Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৬:০৮ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র শবে মেরাজ বা লাইলাতুল মিরাজ

পবিত্র শবে মেরাজ বা লাইলাতুল মেরাজ হলো রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ ও আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের অলৌকিক ঘটনা । এই রাতে রাসূল (সা.) মক্কা থেকে জেরুজালেমের বাইতুল মুকাদ্দাস ও পরে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে ৫ ওয়াক্ত নামাজ উপহার নিয়ে আসেন, যা ইসলামের অন্যতম প্রধান ফরজ ইবাদত। 

শবে মেরাজের বিস্তারিত ঘটনা:

সময়কাল: নবুয়তের ১১তম বছরের (৬২১ খ্রিষ্টাব্দ) ২৬শে রজব রাতে এই ঘটনা ঘটে, যখন রাসূল (সা.)-এর বয়স ছিল ৫১ বছর।

ইসরা ও মেরাজ: মক্কার পবিত্র কাবা (মসজিদুল হারাম) থেকে ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণকে 'ইসরা' এবং সেখান থেকে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণকে 'মেরাজ' বলা হয়।

বাহন: এই সফরে রাসূল (সা.) জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে 'বোরাক' নামক বাহনে আরোহণ করেন।

সাক্ষাৎ: মেরাজ বা ঊর্ধ্বগমনের সময় রাসূল (সা.) সাত আসমানের বিভিন্ন স্তরে পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সর্বশেষে 'সিদরাতুল মুনতাহা' পেরিয়ে আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথন করেন।

উপহার (নামাজ): এই রাতেই উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য প্রতিদিন ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছিল, যা পরে রাসূল (সা.)-এর অনুরোধে কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত করা হয়, কিন্তু সওয়াব ৫০ ওয়াক্তের-ই থাকে। 

শবে মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য:

ঈমানের পরীক্ষা: এই অলৌকিক ঘটনাটি ছিল কাফেরদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং মুমিনদের জন্য অটল বিশ্বাসের স্মারক।

সালাতের সূচনা: মুসলমানদের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এই রাতে ফরজ করা হয়।

নবীজির শ্রেষ্ঠত্ব: বাইতুল মুকাদ্দাসে সকল নবী রাসূল (সা.)-এর পিছনে নামাজ পড়েছিলেন, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।

আমল ও ইবাদত:

শবে মেরাজ উপলক্ষে কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্ধারিত কোনো বিশেষ নফল নামাজ বা রোজার বিধান নেই।

তবে এটি একটি বরকতময় রাত হওয়ায় সাধারণ নফল ইবাদত, জিকির, আজকার এবং কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। 

ইসলামের ইতিহাসে মেরাজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অলৌকিক ঘটনা, যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের প্রতীক। 

মন্তব্য করুন