন তিনি সত্তার প্রথম আভাস।
মাটি ছিলে, মাটিই ছিলে—নামহীন, নীরব,
রবের আদেশে উঠল জেগে চেতনার সৌরভ।
কে দিল চোখে দেখার শক্তি, বুকে ভাবের ঢেউ?
কে দিল কণ্ঠে ভাষার আগুন—বল, সে কে, বল কেউ?
তবু কেন এই অস্বীকার, এই কঠিন দম্ভ?
দানকৃত প্রাণে দাঁড়িয়ে কেন কুফরের স্তম্ভ?
যিনি শুরু করলেন পথ, তিনিই শেষ বিধান,
তাঁরই হাতে মৃত্যু-জীবন, তাঁরই ফরমান।
অধ্যায় দুই : মৃত্যু, পুনরুত্থান ও প্রত্যাবর্তন
তিনি মৃত্যু দেবেন আবার—অমোঘ নিয়মে,
শ্বাস থামবে, স্তব্ধ হবে দেহ সময়ের ক্রমে।
কিন্তু শেষ নয়—এ মৃত্যু কেবল বিরাম,
আবার ডাকবে তিনি—উঠো, হে আদম-সন্তান।
ভাঙা হাড়ে প্রাণ ফিরবে, জাগবে ঘুমন্ত ধূলি,
মহা সমাবেশে দাঁড়াবে সব যুগের কুলি।
তারপর প্রত্যাবর্তন এক রবের সনে,
কর্মের ভার নিয়ে সবাই দাঁড়াবে বিচারে।
কোন মুখ লুকাবে আলো, কোন মুখ ঝলমল?
কে নেবে রহমতের ছায়া, কে পাবে আগুন-ফল?
সে দিন মিথ্যা কথা নয়, চলবে না প্রতারণা,
আমলই হবে পরিচয়, আমলই ঠিকানা।
অধ্যায় তিন : যমীন ও আসমানের সৃজন
যমীনে যা কিছু আছে, সব তোমারই তরে—
পর্বত দাঁড়ায় প্রহরায়, নদী চলে সুরে।
শস্যে শস্যে রিযিক বুনে করুণা-হাত,
বাতাসে ভাসে জীবন, মেঘে রহমত-পাত।
তারপর আসমানের পানে দিলেন দৃষ্টি মহান,
অরাজক শূন্যতাকে করলেন বিধানে জান।
সাত আসমান স্তরে স্তরে সাজালেন তিনি,
নিখুঁত মাপে, নিখুঁত তালে—এ সৃষ্টির রূপরেখা চিনি।
নক্ষত্রে নক্ষত্রে বাঁধলেন হিসাবের ছন্দ,
গ্রহের গতি, সময়ের ধারা—সবই তাঁর বন্দ।
তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা—গোপন, প্রকাশ,
হৃদয়ের কোণে যে কথা, জানেন তার ভাষ।
***
স্মরণ কর সেই মহাক্ষণ—সৃষ্টির প্রথম ভোর,
যখন রব ঘোষণা দিলেন ভবিষ্যৎ-রূপরেখার ডোর।
বললেন ফেরেশতাদের—“যমীনে হবে জন,
খিলাফতের ভার নেবে যে—মানব সে জন।”
ফেরেশতা বলল বিনয়ে, পবিত্রতার গান,
“হে রব, সেখানে কি হবে ফাসাদের স্থান?
রক্ত ঝরাবে ভূমিতে, ভাঙবে ন্যায়-প্রাচীর,
আর আমরা তো তাসবীহে রত—রাতে দিনে নির্ভীর।”
রব বললেন দৃঢ় কণ্ঠে, অথচ রহমতভরা,
“আমি জানি সে রহস্য, যা জান না তোমরা।”
জ্ঞানের বীজ রোপিত হলো মানবের বুকে,
অমানত উঠল কাঁধে—আকাশ-ভূমির ঝুঁকে।
হে আদম-সন্তান, তুমি শুধু মাটির দেহ নও,
তুমি আমানতবাহী—এই সত্য জানো।
তোমার হাতে ন্যায়-অন্যায়, আলো ও আঁধার,
তোমার সিদ্ধান্তে গড়ে উঠে ইতিহাসের ধারা।
খিলাফত মানে দম্ভ নয়, শাসন নয় একা,
খিলাফত মানে ন্যায় কায়েম, অহংকার ফাঁকা।
ফাসাদ নয়, ইবাদাতে শক্ত হয় সে আসন,
তাকওয়াই মুকুট তোমার, সংযমই শাসন।
যে জ্ঞান দিলেন রব, তা যেন হয় কল্যাণ,
যে শক্তি দিলেন রব, তা যেন হয় আমান।
ভূমি কাঁদবে না যেন, আকাশ না হয় ভার,
মানুষের হাতে যেন না লাঞ্ছিত হয় স্রষ্টার উপহার।
১
১ মন্তব্য